মুফতি জাকারিয়া হারুন !!

আলহাজ্ব ক্বারী আব্দুল গাফ্ফার হুজুর। সহস্রাধিক আলেমের প্রিয় উস্তাদ। অগণন মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন মহান রাব্বুল আলামিনের ঐশী বাণী। তাঁর চিন্তা ও মনন গড়ে উঠেছে পবিত্র কোরআন কেন্দ্রিক। তিনি নিখাদ কোরআন প্রেমিক।

গতকাল রাত আটটায় তিনি স্ট্রোক করেন। এখন শয্যাশায়ী। সবার কাছে দোয়া চেয়েছে তাঁর পরিবার।

কাপাসিয়া দারুল উলুম মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক। তাঁর জন্ম ১৯৪৬ সালে। বড়হড়া গ্রামে। ভওয়াল চাঁদপুর পো.অফিস। কালীগঞ্জ থানায়। বাবা আব্দুল মান্নান। মা আমেনা খাতুন। দুই ভাই এক বোনের মাঝে তিনি সর্বকনিষ্ঠ।

নোয়াপাড়া স্কুলে চাচা মাস্টার আব্দুস সোবহানের কাছে তাঁর লেখাপড়ার হাতেখড়ি। ক্লাস টু পর্যন্ত তিনি স্কুলে লেখা পড়া করেন। যে ছেলে একদিন পবিত্র কোরআনের পাখি হবে, তাঁর কি স্কুলে পড়া সাজায়!

শুরু হয় পবিত্র কোরআন শিক্ষার মিশন। ভর্তি হন কালীগঞ্জের জাঙ্গালিয়া মাদরাসায়। তাঁর শিক্ষক হিসেবে ছিলেন, মাওলানা সিরাজুদ্দিন রায়পুরী রহ.। জাঙ্গালিয়া মাদরাসা ও তাঁর বাড়ির মাঝে ব্যবধান ছিল বিশাল এক বিলের। যে বিল পাড়ি দিয়ে তাঁর মাদরাসায় যেতে হত। বিপদসঙ্কুল এ পথ তিনি কোন্দা দিয়ে পাড় হতেন। এতদ্বসত্ত্বেও ঐশী জ্ঞান শিক্ষার মিশন থেকে পিছপা হননি তিল পরিমাণ।

তারপর তিনি দিলের ব্যথা নির্বাপনের জন্য ভর্তি হন পুটান মাদরাসায়। এখানে তাঁর শিক্ষক ছিলেন, মাওলানা শফি উদ্দীন বিক্রমপুরী রহ.। তৎকালীন সময়ে তিনি অত্র মাদরাসার মোহতামিম ছিলেন। মাওলানা আব্দুল লতিফ নোয়াখালী রহ. ও ছিলেন তাঁর শিক্ষক। তিন-চার বছর তিনি অত্র মাদরাসায় অধ্যপনা করেন। বিছিন্নভাবে অল্প সময় ডেমরা ও বালুয়াভিটায় অধ্যপনা করেন।

পবিত্র কোরআন শিক্ষার চূড়ান্ত পড়াশুনা তিনি কুমিল্লা করোয়া মোমিনবাড়ি ফরিদগঞ্জে করেন। ক্বারী ইবরাহিম রহ. এর কাছে। পরীক্ষায় তিনি ১ম স্থান অধিকার করেন। ঈর্ষণীয় ফলাফল নিয়ে দেড় বছর ক্বারিয়ানায় অধ্যপনা করেন। আর্থিক অনটনের কারণে পড়াশুনা আর বেশিদূর এগোতে পারেনি।

উল্লেখযোগ্য ছাত্র, মাওলানা হারুনুর রশিদ (প্রবীণ মুহাদ্দিস, কাপাসিয়া দারুল উলূম মাদরাসা) মুফতি জাহাঙ্গীর হুসাইন কাসেমী (সিনিয়র মুহাদ্দিস, জামিয়র নূরিয়া টঙ্গী) মুফতি রফিউদ্দীন (মুহাদ্দিস ও নাজেমে তালিমাত, বাইতুল উলূম ঢালকানগর) এছাড়াও তাঁর অগণিত ছাত্র দেশে ও বিদেশে দ্বীনের খেদমতে নিয়োজিত আছেন।

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here