মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাযি


ধর্ম যার যার উৎসব সবার। শারদীয় দুর্গাপূজার সময় এলেই কোন কোন নেতার মুখ থেকে এ বাক্যটি উচ্চারিত হয়। আসলে এটা একটি কুফরি বাক্য। যারা বলছেন, আমি মনে করি তারা না বুঝেই বলছেন। কেননা যে উৎসবকে কেন্দ্র করে এ কথাটি বলা হচ্ছে সেটা হচ্ছে দুর্গাপূজার উৎসব। নিছক কোন উৎসব নয়। হিন্দু সম্প্রদায় অনেকটা উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের দেবী দূর্গার পূজা পালন করে থাকে বলেই এটি উৎসব। অন্যথায় মূলত এটি একটি পূজা।

কোন মুসলমান দুর্গাকে দেবী মনে করে না, কোন মুসলমান এক আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পূজা করে না। অথচ দূর্গা পূজার উৎসবে শরিক হওয়া মানে দুর্গার পূজাকে স্বীকৃতি দেয়া এবং দূর্গা পূজায় অংশগ্রহণ করা। সুতরাং দুর্গার পূজাকে কেন্দ্র করে যে উৎসব হয় সে উৎসব কখনোই মুসলমানদের উৎসব হতে পারে না।

মজার ব্যাপার হল, মুসলমানরা যখন উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদুল আযহা বা ঈদুল ফিতর উদযাপন করে তখন কিন্তু নেতাদের মুখ থেকে শোনা যায় না “ধর্ম যার যার উৎসব সবার” চলো সকলে মিলে ঈদুল আযহা ঈদুল ফিতর পালন করি, গরু জবাই করি… !

বরং হিন্দু অধ্যুষিত দেশে আমরা এর উল্টো চিত্র দেখি। সেখানে মুসলমানরা নিজেদের উৎসবই পালন করতে পারে না। তো ব্যাপারটা এমন দাঁড়ালো যে তাদের পূজাকে সার্বজনীন উৎসব বলে আমাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হবে আর আমাদের উৎসবকে নানা অজুহাতে বাধাগ্রস্ত করা হবে।

আরেকটা কথা বলে রাখা দরকার, আমাদের দেশের কতিপয় মিডিয়া শারদীয় দুর্গাপূজাকে সার্বজনীন উৎসব বলে প্রচার করে যাচ্ছে। অথচ তা প্রকৃত অর্থে সার্বজনীন নয়। হিন্দু সম্প্রদায় শারদীয় দুর্গাপূজার শুরুতে যে “সার্বজনীন” শব্দটি ব্যবহার করে তা তাদের জন্যে সার্বজনীন বুঝায়। কেননা, হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ভাগাভাগি করে নানা পূজার প্রচলন রয়েছে; কিন্তু এই পূজাটি তারা সকলে মিলে একসঙ্গে করে বিধায় তাদের কাছে সেটা সার্বজনীন। এখানে “সার্বজনীন” মানে এই নয় যে, সব ধর্মের লোকেরা এটাকে একসঙ্গে পালন করবে। সুতরাং এই উৎসব হিন্দুদের। তাই কোনভাবেই কোন পূজাকে উপলক্ষ করে “ধর্ম যার যার উৎসব সবার” এ কথা বলা যাবে না।

এর মানে এই নয় যে, হিন্দুরা তাদের পূজা পালন করবে না কিংবা দেশের জন্য তাদের কোন অবদানকে অস্বীকার করা হচ্ছে। এবং এর মানে এও নয় যে আমরা সকলে মিলে কোন কাজ করব না। কিন্তু ঈমানের সীমারেখা আমরা কখনই অতিক্রম করতে পারব না।

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here