বিশেষ প্রতিবেদন : ক্যাডার ভিত্তিক সংগঠন জামাতে ইসলামী নিজ দলের নেতাদের পক্ষে আন্দোলন জোরদার করতে পারেনি। একতরফা নির্বাচন করে পাঁচ বছর ধরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেও বিএনপি এর বিরুদ্ধে তেমন কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়নি। এটাই বাস্তবতা, কারণ যাই হোক না কেন। উল্টো নিজ দলের নেতাকে জেলে রেখেই নির্বাচনের দিকে যেতে হচ্ছে। অন্যদিকে কওমি ঘরানার ইসলামী দলগুলো ব্যর্থতার ষোলকলা পূর্ণ করেই চলছে প্রতিনিয়ত। অর্ধশতাব্দী কাল রাজনীতি করেও কোন দল সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করে রাজনৈতিক বলয় দৃশ্যমান করতে পারেনি৷

বর্তমান ক্ষমতাসীন দল জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তারাও তাঁদের পতনের প্রহর গুণছে বলে মনে হচ্ছে। তারা বলছে, ক্ষমতা থেকে সরে গেলে তাদের রক্তের বন্যা বইবে। এজন্যে আগামী নির্বাচন যেনতেনভাবে করে যদি তারা ক্ষমতায় থাকতে না পারে এটা তাদের বড় ধরনের ব্যর্থতা হবে।

মজার ব্যাপারটা এখানেই, প্রত্যেক দলই তার ব্যর্থতা কাটানোর জন্য অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতের উপর ভর করতে চেয়েছিল ও চাচ্ছে। প্রত্যেক দলের নেতারাই মনে করছেন হেফাজতের বৃহৎ শক্তিকে যদি কাছে রাখা যায় তো নিজ ও নিজ দলের লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হবে৷

এমতাবস্থায় হেফাজতের আমিরের বক্তব্য যার দিকে যাচ্ছে তার প্রতিপক্ষরা চতুর্দিক থেকে আহমদ শফীর উপর আক্রমণ করে বসছে। কিন্তু আহমদ শফী কারো লক্ষ্য পূরণে মাধ্যম হতে যাবেন কেন? কিংবা কোন দলের ব্যর্থতার দায়ভার তিনি নেবেন কেন?

গত (০১অক্টোবর২০১৮) চট্টগ্রামের দারুল উলূম হাটহাজারীতে বিগত আল হাইআতুল উলয়ার পরীক্ষায় কৃতী ছাত্রদের পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আল্লামা আহমদ শফী দামাত বারাকাতুহুম আসলে কি বলেছিলেন? কেন তার বক্তব্য নিয়ে সমালোচনার ঝড় তুলেছেন একশ্রেণীর মানুষ৷ আসুন আগে বক্তব্যের আলোচিত ও সমালোচিত অংশটুকু দেখে নেই-

“কেউ কেউ বলে আমি আওয়ামীলীগ হয়ে গেছি। ‘কমবখত’ মিথ্যা কথা বলতেছ। ওনি আমাকে এমনিতেই ডাইকা দিয়ে দিছে। আমি আওয়ামীলীগ হই নাই। ঐটা আপনাদের ভুল। কথাবার্তা বলতেছেন, কথাবার্তা বলার সময় মিথ্যা কথা, সত্য কথা যাচাই করে বলবেন। কি করে বলতেছেন আমি আওয়ামীলীগ হয়ে গেছি? আওয়ামীলীগ হইয়া গেলেও কোন আপত্তি নাই। আওয়ামীলীগের মধ্যে এমন এমন মানুষ আছে, যারা দ্বীনকে ভালবাসে, আমাদেরকে মোটা অংকে মাদ্রাসায় সাহায্য করে। মোটা অংকে সাহায্য করে। সেজন্য ওনি আওয়ামীলীগ, ওনি বিএনপি, ওনি এই-এই কথা বইলা বইলা তোমরা আল্লার কাছে কি জবাব দিবেন আমাকে বলেন? খায়ের, আমি আর ওয়াজ করতেছি না। শেখ হাসিনার শুকরিয়া আদায় করতেছি…”

বক্তব্যটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আগে আহমদ শফী নিজের অবস্থান ক্লিয়ার করেছেন। তিনি বলেছেন, তিনি আওয়ামী লীগ করেন না। যারা তাকে আওয়ামী লীগ মনে করেন তারা কমবখত। না জেনে না শুনেই মিথ্যা বলছেন তারা।
দ্বিতীয় অংশটিতে বলেছেন, আওয়ামী লীগ করলেও কোন আপত্তি নেই। কেননা, আওয়ামী লীগে অনেক ভালো মানুষ রয়েছে৷ যারা দীনকে মুহাব্ববত করে ও মাদরাসা – মসজিদে দান সদকা করে।

এতে কি আল্লামা আহমদ শফীর আওয়ামী লীগ করার বিষয়টি ফুটে উঠে? না আওয়ামী লীগে ভালো মানুষ আছে সে কথাটি তিনি বোঝাতে চেয়েছেন?

তিনি যে আওয়ামী লীগ করেন না, সেটাতো তিনি তার আগের বক্তৃতায় পরিষ্কার বলে দিয়েছেন। তারপরেও বয়োবৃদ্ধ আল্লাহ ওয়ালা, স্বীকৃত বুজুর্গ আল্লামা আহমদ শফীকে নিয়ে যারা সমালোচনা করছেন তারা জ্ঞানপাপী আর অভিশপ্ত ছাড়া কী হতে পারে?

বাকি শাপলার রক্ত কি বৃথা যাবে? না, শাপলার রক্ত কোন দিনই বৃথা যাবে না। আজকে ওলামায়ে কেরামকে যতোটুকু সম্মান করা হচ্ছে তার পিছনে শাপলার রক্তের একটা বড় অবদান আছে। ওলামায়ে কেরাম ঐক্যবদ্ধ হলে আল্লামা আহমদ শফীর নেতৃত্বেই আরো অর্জন সম্ভব। অথচ বাস্তবতা আমরা সকলেই জানি। শাপলা চত্বরের পর ওলামায়ে কেরামের ভেতর কত দ্বিধাবিভক্তি শুরু হয়ে গেছে।

1 COMMENT

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here