বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা শাহ্ আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী হুজুর বলেছেন, দেশে আজ চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে, দেশের জনগনের ভোটাধিকার ও নাগরিকাধিকার নেই। খুন রাহাজানি জুলুম নির্যাতনে জনজীবন অতিষ্ঠ। দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দিয়ে স্বাভাবিক পরিবেশ সৃষ্টি করা সরকারের দায়িত্ব। সরকার জনগণের ভোটারাধিকার দিতে ব্যার্থ হলে জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের অধিকার আদায় করে নিবে। তিনি আরও বলেন, হযরত হাফেজ্জী হুজুর (রহ.) নীতির প্রশ্নে আপোষহীন ছিলেন। এরশাদ ক্ষমতা গ্রহন করার পর কাজী জাফর আহমদসহ তৎকালীন ১৫ দলের প্রতিনিধিরা হাফেজ্জী হুজুর (রহ.) এর সাথে দেখা করে তাঁর নেতৃত্বে আন্দোলন করার প্রস্তাব করেন। হাফেজ্জী হুজুর (রহ.) তাদেরকে বলেছিলেন আগে নীতি মানুন পরে নেতৃত্ব। কিন্তু ১৫দলের প্রতিনিধিরা নীতির বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত দিতে না পারায় তিনি নেতৃত্ব গ্রহন করেননি। মাওলানা শাহ আতাউল্লাহ বলেন, বর্তমান রাজনীতির প্রেক্ষাপটে ইসলামী দলগুলো এবং ওলামায়ে আকরাম ঐক্যবদ্ধ হলে সংসদে যাওয়ার বিষয়ে আল্লাহ কামিয়াবী দান করবেন।তিনি বলেন একাদশ নির্বাচনকে সামনে রেখে সকল ইসলামী দলের নেতৃবৃন্দকে এক মঞ্চে আনার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন। ঐক্য প্রতিষ্ঠা না হলে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য হাফেজ্জী হুজুর (রহ.) এর খেলাফত আন্দোলন তার অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখবে। ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠা ছাড়া জনগনের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভভ নয়।

আজ শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ঢাকা মহানগরীর সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও ঢাকা মহানগরীর আমীর মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদীর সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের আমীর মাওলানা ড. ঈসা শাহিদী, খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজি,দৈনিক ইনকিলাবের সহকারী সম্পাদক মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী, মুসলিমলিগের মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের, ইসলামী আন্দোলন ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগীর সভাপতি শেখ গোলাম আজগর, আলহাজ¦ আনিসুর রহমান জিন্নাহ, হাজী জালালউদ্দিন বকুল, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হান্নান আল হাদী,মুফতী সুলতান মহিউদ্দিন, মাওলানা ফিরোজ আশরাফী, মুফতী আব্দুর রহিম কাসেমী, মাওলানা মাহবুবুর রহমান, মুফতী মামুনুর রশীদ, এড. মো: লিটন চৌধুরী, মাওলানা সাইফুল ইসলাম, আলহাজ্জ আব্দুর রকিব,মুফতী ক্বারী সিদ্দিকুর রহমান ও হাফেজ জাকির বিল্লাহ প্রমুখ। পরিচালনা করেন মুফতী আফম আকরাম হোসাইন ও মুফতী নাঈম হোসাইন।

মাওলানা উবায়দুর খান নদভী বলেন, হাফেজ্জী হুজুর (রহ.) পশ্চিমা গণতন্ত্র পরিহারের কথা বলে গেছেন। মাওলানা নদভী একটি পরিসংখ্যানের উল্লেখ করে বলেন, এদেশের ৮৮% মানুষ খেলাফত স্টাইলে রাজনীতি চায়। মনমোহন সিংহ বলেছিলেন, ২৭% বাংলাদেশীর সাথে সম্পর্ক তৈরী সম্ভব নয়। আর এই ২৭% হল এদেশের কট্টর ইসলামী জনতা। তাই ২৭% ভোটের বিনিময়ে আগামী জাতীয় নির্বাচনে ৫০জন আলেমকে নমীনেশন দেয়ার জন্য বৃহৎ জোটগুলোর কাছে দাবি জানান। তিনি বলেন, মাওলানা শাহ আতাউল্লাহর নেতৃত্বে ইসলামী দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশে খেলাফত শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে হবে।
দলের মহাসচিব হাবিবুল্লাহ মিয়াজী বলেন, দুর্নীতি, দুঃশাসন ও অপরাধমুক্ত ন্যায় ও ইনসাফের সু-শাসনের জন্য ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা মজিবুর রহমান হামিদী বলেন, ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠা হলে সকল সমস্যার সমাধান হবে। তিনি বলেন, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। তিনি বলেন, লুটপাট ও দুর্নীতিতে নিমজ্জিত দেশ। দেশে পতাকা আছে স্বাধীনতা নেই।শিল্প আছে উৎপাদন নেই। বেকারত্ব বাড়ছে কর্ম সংস্থান নাই।এভাবে দেশ চলতে পারেনা।
ড. ঈসা শাহিদী বলেন, গণতন্ত্রের নামে স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠা মুসলমান এবং ইসলামি দলগুলোর জন্য ফরয হয়ে পড়েছে। কাজী আবুল খায়ের বলেন, ইসলামী দলগুলো বিভক্তির কারণে আলেমরা সংসদে যেতে পারে না। তাই সংসদে যেতে ইসলামী দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
-সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here