বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই নির্বাচন কমিশন যে নির্বাচন ঘোষণা দিয়েছে সে নির্বাচন নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করতে তারা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হচ্ছে। সরকার এই নির্বাচনে সব রকমের পক্ষপাতিত্ব শুরু করেছে। আমরা কখনও এই ধরনের নির্বাচন দেখিনি, সরকার নজিরবিহীনভাবে বিরোধীদলের নেতাকর্মী এমনকি প্রার্থীদেরও গ্রেফতার করছে। মিথ্যা মামলা দিচ্ছে এবং নির্বাচন থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছে।

আজ দুপুরে নয়াপল্টনে বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত বিজয় র‌্যালির আগে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় মির্জা ফখরুল বলেন, এই নির্বাচনে সিদ্ধান্ত হবে বাংলাদেশর মানুষ স্বৈরতন্ত্রে থাকবে না কি গণতন্ত্রে ফিরবে। মানুষ স্বাধীনতার ফল ভোগ করতে পারবে কি, পারবে না। তাই এই নির্বাচনকে প্রহসনের নির্বাচন করবেন না। আগামী নির্বাচনেই মানুষ সিদ্ধান্ত নেবে তারা একদলীয় শাসন ব্যবস্থার মধ্যে যাবে, না-কি বহুমাত্রিক গণতন্ত্রের দিকে যাবে। এই নির্বাচনে সিদ্ধান্ত হবে আমাদের গণতন্ত্রের নেত্রী, আপোসহীন নেত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে এই অন্যায় অত্যাচার থেকে মুক্ত করতে পারবো কি পারবো না।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করবেন না। অবিলম্বে হামলা-মামলা গ্রেফতার বন্ধ করুন, অন্যথায় সব দায় দায়িত্ব আপনাদের নিতে হবে।

তিনি বলেন, গতকাল (শনিবার) মির্জা আব্বাসের ওপরে হামলা হয়েছে। ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনকে গুলি করা হয়েছে। সুব্রত চৌধুরীর ওপর হামলা হয়েছে। তাকে প্রচারণা করতে দেয়নি। গতকাল নবী উল্লাহ নবীর এলাকায় একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিদিন প্রার্থীদের ওপর হামলা হচ্ছে, অথচ নির্বাচন কমিশন নির্বাক হয়ে তাকিয়ে থাকে, কিছুই করে না। কোন পদক্ষেপ নেয় না।

বিজয় দিবসের র‌্যালিকেও বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, গতকাল অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রতিদিন গ্রেফতার চলছে। আমি সরকারকে হুঁশিয়ার করে দিতে চাই, এই গ্রেফতার বন্ধ করুন, অন্যথায় এর দায়-দায়িত্ব সবকিছু আপনাদের নিতে হবে। গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার দায়িত্ব নিতে হবে।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও ঐক্যফ্রন্ট নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আমরা একটি লড়াইয়ের মধ্যে আছি। এ লড়াই হলো ভোটের লড়াই। ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারি ভোটের নামে এই দেশে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সেই থেকে এই দেশে যত নির্বাচন করা হয়েছে, সব নির্বাচন ছিনতাই করেছে। মানুষ কেউ ভোট দিতে যায়নি, প্রার্থীদের ওপর নির্যাতন করেছে, গ্রেপ্তার করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘নতুন নির্বাচনেও তারা (আওয়ামী লীগ) মনে করেছে আগের নির্বাচনের মতো ওয়াকওভার দেওয়া হবে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবার ওয়াকওভার দেব না। আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, প্রার্থী দিয়েছি—এটা দেখে সরকারের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। মির্জা ফখরুলের গাড়িবহরে হামলা করা হয়েছে, সারা দেশে নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, আইনবিষয়ক সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়া, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না প্রমুখ বিজয় শোভাযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন।

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here