মুফতি জাকারিয়া হারুন ।।

ঈদ। চারদিকে আনন্দের বন্যা। ইসলাম ধর্মে শরিয়ত সম্মত আনন্দ উৎসবের জন্যই এ ঈদের বিধান। তবে আনন্দের গন্ডি পেরিয়ে উন্মাদনার শেষ সীমায় পৌঁছানো মারাত্মক গুনাহ। আমরা ভুলে যাই আমাদের উৎসবের রহস্য।
দু:খজনক হলেও সত্য, মুসলমানদের ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর এ ঈদে আমাদের অনেকেই অপসংস্কৃতির ছোঁয়ায় ডিসকো গানের আয়োজন করে। পরিতাপের বিষয় হলো, সে ঈদের মূল রহস্যটাই ভুলে গেছে। অথচ মহান আল্লাহ তাআলা এ রাতকে শবেবরাত ও শবেকদরের মতোই সর্বোচ্চ ফজিলত দিয়ে মহিমান্বিত করেছেন। এ রাতে ইবাদতের জন্য, তাঁর স্বীয় মুমিন বান্দাদের জন্য পুরষ্কার হিসেবে ঘোষণা করেছেন জান্নাতের।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘যে দুই ঈদের রাতে সাওয়াবের নিয়তে ইবাদত করবে, তার অন্তর সেদিন মরবে না, যেদিন অন্যদের অন্তর মরে যাবে।’ সুনানে ইবনে মাজাহ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. সম্পর্কে বর্ণিত আছে, তিনি দুই ঈদের রাত জেগে থেকে ইবাদত-বন্দেগিতে কাটিয়ে দিতেন।
হজরত ওমর ইবনে আবদুল আজিজ রা. আদি বিন আরতকে বললেন, চারটি রাতকে খুবই গুরুত্ব দিবে। ১. রজবের রাত। ২. শবে বরাতের রাত। ৩. ঈদুল ফিতরের রাত। ৪. ঈদুল আজহার রাত। মহান আল্লাহ এসব রাতে অশেষ রহমত বর্ষণ করেন। তালখিসুল খাবির
ঈদের রাতটি মুমিনদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ রাতকে ইবাদতের মাধ্যমে জীবন্ত রাখার ফলে মুমিনের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ রয়েছে। তাই এই রাতে অনর্থক কোনো কাজে লিপ্ত না হয়ে যথাযথ মর্যাদা দেওয়াই একজন প্রকৃত মুমিনের জন্য বাঞ্ছনীয়।
হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি পাঁচ রাত জেগে থাকবে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব। সেই পাঁচটি রাত হলো,
১. জিলহজ মাসের ৮ তারিখের রাত।
২. জিলহজ মাসের ৯ তারিখের রাত।
৩. ঈদুল আজহার রাত।
৪. ঈদুল ফিতরের রাত।
৫. ১৫ শাবানের রাত।
তাই এ রাতে অবৈধ আনন্দ বিনোদনের পিছনে না পড়ে, বরং মহান আল্লাহর ঘোষিত পুরষ্কারের জন্য চেষ্টা করবে। তাসবিহ-তাহলীল, নফল নামাজ, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতসহ বিভিন্ন ইবাদতের মাধ্যমে এ রাত কাটাবে। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হন। আমিন।

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here