খেলাফত প্রতিষ্ঠা

ওযায়ের আমীন


মুসলমানদের অনেকে মনে করে থাকেন- বর্তমানে ইসলামী হুকুমত কায়েমের আন্দোলনে শরিক হওয়া ফরজে কেফায়া। অর্থাৎ কিছু লোকের দ্বারা দায়িত্ব আদায় হয়ে গেলে অন্যরা গুনাহ থেকে মুক্তি পেয়ে যাবেন। এই দৃষ্টিভঙ্গি সঠিক নয়।

যতক্ষণ পর্যন্ত ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠা ও তা কার্যক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করার মত মুসলমানদের পর্যাপ্ত লোকবল না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত তাতে শরিক হওয়া ফরজে আইন।

তদুপরি শুধু পর্যাপ্ত লোকবল হলেই চলবে না বরং তা সুশৃংখলাবদ্ধ থাকতে হবে। সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন যোগ্য হতে হবে। সর্বজনবিদিত যে বর্তমানে সে অবস্থা নেই।

যদি কিছু সংখ্যক মুসলমানের পক্ষে ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠা করা এবং তা সুচারুরূপে আঞ্জাম দেওয়া সম্ভব হয় তখনই কেবল ইসলামী হুকুমত কায়েমের আন্দোলনে শরিক হওয়া ফরজে কেফায়া।

যেসব ব্যক্তি ইসলামী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত না হওয়ার দর্শনকে উত্তম মনে করে থাকেন, তারা হয়তো ইসলামকে সঠিকভাবে বুঝেন না অথবা ভীরু, দুর্বল ও কাপুরুষতাকে লালন করেন।

আমরা যদি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত না থাকি তাহলে মুসলমানগন দুর্বলমনা ও সাহসহীন হয়ে যাবে। অলসতা সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে। দ্বীনের দায়িত্ব তাদের উপর অর্পণ করা হবে যারা জমিনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। দেশে ধর্মহীনতা, রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও নাস্তিকতাবাদের রাজত্ব কায়েম হবে।

ইসলামী কর্মপদ্ধতিতে কখনো কখনো অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার অনুকূলে থাকে না। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে রাজনীতিকে একেবারে পরিহার করতে হবে। বরং এটা পরিস্থিতির নিরিখে সাময়িক সিদ্ধান্ত হতে পারে। সাধারণ ও জাতীয় বিষয় যখন সামনে এসে যায় তখন সাময়িক সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকে না। তখন পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন কায়েম করা অপরিহার্য হয়ে যায়। সাময়িক কাজের অজুহাতে আল্লাহর দ্বীন কায়েমের সংগ্রাম থেকে মুক্ত থাকা যায় না।

(তথ্যসূত্র: আদর্শ রাষ্ট্রনীতি আদর্শ রাজনীতি- মুজাহিদে মিল্লাত মুফতি ফজলুল হক আমিনী রহ.। পৃষ্ঠা নং ১৪৭)

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here