বাহাউদ্দীন কবীর : মুসলিমদের ওয়াকফ সম্পত্তিতে বসে খায় হিন্দুরা আর মুসলিম তোষণের মিথ্যা গুজব রটায়। প্রিয় পাঠক! আপনারা জানেন কি? কলকাতার বুকে নিম্নলিখিত সম্পত্তিগুলো হলো আসলে মুসলমানদের ওয়াকফ সম্পত্তি –

১। ফোর্ট উইলিয়ামস

২। রাজ ভবন

৩। আকাশবাণী ভবন

৪। কলকাতা ময়দান

৫। ইডেন গার্ডেনস

৬। মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাব

৭। ইস্টবেঙ্গল ক্লাব

৮। মোহনবাগান ক্লাব

অবাক হবেন না, এটা বাস্তব। তবে জেনে আরও অবাক হতে পারেন যে খাস কলকাতার বুকে ২৫৫৫ বিঘার বিপুল পরিমাণ প্রিমিয়াম প্রোপার্টির জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার মাসে মাত্র ১৫৯ টাকা ভাড়া দিত এবং সেটা ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত। তারপর থেকে কোন ভাড়া দেয় নি।

বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার নবাব আলিবর্দি খান এই সম্পত্তি ওয়াকফ করেন পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে প্রাচীন মাদ্রাসা হুগলীর সীতাপুর মাদ্রাসা ও সংলগ্ন মসজিদের খরচ চালানো ও রক্ষনাবেক্ষণ করার জন্য।

অথচ সেই সম্পত্তি জবরদখল করে আছে হিন্দুরা!

শুধু পশ্চিমবঙ্গেই আছে ১,৭০,০০০ একর রেকর্ডকৃত ওয়াকফ সম্পত্তি এবং কলকাতার বুকে আছে ১,২৭৩ একর ওয়াকফ সম্পত্তি।

বলাই বাহুল্য যে এই সমস্ত সম্পত্তির সিংহভাগ দখল করে বসে আছে হিন্দুরা। গত জুলাই মাসে একটি সংবাদ দেখলাম যে জলপাইগুড়িতে ওয়াকফ সম্পত্তিতে বিজেপি চারতলা দলীয় অফিস নির্মাণ করছে।

সাচার কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ওয়াকফ সম্পত্তি রয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ৪৮ হাজার ২০০টি। যার মাত্র ২৩ হাজারের মতো সম্পত্তি রয়েছে ওয়াকফ বোর্ডের আওতায়। অর্থাৎ হদিছই নেই এমন সম্পত্তির পরিমাণ অনেক । কিন্তু যতটুকু সম্পত্তি ওয়াকফ বোর্ডের নজরদারিতে রয়েছে, তারই বা হাল কী! সবই লুটেপুটে খেয়ে চলেছে হিন্দুরা।

গোটা দেশে প্রায় ৬ লক্ষ একর ওয়াকফ জমি রয়েছে, যার বাজার দর কয়েক লক্ষ কোটি টাকা এবং প্রতিরক্ষা ও রেল মন্ত্রকের পরেই সব থেকে বেশি জমি ওয়াকফ বোর্ডের অধীনে রয়েছে। ওই জমি থেকে বছরে ১২ হাজার কোটি টাকা আয় হতে পারে। এই টাকায় মুসলিম ছেলে মেয়েদের পড়াশোনার সমস্ত খরচ বহন করা যেতে পারে।

ওয়াকফ সম্পত্তি হল একটি হারানো মুসলিম ঐতিহ্য

মুসলিম ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে আছে এই ‘ওয়াকফ’ সম্পত্তি। ওয়াকফ কথাটির অর্থ হলো সম্পত্তি থেকে আয়কৃত অর্থকে পবিত্র ভাবে উত্‍সর্গ করা কোনো মুসলমান কর্তৃক ধর্মীয়, পবিত্র বা দাতব্য কাজের উদ্দেশ্যে তার স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি স্থায়ী ভাবে উৎসর্গ করাকে বুঝায় ৷

এই প্রসঙ্গে শাহ আবদুল হান্নান সাহেব বলেন-

“ ইসলামের শুরুতেই ওয়াকফ শুরু হয়। প্রথম থেকেই মুসলমানদের স্বভাব ছিল তাদের সম্পত্তির একটা অংশ তারা আল্লাহর পথে দিয়ে যেতেন। এই সম্পদ কিভাবে ব্যয় হবে তা-ও বলে দিতেন। যেমন এর মাধ্যমে সেখানে সরাইখানা করা হতো যেখানে পর্যটকেরা থাকতে পারতেন। যারা মুসাফির হয়ে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতেন তারা থাকতে পারতেন। সে সময় বহু হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছিল। সেসব ছোট-বড়-মাঝারি বিভিন্ন আকারে হয়েছিল। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় সব কিছুই ওয়াকফের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। ওয়াকফের ফান্ড থেকে ছাত্রবৃত্তির ব্যবস্থা চালু ছিল। সমাজের যত এতিম ছিল তাদের জন্য ওয়াকফের মাধ্যমে এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করা হতো। সমাজের দুস্থ শ্রেণীর শিশুদের জন্য একটি পূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থা এবং তাদের ভরণপোষণের সব রকম ব্যবস্থা এই ওয়াকফ ফান্ড থেকে করা হতো।”

(শাহ্ আবদুল হান্নান, একটি নতুন ওয়াকফ আন্দোলন প্রয়োজন, আইএমবিডি ব্লগ, ১১ আগষ্ট ২০১৪ )।

ভারতের প্রতিটি রাজ্যেই আছে হাজার হাজার একর ওয়াকফ সম্পত্তি যা জবর দখল করে রেখেছে হিন্দুরা। ওই সম্পত্তি সঠিকভাবে বণ্টন হলে ভারতে রাজার হালে থাকতো মুসলিমরা। ভারতে অনেক রাজনৈতিক দল ও সরকার এসেছে ও গিয়েছে, কিন্তু এই অন্যায় এর সমাধান কেউ করার চেষ্টা করে নি।

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here