রকিব মুহাম্মদ: হযরতজি হাজী আবদুল ওয়াহাব ছিলেন পাকিস্তানের তাবলিগ জামাতের আমীর। দাওয়াত ও তাবলীগের আলমি শূরার প্রধান।

বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ধর্মীয় ব্যক্তিদের তালিকায় যার নাম উঠে এসেছে বারবার।  সবচেয়ে দীর্ঘ বক্তৃতা রাখার জন্যেও তার নাম গণনা করা হয় গিনেস ওয়ার্ল্ডে।

হাজী আবদুল ওয়াহাব ১৯২৩ সালেন ১ জানুয়ারি ভারতের রাজধানী দিল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন। তার মূল নাম রাও মুহাম্মদ আবদুল ওয়াহাব। তিনি ঐতিহ্যবাহি রাজপুত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি লাহোর ইসলামিয়া কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি হাসিল করেন। পরবর্তীতে তিনি দেশভাগের সময় একটি তহসিলদার হিসেবে কাজ করেন।  তিনি মজলিস-ই-আহরার-ই-ইসলামের জন্যও কাজ করেছিলেন।

তাবলীগ জামাত

হাজী আবদুল ওয়াহাব তাবলীগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা হজরতজি ইলিয়াস কান্ধলভীর জীবদ্দশায় তাবলিগে যোগ দেন। তিনি ১৯৪৪ সালের ১ জানুয়ারী নিজামুদ্দিন মারকাজে আসেন। প্রায় ছয় মাস মওলানা ইলিয়াস কান্ধলভী রহ. এর সোহবতে কাটান।

সে সময় তিনি তাবলিগ জামাতে মেহনত করার উদ্দেশ্যে চাকরি ছেড়ে দেন। মহান এ মণীষা মাওলানা ইলিয়াস কান্ধলভী, ইউসুফ কান্ধলভী এবং ইনামুল হাসান কান্ধলভীর সরাসরি সাথী।

হযরতজী মাওলানা মোহাম্মদ ইলিয়াস রাহ.’র শিষ্য হলেও তিনি সোহবত লাভ করেছেন হাকীমুল উম্মত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রাহ., শায়েখ আব্দুল কাদির রায়পুরী রাহ., শায়খুল ইসলাম সায়্যিদ হুসাইন আহমদ মাদানী রাহ.’র।

পরবর্তীতে হাজী সাহেবকে পাকিস্তানের তাবলিগ জামাতের আমির, রায়বেন্ড মারকাজের আমির, শূরা প্রধান ও নিজামুদ্দিন মারকাজের আলমী শুরা হিসেবে মনোনীত করা হয়।

পাকিস্তানি তালেবানদের সঙ্গে শান্তি আলোচনা

২০১৩ সালের অক্টোবর মাসে হাজী আব্দুল ওয়াহাবের নামে পাকিস্তানি তালেবানদের সাথে শান্তি আলোচনা করেন।

পাকিস্তান তালেবান ও সেনাবাহিনীর মধ্য চলতে থাকা কয়েক বছরের ভয়াবহ সংঘর্ষ-মিমাংসায় যখন বিজ্ঞানী আব্দুল কাদিরসহ সেদেশের শীর্ষ লেখক বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা শান্তি প্রস্তাবেরর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন, তখন মোবাল্লিগে ইসলাম হাজী আব্দুল ওয়াহাব ছিলেন শেষ ভরসা।

সে দেশের সকল ঐক্য প্রচেষ্টা ও রাজনৈতিক চেষ্টা যখন তালেবান ও সেনাকর্মকর্তারা নাচক করে দেন, তখন সবাই দাঈ ইলাল্লাহ হাজী আব্দুল ওয়াহাব সাহেব দামাত বারাকাতুহুমের দ্বারস্ত হন। জাতীর পক্ষ থেকে তাকে সবিনয় অনুরোধ করা হয়- ভয়াবহ এই সংকট নিরসনে কথা বলার জন্য।

মাওলানা তারিক জামিল সাহেব তখন হাজি সাহেবের পা টিপে দিতে দিতে বলেন, হযরত! এই কাজটি আল্লাহ আপনার দ্বারা করাতে চাচ্ছেন। এই দেশ ছেড়ে আমরা কোথায় যাব? সমস্যা হবে, সমাধান তো আমাদেরকেই বের করতে হবে।

হাজি সাহেব স্নেহের শিষ্য তারিক জামিলের অনুরোধ রাখলেন। হাজী সাহেব তালেবান প্রধান ও সেনা প্রধানকে ফোন করলেন। উভয় এক বাক্যে রাজি হয়ে যান। বলছেন, হযরত আপনি যেখানে চান, যখন চান আমরা তৈরি। পুরো দেশে শান্তির নিশ্বাঃস ফেলল মানুষ। এটা মাত্র কয়েক বছর পূর্বের পুরো বিশ্বের আলোচিত শান্তি মিশন।

শীর্ষ মুসলিম

২০১৪ এবং ১৫ তে একটি পরিসংখ্যানে বিশ্বের ৫০০ শীর্ষ মুসলিম ব্যক্তিদের তালিকায় হাজী আব্দুল ওয়াহাব ১০ নম্বরে উঠে আসে। তাবলিগ জামতের নেতৃস্থানীয় নেতা হওয়ার কারণে এ তালিকায় তার নাম আসে।

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here