জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট সংবাদ সম্মেলন

আসন্ন একাদশ নির্বাচন উপলক্ষে ২৭ ডিসেম্বর দুপুর ২টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এছাড়া ২১ থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকার প্রতিটি আসনে একই সময়ে জনসভা ও গণমিছিল করার ঘোষণা দিয়েছে তারা।

শুক্রবার (২১ ডিসেম্বর) বিকালে রাজধানীর পল্টনে ঐক্যফ্রন্টের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

কর্মসূচি ঘোষণা করেন ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিক।

এরআগে বক্তব্য রাখেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

বক্তব্যে ড. কামাল হোসেন সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, স্বাধীন দেশে ক্ষমতার মালিক জনগণ, জনগণের সঙ্গে ভাঁওতাবাজি করা থেকে বিরত থাকুন। মাথা ঠিক করেন। মাথা ঠাণ্ডা করেন। মাথা সুস্থ করেন। ইলেকশনে জিততে হবে। এভাবে ভাঁওতাবাজি করে জিতবেন, এটাকে জিতা বলে না। মানুষের সঙ্গে ভাঁওতাবাজি করা, মানুষের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা সংবিধান লঙ্ঘন।

তিনি বলেন, যেটা করা হচ্ছে, যত স্বৈরাচারী সরকার এ পর্যন্ত এসেছে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে। তাই আপনাদেরকে ভালোভাবে বলছি, সাত দিন সময় আছে। এসব বন্ধ করুন। বন্ধ না হলে জনগণ নির্বাচন মেনে নেবে না।

ড. কামাল হোসেন বলেন, জনগণকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না দিলে দেশে মহাসঙ্কটের সৃষ্টি হবে। এখনও সামনে সাত দিন সময় আছে। এই সময়ের মধ্যে বিরোধী নেতাকর্মীদের হয়রানি-গ্রেফতার বন্ধ করে, প্রচারণার সমান সুযোগ দিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করুন। তা না করে ভাঁওতাবাজির নির্বাচন করলে তা কেউ মেনে নেবে না।

বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও হয়রানির তথ্য তুলে ধরে ড. কামাল বলেন, ৫০ বছরের অভিজ্ঞতা বলছে, এভাবে পরিকল্পিতভাবে পুলিশকে রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া, পুলিশ ও সরকারি দল মিলে যারা ভোট চাইতে যাচ্ছে, তাদের ওপর আক্রমণ করা আর হয়নি। এমন আর দেখিনি। কল্পনাও করা যায় না যেভাবে নির্বাচনী পরিবেশকে ধ্বংস করা হয়েছে। এটা যেন অবিলম্বে বন্ধ করা হয়। না হলে সংবিধান লঙ্ঘন করার অপরাধ হবে। সংবিধানকে ভঙ্গ করার অপরাধ হবে।

তিনি বলেন, অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের সুযোগ না দেওয়া হলে যারা নির্বাচিত দাবি করবে তাদের কোনোভাবেই নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া যাবে না। তখন মহাসঙ্কট সৃষ্টি হবে। জনগণ দেশের ক্ষমতার মালিক। তাদের ভোট দিতে না দেওয়া স্বাধীনতার ওপর আঘাত। এই আঘাত মেনে নেওয়া যায় না।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু, প্রেসিডিয়াম সদস্য মোকাব্বির হোসেন প্রমুখ।

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here