জম্মু-কাশ্মীর থেকে সবধরণের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধিরা। গতকাল (শুক্রবার) ইইউ’র পক্ষ থেকে সেখানকার চলমান পরিস্থিতি নিয়ে ওই আহ্বান জানানো হয়।

ইইউ’র পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা যে সেখানে যেতে পারছেন, এতেই বোঝা যায়, কাশ্মীরের স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরাতে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ভারত সরকার। কিন্তু এখনও সেখানে বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।’

ইউরোপীয় ইউনিয়নের আন্তর্জাতিক ও নিরাপত্তা নীতি দফতরের মুখপাত্র ভার্জিনি বাট্টু হেনরিকসনের পক্ষ থেকে ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘উপত্যকার অধিকাংশ জায়গাতেই ইন্টারনেট ও মোবাইল পরিসেবা নেই। এখনও বন্দি রয়েছেন একাধিক রাজনীতিক। এরসঙ্গে নিরাপত্তাজনিত বিষয়টি জড়িয়ে রয়েছে, তা আমরা বুঝতে পারছি। কিন্তু এবার ধীরে ধীরে সমস্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়াটাও জরুরি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা গুরুতর নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জগুলোর কথা জানি কিন্তু বিধি-নিষেধ অপসারণও গুরুত্বপূর্ণ। কূটনীতিকদের এই সফর জম্মু-কাশ্মীরের বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে জানার এবং সেখানকার জনগণের সাথে যোগাযোগের জন্য ভালো সুযোগ হয়েছিল। আমরা আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের সাথে সংলাপ অব্যাহত রাখতে আগ্রহী।’

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা

বিদেশি প্রতিনিধিরা পরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ প্রসঙ্গে জার্মান কূটনীতিক ওয়াল্টার জে লিন্ডনার বলেছেন, আমরা জম্মু-কাশ্মীর সফরের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছি।

আফগানিস্তানের রাষ্ট্রদূত তাহির কাদরী বলেন, জম্মু-কাশ্মীর সফরকালে আমার ভালো অভিজ্ঞতা হয়েছে।

কাশ্মীরে বিদেশি কূটনীতিকদের এ প্রসঙ্গে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মন্ত্রী ও কোলকাতার নববালিগঞ্জ মহা বিদ্যালয়ের সিনিয়র অধ্যাক ড. আব্দুস সাত্তার আজ (শনিবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘এটা নতুন কিছু নয়। এই সরকার এটা নিয়মিত করে যাচ্ছে। এটা হচ্ছে সবথেকে বড় সমস্যা। বিদেশি কূটনীতিকদের নিয়ে যাচ্ছে, ডাললেক ঘোরাচ্ছে, সবকিছু করছে। কিন্তু দেশের মানুষ দেশে যাবে সেখানেও তার অনুমতি লাগবে। গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন কেউ যেতে চাইলে তার অনুমতি দেবো। দেশের মানুষ নিজের দেশে যাবে তারজন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হবে! এর থেকে আশ্চর্যের আর কী হতে পারে?’

তিনি বলেন, ‘কাশ্মীর নিয়ে এই সরকারের কোনও পরিচ্ছন্ন নীতি নেই। যা আছে কেবল বিভাজনের কথা। কখনও বলছে ‘এক দেশ-এক আইন’। আবার সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন যখন করছে, তখন ‘এক দেশ-এক আইন’ হচ্ছে না!’

কেন্দ্রীয় সরকারের বৈষম্যমূলক নীতির ফলে বিভাজনের পথ আরও প্রশ্বস্থ হচ্ছে এবং এর বিরুদ্ধে সর্বত্র আন্দোলন হচ্ছে বলেও সাবেক মন্ত্রী অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার মন্তব্য করেন।

গত বছর ৫ আগস্ট ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু-কাশ্মীরের বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ সুবিধা সম্বলিত ৩৭০ ধারা বাতিলের পরে সেখানকার বিভিন্ন বিধিনিষেধসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপরে নজর রেখেছে ইইউ।

গত বছর অক্টোবর মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি দল প্রথমবার কাশ্মীর সফর করেন। গত (বুধবার) ফের ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যরা ছাড়াও জার্মানি, কানাডা, ফ্রান্স, ইতালি, পোল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, মেক্সিকো, আফগানিস্তান, অস্ট্রিয়া ও উজবেকিস্তান থেকে আসা বিদেশি প্রতিনিধিদের একটি দল দুই দিনের জন্য কাশ্মীর সফরে আসেন। শুক্রবার তাঁরা জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এরআগে মার্কিন সেনেটরদের একাংশের পক্ষ থেকে কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করাসহ বিদেশি সাংবাদিকদের কেন সেখানে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না, দীর্ঘ সময় ধরে কেন রাজনীতিকদের বন্দি করে রাখা হয়েছে, কেন বহির্জগৎ থেকে উপত্যকাকে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাম্প্রতিক মন্তব্যে কেন্দ্রীয় সরকারের উপরে চাপ বাড়তে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। -পার্সটুডে

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here