মুফতী সাখাওয়াত হোসাইন রাযি


আমি যখন আমার ধর্ম পালন করি আমাকে সাম্প্রদায়িক বলে বকা দেয়া হয়। যদিও ইসলাম কোন সম্প্রদায়ের ধর্ম নয় এবং মুসলিমরা কোনদিনই সাম্প্রদায়িক নয়। ইসলাম সবার জন্য, সবার কল্যাণের কথা বলে, সবার অধিকারের কথা বলে। 

অথচ অন্য ধর্মের লোকেরা যখন ধর্মকর্ম পালন করছে তখন তাদেরকে শুভেচ্ছা জানানো হচ্ছে, তাদের ধর্মীয় উৎসবকে সার্বজনীন বলে প্রচার করা হচ্ছে।

কোন মুসলমান যখন মূর্তি পূজাকে হারাম বলে তখন তাকে সাম্প্রদায়িক বলে গালি দেয়া হয়; অথচ অন্য ধর্মের লোকেরা যখন গরু জবাই করাকে নিষিদ্ধ মনে করে তখন তাকে সাম্প্রদায়িক মনেই করা হয় না। বলা হয় সে তার ধর্ম পালন করছে।

মুসলিম নারী যখন হিজাব পরে বের হয় তাকে সাম্প্রদায়িক বলে কটাক্ষ করা হয়; অথচ সনাতন ধর্মের নারী যখন তিলক লাগিয়ে বের হয় তাকে সম্ভ্রান্তনারী মনে করা হয়। মুসলিম কেউ যখন মাথায় টুপি কিংবা পাগড়ী পরিধান করে তাকে সাম্প্রদায়িক বলা হয়; অথচ শিখ ধর্মের কেউ মাথায় পাগড়ী পরিধান করে বের হলে তাকে সাম্প্রদায়িক বলা হয় না।

শিখরা যখন মাথায় চুল আর চেহারায় দাড়ি লম্বা করে তাদেরকে সাম্প্রদায়িক বা জঙ্গি বলা হয় না; মুসলমান দাড়ি রাখলে তাকে সাম্প্রদায়িক জঙ্গি আখ্যায়িত করা হয়। 

কোন ধর্মের লোকেরা যখন তাদের ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনীতি করে তারা সমালোচিত হয় না; কিন্তু মুসলমান যখন ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনীতি করে, তারা সাম্প্রদায়িক পশ্চাৎপদ বলে বিবেচিত হয়।

ইসলামের একটা চেতনার জায়গা আছে, আছে করণীয় ও বর্জনীয় নানা বিধান। যখন এ সংক্রান্ত বিধিবিধান বয়ান করা হয় তখন তাকে বলা হয় সাম্প্রদায়িক, উগ্রবাদী ইত্যাদি।

মুসলিম নামধারী কথিত অসাম্প্রদায়িক চেতনার ফেরিওয়ালারা এসব বলে ইসলামী চেতনার কতটা সর্বনাশ করছে, সাম্প্রদায়িকতার বিরোধিতা করতে গিয়ে ইসলাম পালনে কতটা বাধা সৃষ্টি করছে এবং নিজেরা কতটা অমুসলিম সাম্প্রদায়িক হয়ে যাচ্ছে, একবারও কি আমরা তা ভেবে দেখেছি? সময় এসেছে একটু ভেবে দেখার। আর না হয় অসাম্প্রদায়িক চেতনার নামে তারা নিজেদের ঈমান বিনষ্ট করবে, সঙ্গে সঙ্গে জাতির ঘাড়ে পৌত্তলিক চেতনা চাপিয়ে দেবে। কেননা তাদের নিকট প্রকৃত ইসলাম পালন করা সাম্প্রদায়িকতা, পাথর আর মাটির পূজা করা সাম্প্রদায়িকতা নয়। 

লক্ষ করে দেখুন! অসাম্প্রদায়িক চেতনা প্রকাশ করতে গিয়ে কিংবা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ছড়াতে গিয়ে একজন মুসলিম নেতা যখন বলছে যে, আপনারা দেবীর কাছে প্রার্থনা করেন যাতে আমাদের নেত্রী রেহাই পেয়ে যায়। আরেকজন বলছে, আপনারা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করুন, নেত্রী যাতে আমাকে নৌকা প্রতীক দেয়। তার অসাম্প্রদায়িক চেতনা তাকে কোথায় নিয়ে গেছে!

সে যখন তাদেরকে প্রার্থনা করতে বলেছে, তাহলে সে হয়তো এ কথা বিশ্বাস করে যে, ওই দেবীর কোন কিছু করার ক্ষমতা আছে। তাহলে এটা স্পষ্ট শিরক। কেননা, মুসলমান থাকতে হলে এ কথা মানতে হবে যে, আল্লাহ্‌ ছাড়া কারো কোন কিছু করার ক্ষমতা নেই। 

অথবা সে হয়তো এ কথা মনে করে না; রাজনৈতিক কারণে এ ধরনের বক্তব্য দিচ্ছে। তারপরও তার কথা ইসলামী চেতনা বিনাশে যথেষ্ট কাজ করতে পারে। কেননা তার কথায় বাহ্যিকভাবে এ ধরনের ম্যাসেজ পাওয়া যায় যে, ওই দেবীও কিছু না কিছু করতে পারে। তা না হলে সে তার কাছে প্রার্থনার কথা বলেছে কেন?

আশ্চর্যের ব্যাপার হলো অসাম্প্রদায়িক চেতনার নামে ইসলামী চেতনার সর্বনাশ করতে আজ ধর্মনিরপেক্ষ, জাতীয়তাবাদী, সমাজতন্ত্রী, বস্তুবাদী এক সুরে কথা বলছে। সবাই আজ ক্ষমতার স্বার্থে ইসলামি চেতনাকে বিনাশের প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছে।

 

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here