মুহাম্মাদ মামুনুল হক

মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক


আজ টঙ্গী বিশ্ব এজতেমা মাঠে যা হয়ে গেল, তা স্রেফ নৃশংস হামলা ও রক্তপাতমূলক আক্রমণ ছাড়া কিছু নয় ৷ বিবাদমান দুটি পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া কিংবা হাতাহাতি পর্যায়ের কিছু না ৷ এমন কি এটাকে লাঠালাঠিও বলা যায় না , বরং সুপরিকল্পিত একটি আক্রমণ ছিল এটি ৷

এটা অস্বীকার করার উপায় নেই, দুদিন ধরে তাবলীগের সাথীদের পাশাপাশি ঢাকার অনেক মাদরাসা থেকে ছাত্ররা টঙ্গী মাঠে গিয়েছিল ৷ তাদের উদ্দেশ্য ছিল, একদিকে বিশ্ব-এজতেমার কাজে অংশগ্রহণ করা ৷ সেই সাথে এতাআতীদের জোড় যেন না হতে পারে সেজন্য ময়দানে নিজেরা অবস্থান করা ৷ কিন্তু কোনোভাবেই সেটা আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা, প্রস্তুতি বা পদক্ষেপ ছিল না ৷ উপরন্তু গতকাল যখন নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নির্বাচনের আগে টঙ্গী মাঠের সকল অনুষ্ঠান স্থগিত ঘোষণা করা হয় তাতে রাতের বেলা অনেক ছাত্র ফিরে যায় ৷ সাথীরাও অনেকে ফিরে যায় ৷

কিন্তু এতাআতীদের পরিকল্পনা ছিল ভিন্ন রকম ৷ তারা তাদের জোড় টঙ্গীতেই করতে বদ্ধপরিকর থাকে ৷ সে আলোকে সারা দেশ থেকে গত রাতেই সকল সাথীদেরকে রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদে জমায়েত করে এবং ভোরবেলা টঙ্গী মাঠের বিভিন্ন প্রবেশ পথে গিয়ে অবস্থান নেয় ৷ সঙ্গত কারণেই ভিতরের সাথী ও ছাত্রদের তুলনায় তাদের সংখ্যা ছিল অনেক বেশি ৷ দীর্ঘ একটা সময় পর্যন্ত তারা তাবলীগের সাথীদের মতই প্রবেশপথে বসে বসে সময় কাটায় এবং জিকির আযকারে লিপ্ত থাকে ৷ ভিতর-বাহির সব দিকেই যিকিরের পরিবেশ বিরাজ করে ৷ কিন্তু বেলা এগারোটার দিকে অতর্কিতে তারা একযোগে হামলে পড়ে ৷ সাধারণ মানের গেটের বাধা সহজেই ভেঙ্গে পড়লে অনেকটা বিনা বাধায় তারা মাঠে ঢুকতে সক্ষম হয় ৷ ঢুকার মুহূর্তেই দেখা যায় হামলাকারী অগ্রবর্তী প্রত্যেকের হাতে মাঝারি মানের লাঠি এবং রড ৷ রড আর লাঠি দিয়ে ভিতরে অবস্থানকারীদেরকে নৃশংসভাবে আঘাতের পর আঘাত করতে থাকে ৷ তাদের এই আক্রমণের ধরণ দেখে স্পষ্টই বোঝা যায় তারা মূলত আজ জোড় করতে টঙ্গী যায়নি, গিয়েছিল হামলা এবং হতাহত করতে ৷ তাদের সকলে না হলেও উল্লেখযোগ্য একটা অংশ যে এই সন্ত্রাসী পরিকল্পনা নিয়ে গিয়েছিল এটা তাদের হামলা ও হতাহতদের অবস্থা দেখে প্রমাণ হয় ৷ আশা করা যায়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে যে সকল দায়ীগণ শুধু জোড়ে অংশ নিতে এসেছিলেন, আজকের ঘটনা স্বচক্ষে দেখার পর তাদের অনেকেরই ভুল ভাঙবে ৷

প্রশ্ন হল, সরকারীভাবে টঙ্গীর সমস্ত অনুষ্ঠান বাতিল ঘোষণার পরও এভাবে দীর্ঘ সময় নিয়ে পরিকল্পিত একটি হামলাযজ্ঞ কীভাবে প্রশাসনের নাকের ডগায় পরিচালিত হল? অপরিকল্পিত মারামারি হলে ইটাইটি, লাঠালাঠি হত, কিন্তু এভাবে সাইজ করা লাঠি আর রড দিয়ে হামলা হত না ৷

এ সন্ত্রাসের দায় কার? ঠাণ্ডা মাথার এই হামলার প্রকৃত নাটেরগুরু কে?

তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ জিজ্ঞাসা- সমস্যার সমাধান কোন পথে?

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here