ভাইরাসজনিত কার্যক্রম বাস্তবায়নের কারণে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আয়-অন্নসংস্থানে অসুবিধা নিরসনে ডিসিদের খাদ্য ও আর্থিক সাহায্য দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।ভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার পাঁচ দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করলেও এই সময়ে খোলা থাকবে ব্যাংক, তবে সীমিত ভাবে করতে পারে সময়সূচি।

গতকাল সোমবার সচিবালয়ে ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

ভাইরাস সংক্রমণের কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ শহরে জীবন-যাপনে অক্ষম হলে ভাসানচরে তাদের জন্য আবাসন ও জীবিকা নির্বাহের সুযোগ গ্রহণের আহ্বান জানা মন্ত্রিপরিষদ সচিব। সংবাদ সম্মেলনে ভাইরাসের বিস্তৃতিরোধে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণাসহ প্রধানমন্ত্রীর ১০টি সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউসসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকার ভাসানচরে এ লক্ষ্যে মানুষের জন্য পর্যাপ্ত আবাসন ও জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা করেছে। সেই সঙ্গে আগ্রহী ব্যক্তিদের সরকার এ সুযোগ গ্রহণে আহ্বান জানাচ্ছে। ভাসানচরের সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে নিজেদের স্বনির্ভর করে তোলার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক ব্যক্তিকে সেখানে পাঠানোর জন্য সব জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেয়া হল। ভাইরাসজনিত কার্যক্রম বাস্তবায়নের কারণে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আয়-অন্নসংস্থানে অসুবিধা নিরসনে জেলা প্রশাসকদের খাদ্য ও আর্থিক সাহায্য দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ভাইরাস সংক্রমণ রোধে আগামী ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি- বেসরকারি সব ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। এ সময়ে সরকারি-বেসরকারি সব কালকারখানাও বন্ধ থাকবে। তবে বন্ধের এই বাধ্যবাধকতা থাকছে না তৈরি পোশাকশিল্প কারখানা গুলোর (গার্মেন্টস) ওপর। অনেক সময় দেখা যায় সাধারণ ছুটির দিনেও গার্মেন্টস বন্ধ থাকে। এই বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গার্মেন্টেসের ক্ষেত্রেও প্রয়োজ্য হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব বলেন, ডিজিজটা ভাইরাস সংক্রামক। গার্মেন্টেসে যারা কাজ করে ফ্যাক্টরি ও তার জায়গা, যেটা আমরা খুব ক্লোজ মনিটরিংয়ে রেখেছি প্রথম থেকে। এখানে কিন্তু একটা জিনিস আছে কেউ যদি ইনফেকটেড হয়, আল্লাহ না করুক। সে কিন্তু ওই ফ্যাক্টরির বাইরে আর যাচ্ছে না। কিন্তু ধরেন ৫-৬ জন আক্রান্ত হয়ে যদি ছুটিতে যায় তাহলে ছড়ানোর সম্ভাবনা বেশি।
আহমেদ কায়কাউস বলেন, সেই হিসেবে আগাগোড়াই কন্ট্রোল এনভায়রনমেন্টে, গার্মেন্টস মালিকারাও কিন্তু প্রত্যেকটি জায়গায় হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হাত ধোয়া, গ্লাভস এবং মাস্ক ব্যবহারের কাজটা করে যাচ্ছে। সেই হিসেবে তারা ভালো আছে। সেক্ষেত্রে তারা (গার্মেন্টস মালিকরা) সিদ্ধান্ত নেবেন তারা কী করবেন।
মুখ্যসচিব বলেন,গার্মেন্টসের আরও প্রয়োজন হচ্ছে, গার্মেন্টসে আমরা তৈরি করছি পিপিই (পারসোন্যাল প্রোটেকশন ইকুইপমেন্ট), মাস্ক তৈরি করছি। এগুলো তৈরি করার জন্য গার্মেন্টেসের লোকজন আমাদের সহায়তা করছে। আমরা গতকাল চট্টগ্রাম থেকে ১০ হাজার নিয়েছি, আরও ৯০ হাজার পাচ্ছি। এভাবে বিভিন্ন এলাকা থেকে নেয়া হচ্ছে। সেজন্য গার্মেন্টেসের ওপর বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হচ্ছে না।
সরকার আগামী ২৯ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করায় ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের ছুটি এবং সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা ১০ দিন ছুটি পাচ্ছেন সরকারি- বেসরকারি চাকরিজীবিরা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ব্যাংকে ছুটির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যেন বিভিন্ন ছুটিতেই ব্যাংকগুলোকে এরকম খোলা রাখা হয়।

ভাইরাস মোকাবিলায় চাল ও নগদ বরাদ্দ
ভাইরাস মোকাবিলায় প্রতিটি জেলায় ২০০ থেকে ৫০০ টন করে চাল ও নগদ দুই থেকে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। জেলা গুলোর আয়তন ও জনসংখ্যাকে বিবেচনা নিয়ে ওই সহায়তা দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শাহ কামাল ইনকিলাবকে এ তথ্য জানান।
সিনিয়র সচিব বলেন, দুর্যোগ সংক্রান্ত স্থায়ী আদেশাবলি জারি করার ফলে আমরা এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের অন্যান্য সংস্থাকে সহযোগিতা করছি। জেলাগুলোতে চাল ও টাকার যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা প্রয়োজনে আরও বাড়ানো হবে।সংক্রমণজনিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুর্যোগ সংক্রান্ত স্থায়ী আদেশ (এসওডি) জারি করেছে সরকার। এর ফলে দেশের দুর্যোগ মোকাবিলা ও জরুরি পরিস্থিতির কারণে যেসব স্বেচ্ছাসেবককে নামানো হয়, তাদের সক্রিয় করা হবে। ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে স্বেচ্ছাসেবকদের পরামর্শ নিতে জেলা প্রশাসকদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ভ‚ত পরিস্থিতিতে দরিদ্র মানুষদের সহায়তার জন্য দেশের সব জেলায় চাল ও নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিটি জেলায় ২০০ থেকে ৫০০ টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আর নগদ টাকা দেওয়া হয়েছে দুই থেকে পাঁচ লাখ টাকা। জেলাগুলোর আয়তন ও জনসংখ্যাকে বিবেচনা নিয়ে ওই সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে করোনা ঝুঁকির কারণে লকডাউন হওয়া মাদারীপুরের শিবচরে সহায়তা হিসেবে চাল পাঠানো হয়েছে। ওই সংক্রমণের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে দ্রুত ত্রাণসহায়তা পাঠানো হবে।
ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে দুই ধরনের স্বেচ্ছাসেবক আছেন। দেশের ১৯টি জেলায় ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) আওতায় ৫৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক আছেন। এ ছাড়া সারা দেশে ১ লাখ ৮০ হাজার স্কাউট সদস্য আছেন। যাঁরা জরুরি রাষ্ট্রীয় কাজে মাঠে নামেন। সরকারি সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় দুই ধরনের সদস্যই স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কাজ করে থাকেন। সাধারণত ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও বড় কোনো দুর্যোগে তারা ভূমিকা পালন করে থাকেন।

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here