মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাযি

মুফতী সাখাওয়াত হুসাইন রাজী।।

শেষ পর্যন্ত আমাকে দলীয় রাজনীতি ছাড়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে হচ্ছে। ধৈর্যধারণ করা, দল ও সম্পর্কের কারণে প্রকৃত বিষয় লুকিয়ে রাখা যখন খেয়ানতের কারণ হচ্ছে এবং মানুষের সরল বিশ্বাসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হচ্ছে তখন কিছু কথা বলতেই হচ্ছে। অনেকটা বাধ্য হয়েই করতে হচ্ছে বিকল্প চিন্তা। নিয়তির নির্মম আচরণের কারণেই এ অবস্থা; না হয় ২০ বৎসর একটি বিশাল প্লাটফর্মে কাজ করে থেমে যেতে হয় না।

ইসলামী ঐক্যজোট সত্যিই একটি বিশাল প্ল্যাটফর্ম। পর্যায়ক্রমে ও যৌথভাবে শাইখুল হাদীস, মাওলানা মহিউদ্দিন খান, চরমোনাইয়ের পীর সাহেব, আল্লামা মুফতী আমিনী রহ. এর চৌকস নেতৃত্বে এবং খতিব ওবায়দুল হক এর পরামর্শে বাংলাদেশের রাজনীতির প্রথম সারিতে উঠে এসেছিল দলটি। ২০০১ সালের নির্বাচনে এই জোট থেকে চারজন সংসদ সদস্য হয়েছিলেন।

মুফতী আমিনী রহ. এর ইন্তেকাল পরবর্তী ইসলামী ঐক্যজোটের ৮ বছর নিয়ে অনেক কথাই বলার ছিল। এবং সে কথাগুলো প্রকাশ করা ইসলামী রাজনীতির জন্য একান্ত প্রয়োজনও বটে। কিন্তু আমার কম হিম্মত এবং দুর্বল চিত্তের কারণে এখন তা বলতে পারছিনা।

তবে কিছু কথা অবশ্যই বলা দরকার। ভাবছি শুরু থেকে শুরু না করে শেষ থেকে শুরু করব। তাহলে পাঠকদের বুঝতে সুবিধা হবে। কেননা, পিছনের কথা অনেক সময় স্মৃতিতে থাকেনা।

আজ ১২ জুন। ঠিক এক মাস আগে ইন্তেকাল করেন ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী। ১২ মে দুপুরে তার দাফনের সংবাদের সঙ্গে জোটের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হওয়ার খবরটিও প্রচারিত হয় কিছু ফেসবুক আইডি থেকে এইভাবে যে, “গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী।”

ওই দিন (১২ মে) বাদ জোহর এই অবস্থায় করণীয় জানতে আমি যখন ঐক্যজোটের গঠনতন্ত্র পাঠ করছিলাম তখনই আমার কামরায় প্রবেশ করেন সদ্যঘোষিত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাহেব। আমি তাকে গঠনতন্ত্র দেখিয়ে বললাম এইভাবে ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে কোনভাবেই ওরা ভালো কাজ করেনি এবং আপনারও কল্যাণ চায়নি। (যে সাধারণ প্রক্রিয়ায় সামনে এগুতে পারে তাকে অনৈতিক প্রক্রিয়ায় ধাক্কা দিয়ে যারা সামনে এগিয়ে দিতে চায় তারা স্বার্থান্বেষী এবং অকল্যাণকামী।)

তিনি আমাকে বারবার বললেন, তিনি এমনটি চাননি এবং তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থাকতেও চান না। তাকে বলা হয়েছে, তাৎক্ষণিক যদি একজন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা না দেয়া হয় তাহলে অন্য কেউ ঘোষণা দিয়ে দিতে পারে। আরো কত অযৌক্তিক ও কল্পনাপ্রসূত কথা! আমি তাকে বললাম, যাহোক দ্রুত মজলিসে শুরা ডেকে বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হোক। তিনিও তাতে একমত হলেন।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কে হয়েছে, কেন হয়েছে, কার হওয়া উচিত ছিল, এ নিয়ে আলোচনা করার কোন ইচ্ছা আমার নেই। নেই আমার পক্ষ থেকে কোন পদের দাবি। আমি শুধু ইসলামী ঐক্যজোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছি। চেয়ারম্যান সাহেব ইন্তেকাল করেছেন মহাসচিব সাহেব আসলেন না। আবার দূরে বসে ফেসবুকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা করে দিলেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সহ ভাইস চেয়ারম্যানরা ঢাকায় এসে দ্রুত মিটিং ডাকতে বললেও তিনি তার সময় মতো আসলেন; কিন্তু গঠনতন্ত্র কর্তৃক নির্ধারিত ১ মাস শেষ হয়ে গেলেও বসার কোন ব্যবস্থা করলেন না। চলবে……

(mufti sakhawat hossain razi ফেসবুক পেজ থেকে নেয়া)

 

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here