সিরিয়ার উত্তরপশ্চিমাঞ্চলে রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন বিমান হামলায় অন্তত ৪০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে।

এর পাশাপাশি ইদলিব প্রদেশের দক্ষিণপূর্বে মারদাবেশে আরও নয় বেসামরিক নিহত হয়েছে। সরকারবিরোধীদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাটি থেকে বিদ্রোহীদের হটিয়ে দিতে সিরিয়ার সেনাবাহিনী বড় ধরনের একটি অভিযান শুরু করেছে।

এই অভিযানে ইরানের মিলিশিয়া বাহিনীগুলোও তাদের সঙ্গে আছে। এর সঙ্গে রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন বিমান হামলা যোগ হওয়ায় ওই এলাকা থেকে হাজার হাজার লোক তুরস্কের সীমান্তের দিকে পালিয়ে যাচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

ডিসেম্বরে ইদলিবে আশ্রয় নেয়া বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী। এই অভিযানে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী ও ইরানের মিলিশিয়া বাহিনীগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

গত বছরের এপ্রিলে মস্কো সমর্থিত আসাদ বাহিনীর হামলায় কমপক্ষে ১ হাজার বেসামরিক নিহত হন, বাস্তুচ্যুত হয় ৪ লাখেরও বেশি মানুষ।

আগস্টে আসাদ বাহিনী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং প্রতিদিনই বেসামরিক লোক প্রাণ হারাচ্ছে।

বিমান হামলার পাশাপাশি রাশিয়া স্থলেও বিশেষ বাহিনী মোতায়েন করেছে বলে জানা গেছে। সম্মিলিত অভিযানে এসব বাহিনী বিদ্রোহী অধিকৃত এলাকার অনেক ভিতরে ঢুকে পড়েছে আর এতে ওই এলাকার অনেক ছোট ছোট শহর ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে, হাসপাতাল ও স্কুলও রক্ষা পায়নি বলে জানিয়েছে উদ্ধারকর্মী ও ত্রাণ সংস্থাগুলো।

২০১৫ সালে রাশিয়া সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পক্ষ হয়ে দেশটির গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ করার পর পরিস্থিতি পুরোপুরি উল্টে যায়।

সিরিয়ায় একের পর এক এলাকা আসাদ অনুগত সরকারি বাহিনী পুনরুদ্ধার করতে শুরু করে। ফলে দেশটির বিদ্রোহী অধিকৃত বহু এলাকার লোকজন পালিয়ে ইদলিবে চলে আসেন।

বর্তমানে সিরিয়ার শুধু ইদলিবই কট্টরপন্থি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকাটি পুনরুদ্ধার করতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী ও তাদের মিত্র রাশিয়ার সামরিক বাহিনী।

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here