ওয়ালি উল্লাহ আরমান, সমাজচিন্তক ও লেখক


বাংলাদেশে নির্বাচন ঘনিয়ে আসলে রাজনীতিবিদদের নতুন নতুন রূপ দেশ জাতির সামনে উন্মোচিত হয় ৷ নানাভাবে প্রার্থীরা কিংবা তাদের দল ভোটারের মন জয় করতে চেষ্টা করেন ৷ কিছু থাকে কাল্পনিক ওয়াদা-অঙ্গীকার ৷ অতীতের ব্যর্থতার স্বীকৃতি, ভবিষ্যৎ সফলতার দৃঢ় প্রতিজ্ঞাসহ অনেক কিছু মিলিয়ে ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা করেন প্রার্থীরা।

বিশেষত যারা নির্বাচিত হওয়ার পর পাঁচটি বছর সেক্যুলারিজম তথা ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ইসলামের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান নেন অথবা যারা বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের অপ্রয়োজনীয় প্রমাণ করে সংখ্যালঘুদের মন জয়ের জন্য নিজেকে চরম ও পরম সেক্যুলার প্রমাণে শশব্যস্ত হয়ে পড়েন, সেই তারাও নির্বাচনের মুহূর্তে শরীরে সাদা পাঞ্জাবি মাথায় টুপি পরে নিজেকে পাক্কা মুসলমান প্রমাণে আদা জল খেয়ে নামেন। চমৎকার সব স্লোগান দেন “আমরা ক্ষমতায় গেলে ইসলাম বিরোধী কোন আইন করবো না” “আমরা মুসলমানদের জন্য এই করেছি, সেই করেছি” “আমরা এতগুলো মাদ্রাসা-মসজিদের উন্নয়ন করেছি” “আমরা ইমাম-মোয়াজ্জিনদের জন্য এই করেছি, সেই করব।”
পাবলিক সব কিছু বুঝলেও মুখ না খুলে চুপচাপ তামাশা দেখতে থাকে।

এবারের নির্বাচন কেন্দ্রিক আজ হঠাৎ করে এমন এক দৃশ্য আমাদের সামনে আসলো যা কোনো ইসলামী রাজনীতিক কিংবা আলেমেদ্বীনের কাছ থেকে শুধু অনাকাঙ্ক্ষিতই নয় কল্পনারও অতীত ! জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনে ২০ দলীয় জোট এবং জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী মুফতী মনির হোসাইন কাসেমী নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর জমিয়ত নেতাদেরকে নিয়ে খালি পায়ে নারায়ণগঞ্জ শহীদ মিনারে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে ফুলের তোড়া দিয়ে সম্মাননা স্তবক অর্পণ করেছেন। এমন ঘটনা এই ভূখণ্ডে গত ৪৭ বছরে কোন কওমি আলেমের দ্বারা সংঘটিত হয়নি। কোন ইসলামী সংগঠন দুঃস্বপ্নেও এমনটি করার কথা ভাবেনি।

ওলামায়ে কেরাম সব সময় স্পষ্ট কন্ঠে নানা রকম আইনি হুমকি তুচ্ছ করেই বলে থাকেন “শহীদদের স্মরণে শহীদ মিনারে যাওয়া কিংবা ফুল দিয়ে সম্মান জানানো ইসলাম বিরুদ্ধ কাজ। আমরা শহীদদের স্মরণ করব, তাদের জন্য দোয়া করব, তাদের অবদানের কথা আমাদের প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরকে জানাব। এই ভূখণ্ডের স্বাধিকারের জন্য পূর্বসূরিদের ত্যাগ-তিতিক্ষা আর রক্তঝরা ইতিহাস আমরা আমাদের বুকে লালন করব, কিন্তু তাদের স্মরণে শহীদ মিনারে ফুলের তোড়া দেওয়াটা ইসলাম সমর্থন করে না। সে কারণে আমরা এটা বর্জন করার কথা বলি।”

কিন্তু মনেপ্রাণে প্রবল ঘৃণা পোষণ করা সত্ত্বেও প্রচলিত গণতান্ত্রিক পন্থায় রাজনীতি চর্চা এবং নির্বাচনের কারণে কিভাবে কিভাবে যেনো আমরা আমাদের মৌলিক আদর্শ, আমাদের স্বাতন্ত্র্য মর্যাদাবোধ, আমাদের আপোষহীন মনোভাব বিসর্জন দিচ্ছি কিংবা বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

বিশেষত আজ একজন দেওবন্দী আলেম এবং দেওবন্দী আদর্শ ও আকীদা-বিশ্বাসের উত্তরাধিকারী একটি ইসলামী সংগঠনের নেতা সেক্যুলারদের কায়দায় শহীদ মিনারে খালি পায়ে ফুল দিয়ে সম্মাননা প্রদর্শনের যে নজির স্থাপন করলেন, জানি না এই ঘটনা আগামীতে এই দেশের আলেম-ওলামা, ইসলাম মুসলমান এবং ইসলামী রাজনীতির জন্য কোন কোন অকল্যাণ আর অনিষ্টের দুয়ার খুলে দেয়??

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here