কোরআনে উল্লেখিত তামাসিলা ও আসনাম
বনাম ভাস্কর্য ও মূর্তি নিয়ে বিতর্কের অবসান

আমরা সকলেই জানি যে, পবিত্র কোরআনের সুরা সাবা’র ১৩ নম্বর আয়াতে বর্ণিত ‘তামাসিলা’ শব্দের বিকৃত ব্যাখ্যা করে ইতিমধ্যে সব ধরনের ভাস্কর্য বৈধ প্রমাণের অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে একটি মহল। তারা বলতে চাইছে, “তামাসিলা অর্থাৎ ভাস্কর্যের কথা কোরআনে আছে এবং কুরআনে কারীমে মূর্তি বুঝাতে আসনাম শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। সুতরাং ভাস্কর্য ও মূর্তি এক নয়।”

এমতাবস্থায় সাধারণ মুসলমানের ঈমান হেফাজতের জন্য শব্দদ্বয়ের যথাযথ ব্যাখ্যা উপস্থাপনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি।

পবিত্র কুরআনে উল্লেখিত সূরা সাবা’র ১৩ নং আয়াত হচ্ছে-
يَعْمَلُونَ لَهُ مَا يَشَاءُ مِن مَّحَارِيبَ وَتَمَاثِيلَ وَجِفَانٍ كَالْجَوَابِ وَقُدُورٍ رَّاسِيَاتٍ
“তারা তাঁর (সুলাইমান আ. এর) ইচ্ছানুযায়ী মেহরাব, প্রতিকৃতি বা ভাস্কর্য , হাউযসদৃশ বৃহদাকার পাত্র এবং চুল্লির উপর স্থাপিত বিশাল ডেগ নির্মাণ করত…।”

কতিপয় জ্ঞানপ্রতিবন্ধি এ আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে বলছেন, ভাস্কর্য হলো মানুষসহ কোন প্রাণী বা কোনো কিছুর প্রতিকৃতি যাকে মানুষ রাখে সম্মান দেখাতে বা সৌন্দর্যবর্ধন করতে, যার আরাধনা বা উপাসনা করা হয় না।

অথচ পবিত্র কোরআনে সূরা আল আম্বিয়া ৫২ নম্বর আয়াতে তামাসিলা বলতে এমন কিছু কে বোঝানো হয়েছে মানুষ যার পূজা করত। এরশাদ হয়েছে-
إِذْ قَالَ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِ مَا هَٰذِهِ التَّمَاثِيلُ الَّتِي أَنتُمْ لَهَا عَاكِفُونَ

“যখন তিনি তাঁর পিতা ও তার সম্প্রদায়কে বললেন, এই মূর্তিগুলো কী? যাদের তোমরা পূজারী হয়ে বসে আছো।”

উক্ত আয়াতে তামাসিলা শব্দটি মূর্তির অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
একাধিক হাদীসেও তামাসিলা শব্দটি মূর্তি বা প্রতিমা বুঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন-
عَنْ أَبِي الْهَيَّاجِ الْأَسَدِيِّ ، قَالَ : قَالَ لِي عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ : أَلَا أَبْعَثُكَ عَلَى مَا بَعَثَنِي عَلَيْهِ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ؟ أَنْ لَا تَدَعَ تِمْثَالًا إِلَّا طَمَسْتَهُ ، وَلَا قَبْرًا مُشْرِفًا إِلَّا سَوَّيْتَهُ‏.‏
আবুল হাইয়ায আল-আসাদী রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- একদা হযরত আলী রা. আমাকে বললেন, আমি কি তোমাকে এমন কাজে প্রেরণ করবো যে কাজে আমাকে রাসুলুল্লাহ সা. পাঠিয়েছিলেন? তা হলো, কোন মূর্তি দেখলে চূর্ণ-বির্চূন না করা ব্যতীত এবং কোন উঁচু কবর দেখলে তা সমতল না করে নিভৃত হবে না। -মুসলিম শরীফ-৯৬৯
ابْن عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ أَخْبَرَنِيْ أَبُوْ طَلْحَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ صَاحِبُ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَكَانَ قَدْ شَهِدَ بَدْرًا مَعَ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ لَا تَدْخُلُ الْمَلَائِكَةُ بَيْتًا فِيْهِ كَلْبٌ وَلَا صُوْرَةٌ يُرِيْدُ التَّمَاثِيْلَ الَّتِيْ فِيْهَا الْأَرْوَاحُ
ইব্‌নু আব্বাস রা. বলেন, রসূলুল্লাহ্‌ সা. -এর সঙ্গে বদ‌র যুদ্ধে যোগদানকারী সাহাবী আবূ ত্বল্‌হা রা. আমাকে জানিয়েছেন যে, রসূলুল্লাহ্‌ সা. বলেছেন, যে ঘরে কুকুর কিংবা ছবি থাকে সে ঘরে ফেরেশেতা প্রবেশ করেন না। ইব্‌নু আব্বাসের মতে ছবির অর্থ তামাসিলা বা প্রাণীর ছবি। বুখারী শরীফ (আ.প্র. ৩৭০৫, ই.ফা. ৩৭০৯)
—-
উপরের আলোচনা পড়ে মূর্তিবাদীদের কেউ বলতে পারে, তাহলে তো ভাস্কর্য এবং মূর্তি উভয়তই বৈধ। কেননা, সূরা সাবা’র ১৩ নম্বর আয়াতে আছে, হযরত সুলাইমান আ. এর ইচ্ছানুযায়ী জিনেরা ভাস্কর্য তৈরি করতেন। আর আপনারা বলছেন ভাস্কর্য ও মূর্তি এক।
তাদের ভ্রষ্টতা দূর করার জন্য আয়াতে উল্লেখিত তামাসিলা’র অর্থ ও হুকুম জানা প্রয়োজন।
উক্ত আয়াতে উল্লেখিত তামাসিলা’র অর্থ ও হুকুম নিয়ে মুফাসসিরদের মতামতকে সাধারণত দু’ভাগে ভাগ করা যায়।
১) তামাসিলা অর্থ ছবি, প্রতিকৃতি, অবয়ব, ভাস্কর্য যা সেই যুগে বৈধ ছিল।
২) অপ্রাণী ও জড়পদার্থের প্রতিকৃতি বা ভাস্কর্য যা সে যুগেও বৈধ ছিল, এখনো বৈধ।
এখন কেউ যদি ভাস্কর্য নির্মাণ বৈধ করতে চান তাকে সেই যুগে ফিরে যেতে হবে। অন্যথায় অপ্রাণী ও জড়পদার্থের ভাস্কর্য নির্মাণ করতে হবে। এ যুগে কোন প্রাণীর ভাস্কর্য নির্মাণ করে এ আয়াত দ্বারা বৈধতা প্রমাণের চেষ্টা করলে কোরআন বিকৃতি শামিল হবে, কোরআন শরীফের কয়েকটি আয়াত এবং অসংখ্য হাদীসকে অস্বিকার করা হবে। সেই সঙ্গে যার উপর পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে তার প্রতি এবং সাহাবায়ে কেরাম থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত লক্ষ লক্ষ আলেম মুহাদ্দিস ও মুফাসসিরদের প্রতি অনাস্থা প্রদর্শন হবে।
# মূর্তি ও প্রাণীর ভাস্কর্য অপবিত্র এবং শয়তানের কাজ। এরশাদ হয়েছে-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِّنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ.
“ঈমানদারগণ! তোমরা মদ, জুয়া, মূর্তি এবং ভাগ্য-নির্ধারক শরসমূহ এসব শয়তানের অপবিত্র কার্য বৈ অন্য কিছু নয়; এগুলো থেকে বেঁচে থাকো, যাতে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হও। সূরা মায়িদা-৯০
# মূর্তির অপবিত্রতা ও মিথ্যাকথন থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশ-
فَاجْتَنِبُوا الرِّجْسَ مِنَ الْأَوْثَانِ وَاجْتَنِبُوا قَوْلَ الزُّورِ.
তোমরা মূর্তিদের অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাকো এবং মিথ্যাকথন থেকে দূরে সরে থাকো। সূরা হজ্ব-৩০
মূর্তিপূজার সূচনা হয়েছিল স্মরণীয় করে রাখার উদ্দেশ্যে নির্মিত মূর্তি কিংবা ভাস্কর্য থেকেই। সুতরাং ভাস্কর্য বলা হোক কিংবা মূর্তি, পূজা করা হোক কিংবা না হোক, প্রাণীর কোন ধরনের প্রতিকৃতি তৈরি করা যাবে না। আমরা যখন এ কথা বলছি, তখন নাস্তিকদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হচ্ছে- তাহলে কি আগুন,পাথর ইত্যাদি ধ্বংস করে আপনারা পৃথিবী ধ্বংস করে দেবেন? কেননা, লোকেরা আগুন ও পাথরের পূজা করে। এখন আগুন ও পাথর থাকলে তো ধীরে ধীরে আবার আগুন ও পাথরের পূজা শুরু হবে। তাদের উদ্দেশ্য করে বলতে চাই, আগুন ও পাথর প্রয়োজনীয় জিনিস। পক্ষান্তরে মূর্তি নির্মাণ অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। তারপরেও যদি কোথাও আনুষ্ঠানিকভাবে আগুন কিংবা পাথরের পূজা করা হয় সে পাথর এবং সে আগুন সম্ভব হলে ধ্বংস করে দিতে হবে। অন্যথায় আগুন ও পাথর পূজারীদের শুধুমাত্র একত্ববাদের প্রতি দাওয়াত দিয়েই নিভৃত থাকতে হবে।
সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্রের কী করবেন? মানুষ তো একসময় এগুলোর পূজা করত।
—–
সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্রের পূজা করলে জাতির পিতা হযরত ইব্রাহিম আ. যে পদ্ধতিতে তার কওমকে নসিহত করেছেন এবং যুক্তিতর্কের মাধ্যমে পরাজিত করেছেন সে পদ্ধতি আমরা ফলো করবো। তবে সূর্য ও চন্দ্রের পূজা মূর্তি ভাস্কর্যের পূজার মত একইভাবে হয়না। মূর্তি ও ভাস্কর্য যেহেতু একেবারে সামনে রেখে সরাসরি পূজা করার প্রচলন আছে এবং এটিকে বিদূরিত করা সম্ভব সেহেতু মূর্তি ও ভাস্কর্য ধ্বংস করে এগুলোর পূজা বন্ধ করতে হবে।
যেসব হাদীস শরীফে প্রাণীর ভাস্কর্য সম্পর্কে পরিষ্কার বিধান এসেছে তার কয়েকটি নিম্নে উল্লেখ করা হলো-
১.
حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ مُسْلِمٍ، قَالَ كُنَّا مَعَ مَسْرُوقٍ فِي دَارِ يَسَارِ بْنِ نُمَيْرٍ، فَرَأَى فِي صُفَّتِهِ تَمَاثِيلَ فَقَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ “‏ إِنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَذَابًا عِنْدَ اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الْمُصَوِّرُونَ ‏”‏‏.‏
মুসলিম রহ. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা (একবার) মাসরূকের সাথে ইয়াসার ইবনু নুমাইরের ঘরে ছিলাম। মাসরূক ইয়াসারের ঘরের আঙিনায় কতগুলো মূর্তি দেখতে পেয়ে বললেন, আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ রা. থেকে শুনেছি এবং তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন যে, (ক্বিয়ামাতের দিন) মানুষের মধ্যে সব থেকে শক্ত শাস্তি হবে তাদের, যারা ছবি তৈরি করে। বুখারী শরীফ- ৫৯৫০
২.
حَدَّثَنَا مُوسَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، حَدَّثَنَا عُمَارَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو زُرْعَةَ، قَالَ دَخَلْتُ مَعَ أَبِي هُرَيْرَةَ دَارًا بِالْمَدِينَةِ فَرَأَى أَعْلاَهَا مُصَوِّرًا يُصَوِّرُ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ “‏ وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ ذَهَبَ يَخْلُقُ كَخَلْقِي، فَلْيَخْلُقُوا حَبَّةً، وَلْيَخْلُقُوا ذَرَّةً
আবূ যুরআ রহ. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ হুরাইরা রা. -এর সাথে মদিনার এক ঘরে প্রবেশ করি। ঘরের উপরে এক ছবি নির্মাতাকে তিনি ছবি তৈরী করতে দেখলেন। তিনি বললেন- আমি রাসূলুল্লাহ সা. কে বলতে শুনেছি- (আল্লাহ বলেছেন) ঐ ব্যক্তির চেয়ে বেশি অত্যাচারী আর কে, যে আমার সৃষ্টি সদৃশ কোন কিছু সৃষ্টি করতে যায়? তা হলে তারা একটি দানা সৃষ্টি করুক অথবা একটি অণু পরিমাণ কণা সৃষ্টি করুক।বুখারী-৫৯৫৩
৩.
حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِنَّ أَصْحَابَ هَذِهِ الصُّوَرِ يُعَذَّبُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَيُقَالُ لَهُمْ أَحْيُوا مَا خَلَقْتُمْ
ইবনু উমার রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল সা. বলেছেন- এসব ছবি নির্মাতাদেরকে ক্বিয়ামাতের দিন শাস্তি দেয়া হবে। তাদেরকে বলা হবে, যা তোমরা সৃষ্টি করেছ, তাকে জীবিত কর। বুখারী- ৭৫৫৮
৪.
حَدَّثَنَا عَيَّاشُ بْنُ الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، قَالَ سَمِعْتُ النَّضْرَ بْنَ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، يُحَدِّثُ قَتَادَةَ قَالَ كُنْتُ عِنْدَ ابْنِ عَبَّاسٍ وَهُمْ يَسْأَلُونَهُ وَلاَ يَذْكُرُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى سُئِلَ فَقَالَ سَمِعْتُ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ “‏ مَنْ صَوَّرَ صُورَةً فِي الدُّنْيَا كُلِّفَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَنْ يَنْفُخَ فِيهَا الرُّوحَ، وَلَيْسَ بِنَافِخٍ ‏”‏‏.‏
হযরত ক্বাতাদাহ রহ. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘আব্বাস রা. -এর নিকট ছিলাম। আর লোকজন তাঁর কাছে নানান কথা জিজ্ঞেস করছিল। কিন্তু জবাবে তিনি নবী সা. এর (হাদীস) উল্লেখ করছিলেন না। অবশেষে তাঁকে ছবির ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলো, তিনি বললেন- আমি মুহাম্মাদ সা.-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি দুনিয়ায় কোন প্রাণীর ছবি তৈরি করে, ক্বিয়ামাতের দিন তাকে কঠোরভাবে হুকুম দেয়া হবে ঐ ছবির মধ্যে জীবন দান করার জন্যে। কিন্তু সে জীবন দান করতে পারবে না। বুখারী-৫৯৬৩
৫.
أَرْسَلَنِي بِصِلَةِ الأَرْحَامِ وَكَسْرِ الأَوْثَانِ وَأَنْ يُوَحَّدَ اللَّهُ لاَ يُشْرَكُ بِهِ شَىْءٌ
রাসুল সা. বলেন- তিনি আমাকে আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখতে, মূর্তিসমূহ চূর্ণ-বিচূর্ণ করতে, আল্লাহ এক বলে- ঘোষণা করতে এবং তার সাথে কোন কিছু শারীক না করতে পাঠিয়েছেন। মুসলিম- ১৮১৫
৬.
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ أَبِي الْهَيَّاجِ الأَسَدِيِّ قَالَ قَالَ لِي عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ أَلاَّ أَبْعَثُكَ عَلَى مَا بَعَثَنِي عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ لاَ تَدَعَ تِمْثَالاً إِلاَّ طَمَسْتَهُ وَلاَ قَبْرًا مُشْرِفًا إِلاَّ سَوَّيْتَهُ
আবুল হাইয়্যাজ আল আসাদী রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী রা. বলেন, আমি কি তোমাকে এমন কাজে পাঠাব না, যে কাজে রসূলুল্লাহ সা. আমাকে পাঠিয়েছিলেন? তা হচ্ছে কোন (জীবের) প্রতিকৃতি বা ছবি দেখলে তা চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিবে এবং কোন উঁচু কবর দেখলে তা ভেঙ্গে ফেলবে। মুসলিম-৯৬৯
৭.
عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ أَنَّ أُمَّ حَبِيبَةَ وَأُمَّ سَلَمَةَ ذَكَرَتَا كَنِيسَةً رَأَيْنَهَا بِالْحَبَشَةِ فِيهَا تَصَاوِيرُ فَذَكَرَتَا لِلنَّبِيِّ فَقَالَ إِنَّ أُولَئِكَ إِذَا كَانَ فِيهِمْ الرَّجُلُ الصَّالِحُ فَمَاتَ بَنَوْا عَلَى قَبْرِهِ مَسْجِدًا وَصَوَّرُوا فِيهِ تِلْكَ الصُّوَرَ فَأُولَئِكَ شِرَارُ الْخَلْقِ عِنْدَ اللهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ.
আয়িশাহ রাযি. হতে বর্ণিত যে, উম্মু হাবীবাহ ও উম্মু সালামাহ রাযি. হাবশায় তাঁদের দেখা একটা গির্জার কথা বলেছিলেন, যাতে বেশ কিছু মূর্তি ছিল। তাঁরা উভয়ে বিষয়টি নবী সা. -এর নিকট বর্ণনা করলেন। তিনি ইরশাদ করলেন- তাদের অবস্থা ছিল এমন যে, কোন সৎ লোক মারা গেলে তারা তার কবরের উপর মাসজিদ বানাতো। আর তার ভিতরে ঐ লোকের মূর্তি তৈরি করে রাখতো। কিয়ামাত দিবসে তারাই আল্লাহর নিকট সবচাইতে নিকৃষ্ট সৃষ্টজীব বলে পরিগণিত হবে। বুখারী-১৩৪১
৮.
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيْمُ بْنُ مُوْسَى أَخْبَرَنَا هِشَامٌ عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ أَيُّوْبَ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَمَّا رَأَى الصُّوَرَ فِي الْبَيْتِ لَمْ يَدْخُلْ حَتَّى أَمَرَ بِهَا فَمُحِيَتْ
ইবনু আববাস রা. হতে বর্ণিত। নবী সা. যখন কা‘বা ঘরে ছবিগুলো দেখতে পেলেন, তখন যে পর্যন্ত তাঁর নির্দেশে তা মিটিয়ে ফেলা না হলো, সে পর্যন্ত তিনি তাতে প্রবেশ করলেন না। বুখারী-৩৩৫২

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here