হেফাজতে ইসলাম গঠিত হয় ২০১০ এর মাঝামাঝি কোন এক সময়ে। হাটহাজারী মাদ্রাসা কে কেন্দ্র করে অনেকটা আঞ্চলিকভাবেই শুরু হয় তার কার্যক্রম। তখনও জাতীয়ভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলার সিংহ পুরুষ আল্লামা মুফতি ফজলুল হক আমিনী রহ.। ১২,১২,২০১২ আল্লামা মুফতি আমিনী রহ- এর আকস্মিক বিদায়ের পর শাহবাগকেন্দ্রিক গণজাগরণ মঞ্চের উদ্ভব হলে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে জাতি। ওলামায়ে কেরাম ও সচেতন মহল শরণাপন্ন হোন আল্লামা আহমদ শফীর।

হাটহাজারীতে অনুষ্ঠিত এক ওলামা সম্মেলনে সিদ্ধান্ত হয় হেফাজতের ব্যানারে আল্লামা আহমদ শফীর নেতৃত্বে নাস্তিক বিরোধী আন্দোলনের। প্রণয়ন করা হয় ১৩দফা। সেই থেকেই আলোচনায় আসে হেফাজত ও হেফাজতের নেতৃত্ব।

আমার দেখা মতে শুরু কাল থেকে হেফাজতের যতগুলো সিদ্ধান্ত এসেছে, এর প্রত্যেকটাই ছিল পরামর্শ ভিত্তিক। কোন একটা সিদ্ধান্ত আল্লামা আহমদ শফী নিজ থেকে দেননি। ওলামায়ে কেরাম একত্রিত হয়ে পরামর্শ করে কোন সিদ্ধান্ত নিয়ে আল্লামা শফীর সামনে উপস্থাপন করলে তিনি তাতে সম্মতি দিতেন।

হেফাজত হঠাৎ করে জাতীয় আন্দোলনে মুখ্য হয়ে উঠলেও আন্দোলনের চেইন অফ কমান্ড রক্ষায় বড় বেগ পেতে হয়েছে তাকে। যেহেতু সারা দেশে আগে থেকে কমিটি কিংবা কোনো বডি ছিল না, সেহেতু কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তৃণমূল নেতাদের যোগাযোগটা ছিল দুর্বল। তড়িঘড়ি করে জেলা কমিটিগুলো করা হলেও এতে ছিল নানা দল নানা মতের মানুষ।

শাপলা চত্বরে ক্র্যাকডাউনের পর লন্ডভন্ড হয়ে যায় হেফাজতের নেতৃত্ব। আল্লামা আহমদ শফী লালবাগে অবস্থান করলেও খোঁজ মেলেনি ঢাকার অধিকাংশ নেতার। আল্লামা আহমদ শফী বাধ্য হয়েই চলে যান চট্টগ্রামে।

এদিকে ঢাকাকেন্দ্রিক হেফাজতের নেতৃত্ব সরকারের নির্যাতন ও নিপীড়নের মুখে বিক্ষিপ্ত ও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। জীবন বাঁচাতে প্রত্যেক নেতা নিজের মত করে রাস্তা তৈরি করে নেয়।

একদিকে নেতৃত্তের বিক্ষিপ্ততা অন্যদিকে নিহতদের পরিবারগুলোর নিঃশব্দ কান্না আর হাসপাতলে প্রকাশ্যে চিকিৎসা নিতে না পারা আহতদের গগনবিদারী ফরিয়াদ। কত জন জেলে আছে সেই খবরটুকু নেওয়ার সুযোগও ছিল না তখন।

পরিস্থিতি বিবেচনা করেই আল্লামা আহমদ শফী হেফাজতের নেতৃত্ব থেকে সরে যেতে চেয়েছিলেন। দীর্ঘদিন পর বৈঠক হয় বাবুনগর মাদ্রাসায়। সেই বৈঠকে উপস্থিত সারাদেশ থেকে জমায়েত হওয়া ওলামায়ে কেরামের অনুরোধে হেফাজতের নেতৃত্বে থেকে যান আল্লামা আহমদ শফী।

তিনি কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন। নিরেট দরবেশ আল্লাহওয়ালা ও বুজুর্গ ব্যক্তিত্ব। তার কথা সাদামাটা। ওলামায়ে কেরাম ঐক্যবদ্ধভাবে চেয়েছিলেন বলেই তিনি হেফাজতের নেতৃত্ব দিয়েছেন। আজ উলামাদের মাঝে নানা বিভক্তি বলেই তার নেতৃত্ব দুর্বল মনে হচ্ছে। বিদায় আল্লামা শফীকে আঘাত করে কারো ফায়দা হবে না, কেউ লাভবান হতে পারবে না তা থেকে; বরং ধৈর্য ধরুন সময় পাল্টাবে, পরিস্থিতি পাল্টে যাবে। সব কিছুই ঠিক হয়ে যাবে, ইনশাল্লাহ!

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here