মাল্টি মিলিয়ন ডলারের অপরাধ জগত সাইবারক্রাইম। এসব অপরাধের শিকার করপোরেট থেকে শুরু করে ব্যক্তি পর্যন্ত। হ্যাকিংয়ের শিকার হয়ে বহু মানুষ নানাভাবে বিপদগ্রস্ত। এ থেকে বাঁচতে পরামর্শ নিয়ে এগিয়ে আসেন বিশেষজ্ঞরা। ডুয়ো সিকিউরিটি নামের এক গবেষণাগারের বিশেষজ্ঞ কাইলি লেডি।

১. পাসওয়ার্ডটা কঠিন করার পরামর্শ সবাই দেন। কিন্তু এবার এমন একটি পাসওয়ার্ড ঠিক করুন যাতে ১৪টি ক্যারেক্টার থাকবে। অর্থাৎ ১৪ ডিজিটের পাসওয়ার্ড হবে এবং তা যেন কোথাও লিখিত আকারে না থাকে। অর্থাৎ বিশেষ কোনো শব্দ ইত্যাদি ব্যবহার করা যাবে না। মনে রাখবেন, পাসওয়ার্ড বিশ্বের যেকোনো ডিকশনারিতে যদি খুঁজে পাওয়া যায়, তবে আপনি সহজেই হ্যাকড হবেন। ছোট ও বড় হাতের অক্ষর, নম্বর এবং বিশেষ চিহ্ন ব্যবহারে যে পাসওয়ার্ড বানানো হয় তা বের করা সাইবার অপরাধীদের জন্যে অনেক কঠিন।

২. একেক অ্যাকাউন্টে একেক ধরনের পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা প্রয়োজন। এত পাসওয়ার্ড মনে রাখাটাও বেশ দুরূহ বিষয়। এ জন্যে পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করা উচিত। লাস্টপাস বা ১পাসওয়ার্ড-এর মতো অ্যাপ নিরাপদে আপনার যাবতীয় পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করবে। ইমেইল থেকে শুরু করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত সব কিছুর পাসওয়ার্ড এতেই সংরক্ষণ করতে পারবেন। অ্যাপগুলো যেকোনো পাসওয়ার্ড জেনারেট করতে পারে অনায়াসে। এগুলো এনক্রিপ্ট করে ফাইলে রেখে দেয়। তাই অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে বার বার লেখতে হয় না। তবে অ্যাপে একটি মারাত্মক কঠিন মাস্টার পাসওয়ার্ড দিতে হবে।

৩. অনেক অ্যাকাউন্টে দুই স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকে। এতে পাসওয়ার্ড হ্যাকড হলেও সমস্যা হয় না। পাসওয়ার্ডের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই স্তরের ব্যবস্থা দারুণ এক পদ্ধতি। সাধারণত এ পদ্ধতিতে ব্যবহারকারীর প্রথমে একটি পাসওয়ার্ড দেন। এরপর দ্বিতীয় স্তরে একটি কোড আসে টেক্সট মেসেজ আকারে। ওটা ব্যবহার করে অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করেন। দুঃখজনক বিষয় হলো, এ পদ্ধতি অধিকাংশ মানুষ ব্যবহার করেন না কেবলমাত্র অলসতার জন্য। ফেসবুক, জিমেইল, স্ন্যাপচ্যাট, টুইটারের মতো অনেক সাইটে এ সুবিধা রয়েছে।

৪. বিশেষ কিছু ইমেইল বা লিঙ্ক বা ফোন কলের বিষয়ে সতর্ক থাকুন। ৯১ শতাংশ সাইবার আক্রমণ আসে ‘স্পিয়ার-ফিশিং’ ইমেইলের মাধ্যমে। এর মাধ্যমে টার্গেটকে একটি লিঙ্কে ক্লিক করতে উৎসাহী করা হয়। এতে ক্লিক করামাত্র কোনো ম্যালওয়্যার ডাউনলোড হয় অথবা পাসওয়ার্ড অপরাধীদের হাতে চলে যায়। আবার এমন ইমেইল আসে যে, আপনার পেপল অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাসওয়ার্ডটি আপডেট করুন। এর জন্যে একটি লিঙ্ক দেওয়া থাকবে। ওটাতে ক্লিক করা মানে আপনার পাসওয়ার্ড অপরাধীদের হাতে দিয়ে দেওয়া। এ ধরনের সন্দেহজনক ফোন কলও আসতে পারে। এসব বিষয়ে সাবধান থাকতে হবে।

– See more at: http://www.kalerkantho.com/online/info-tech/2016/02/03/320668#sthash.n6dq2yST.dpuf

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here