সংবাদ সম্মেলন

আজ শনিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘অনিশ্চয়তা, ভয়ভীতি আর সহিংসতার বিরুদ্ধে জনগণের শক্তি গড়ে উঠুক, নির্বাচনে জনগণের ঢল নামুক; ভোটকেন্দ্র হোক ভোটারের’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ৫টি দাবি জানায় সুশীল সমাজ। এগুলো হলো-

১. নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন আয়োজনের জন্য শেষ সময়টুকুতে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে; নির্বাচনের কাজে সম্পৃক্ত প্রশাসন যাতে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।
২. স্বাধীনভাবে দেশি ও বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং সাংবাদিকদের যথাযথ ভূমিকা পালন করতে দিতে হবে।

৩. হামলা, মামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। এসবে জড়িতদের বিরুদ্ধে সক্রিয় ব্যবস্থা নিতে হবে। অবিলম্বে হয়রানিমূলক মামলা দায়ের ও ধরপাকড় বন্ধ করতে হবে। হয়রানিমূলক মামলায় গ্রেফতারদের মুক্তি দিতে হবে।

৪. সকল প্রকার যোগাযোগে বাধা সৃষ্টির বদলে তা উন্মুক্ত করে দিতে হবে।

৫. নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তাদেরকে ভয়ভীতি প্রদর্শনকারী এবং তাদের ওপর হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

লিখিত এই বক্তব্যে দেশের ২৯ জন সুশীল নাগরিক একাত্মতা প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, নির্বাচনের আগে আমরা দেখছি, বিচার বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সরকারকেন্দ্রিক হয়ে গেছে। যে কারণে মানুষ গুম, খুন, নির্যাতন, হামলা, মামলার শিকার হচ্ছে। এমন অবস্থায় দেশে ভয়ের রাজত্ব কায়েম হয়েছে।
তিনি বলেন, জনগণের অধিকার অর্জন না হলে দেশে রাজতন্ত্র কায়েম হবে। স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশের সব কয়টি নির্বাচনই হিসেবে দলীয় সরকারের অধীনে ও প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন হয়েছে।

অথচ বর্তমান সরকার দাবি করছে, তারা সুষ্ঠু নির্বাচন করবে। এটা সরকারের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ। অথচ এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারের যা যা করণীয় তা তারা করছে না।

আনু মুহাম্মদ আরো বলেন, দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার খবর ও আমাদের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সরকারদলীয়রা ছাড়া কোনো প্রার্থীই নির্বিঘ্নে প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারছেন না। তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

আশা করি, নির্বাচনের আর মাত্র যে কয়েকটা দিন রয়েছে সেই কয়দিনে সরকার এসব না করে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করে দেবে। ইসি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বর্তমানে যে ভূমিকা পালন করছে তা সুষ্ঠু নির্বাচন পরিপন্থি। নির্বাচনী প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন না হলে গোটা দেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here