আল্লামা শাহ আহমদ শফী একজন নির্মোহ বুজুর্গ ব্যক্তিত্ব। তাকে নিয়ে সমালোচনা করার আগে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। নানাজনের নানা দৃষ্টিভঙ্গি থাকতেই পারে। থাকতে পারে পথ ও মতের ভিন্নতা; তাই বলে বুজুর্গদের লাগামছাড়া সমালোচনা করা যায় না।

আমরা কি একবারও ভেবে দেখেছি যে, যে কাজের জন্যে আমরা আল্লামা আহমদ শফির সমালোচনা করছি সে কাজে তার দায় কতটুকু?  আমাদের অবশ্যই মনে রাখা উচিত, জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে এখনো আল্লামা আহমদ শফীর বিকল্প নেই। তাই মৌলিক বিষয়ে এক হয়ে কাজ করার মাধ্যমে শাখা প্রশাখাগত বিষয়গুলো নিয়ে ইখতিলাফ এড়িয়ে চলাই মঙ্গলজনক হবে। আর বড়দের ভেতর এখতেলাফের কারণে আমাদের পরস্পর বিষোদ্‌গারে লিপ্ত হওয়াটা উচিৎ হবে না।

তা ছাড়া যতদূর জানা গেছে- বড়রা নিজেদের ভেতর মতের অমিলকে সম্মানের চোখে দেখেন। তাহলে আমরা ছোটরা কেন মতের ওই ভিন্নতাকে বড় করে দেখার চেষ্টা করি?

শুধুমাত্র সংবাদের উপর নির্ভর করে বড়দের চরিত্র নিয়ে সংবাদ প্রচার করে কতিপয় মিডিয়া ও এক শ্রেণীর মানুষ আমাদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করতে যথেষ্ট চেষ্টা করে যাচ্ছে এবং নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য বড় বড় আলেমদের ব্যবহার করতে না পেরে তাদের নানা বিষয় নিয়ে বিতর্ক তৈরির প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

আর হ্যাঁ, কওমি মাদরাসার সনদের মান দেয়া হয়েছে বটে; কিন্তু কওমি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র একটুও থামেনি। তাই তো আমরা দেখতে পাচ্ছি – স্বাধীনতা বা স্বকীয়তা বজায় রাখার শর্তে কওমি সনদ প্রদান করা হলেও বর্তমানে নানা শর্ত জুড়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে। হতে পারে,  আমাদের ভেতর নানা এখতেলাফের কারণেই তারা এই অপচেষ্টা করার দুঃসাহস পাচ্ছে।  এজন্য যেকোনো পরিস্থিতিতেই আমাদেরকে এক থাকতে হবে এবং এক হয়ে কওমীর স্বার্থ রক্ষার জন্য লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।

শেষ কথা, বড়দের মধ্যে মতের অমিলকে ভিন্নভাবে না দেখা উচিৎ। কেননা বড়দের নিজেদের ভেতর হৃদ্যতা ও সুসম্পর্ক বজায় আছে ও তারা সকলেই দেশ এবং ইসলামের স্বার্থে নিজেদের মতামত ব্যক্ত করছেন। কাজেই আমরা এ বিষয়ে সতর্ক থাকি ও আল্লাহর কাছে দোয়া করি, আল্লাহ যেন আমাদের বড়দেরকে সঠিকভাবে নেতৃত্ব দেয়ার তৌফিক দান করেন। আমীন!

 

 

 

1 COMMENT

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here