তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদের মুখে ওয়াজ মাহফিলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সোমবার (২৬ নভেম্বর) এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের চিঠি দিয়েছে কমিশন। ওয়াজ-মাহফিল ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান কেউ করতে চাইলে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করতেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে চিঠিতে।

এর আগে, গত ১৯ নভেম্বর ইসি থেকে চিঠি দিয়ে কোনও ধরনের ওয়াজ মাহফিল বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের অনুমতি না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় রিটার্নিং কর্মকর্তাদের। একইসঙ্গে কোথাও আগে থেকে অনুমোদন থাকলে সেখানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানে কোনও প্রার্থী যেন নির্বাচনি প্রচারণা না করতে পারে, সেই নির্দেশণাও দেওয়া হয়।

ইসির এই নির্দেশনার ফলে দেশের আলেম সমাজ থেকে কঠোর সমালোচনা করা হয়। বিশেষ করে হেফজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী সোমবার (২৬ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান।

তিনি বলেন, মাহফিল এদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে দ্বীনি শিক্ষা প্রচারের অন্যতম মাধ্যম। সাধারণ মানুষ ওয়াজ-মাহফিলে অংশ নিয়ে দ্বীনের মৌলিক শিক্ষা অর্জন করে। নির্বাচনের পরিবেশ রক্ষার নামে নির্বাচন কমিশন ওয়াজ-মাহফিলের উপর যে বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে তাতে বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ বিস্মিত ও ব্যথিত হয়েছে। এই বিধি-নিষেধ ইসলামি শিক্ষা প্রচারে বিঘ্নতা সৃষ্টি করবে বলে আমি মনে করি।

বিবৃতিতে আল্লামা বাবুনগরী আরো বলেন, আমি এই নির্দেশনার তীব্র প্রতিবাদ ও তা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। নতুবা বাংলার ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।

এসব সমালোচনা ও প্রতিবাদের মুখে সোমবার সন্ধ্যায় নতুন করে চিঠি ইস্যু করে নির্বাচন কমিশন। একইসঙ্গে বলা হয়, ধর্মীয় সভা, ওয়াজ-মাহফিল বা এমন জমায়েতের বিষয়ে একটি মহল বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালাচ্ছে। এ ধরনের অপপ্রচারে নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি, সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ইসি যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহম্মদ খান স্বাক্ষরিত নতুন চিঠিতে বলা হয়, ধর্মীয় সভা, ওয়াজ মাহফিল বা অনুরূপ অনুষ্ঠান সংক্রান্ত একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে অপপ্রচার রোধে এবং সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির অপচেষ্টা নস্যাৎ করার লক্ষ্যে এমন ধর্মীয় সভা বা জমায়েত আয়োজনে ক্ষেত্রবিশেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুমতি সাপেক্ষে স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্য কমিশন নির্দেশনা দিয়েছে। একইসঙ্গে এ ধরনের অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধি অনুসারে কোনও ধরনের রাজনৈতিক বক্তব্য বা কোন প্রার্থীর পক্ষে বিপক্ষে বক্তব্য দেওয়া যাবে না বলেও কমিশন সিদ্ধান্ত নেয়।

রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কমিশনের নির্দেশনা অনুসারে ধর্মীয় সভা, ওয়াজ মাহফিল বা এমন জমায়েত অথবা এ ধরনের ধর্মীয় কোনও অনুষ্ঠান আয়োজনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয় চিঠিতে।

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here