ভারতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ জানিয়ে ক্ষমতসীন বিজেপিকে কটাক্ষ করে সামাজিকমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়েছেন দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ও সাবেক ক্রিকেটার সৌরভ গাঙ্গুলীর মেয়ে সানা।

তবে ওই পোস্টটি সানার নিজস্ব কোনো মন্তব্য নয়, সবটাই খুশবন্ত সিংহের লেখা থেকে উদ্ধৃত।

ইনস্টাগ্রামে সেই ‘উদ্ধৃতি’ পোস্ট করেই সাড়া ফেলে দিয়েছেন সানা গাঙ্গুলী। কারণ, ওই উদ্ধৃতিটা কেন্দ্রীয় সরকার, বিজেপি এবং সঙ্ঘ পরিবারকে কটাক্ষে ঠাসা।

সদ্য আঠার পেরনো সানা সম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে ওই পোস্ট করেছেন। খবর আনন্দবাজার।

সম্প্রতি পাস হওয়া নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বাতিলের দাবিতে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ এখনও থামেনি। বরং রাজধানী দিল্লিতে পরিস্থিতি এতটাই সহিংস হয়ে উঠেছে যে, তা থামাতে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।

সেই আবহেই সৌরভ-কন্যার এমন পোস্ট রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছে। সানা ইনস্টাগ্রাম স্টোরি হিসেবে পোস্ট করতে গিয়ে তিনি ২০০৩ সালে প্রকাশিত খুশবন্ত সিংহের ‘দ্য এন্ড অব ইন্ডিয়া’কে বেছে নিয়েছেন।

সানা সেই বই থেকে তুলে ধরেছেন যে অংশ, সেখানে লেখা হয়েছে, ‘প্রতিটা ফ্যাসিস্ট সরকারের একটা দল বা গোষ্ঠীর প্রয়োজন হয়। নিজেদের বেড়ে ওঠার জন্য তারা ওই দল বা গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করতে তাদের শয়তানেও পরিণত করে। দুএকটা দল দিয়ে এটা শুরু হয়। কিন্তু সেটা কখনোই সেখানে শেষ হয় না। ঘৃণার ওপর নির্ভর করে যে আন্দোলন, সেই আন্দোলন নিজেকে ধরে রাখতে পারে অবিরাম একটা ভয় বা দ্বন্দ্বের বাতাবরণ তৈরি করে।’

খবরে বলা হয়, সানা এই উদ্ধৃতির মাধ্যমে আসলে বিজেপি এবং সঙ্ঘ পরিবারকেই নিশানা করতে চেয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলের মত।

এখানেই থেমে থাকেননি সানা। খুশবন্তের লেখার আরও কিছু অংশ তিনি পোস্ট করেছেন। সেই অংশে লেখা হয়েছে, ‘আজ যারা আমরা নিজেদের নিরাপদ মনে করছি, ভাবছি আমরা তো মুসলমান বা খ্রিস্টান নই, তারা মূর্খের স্বর্গে বাস করছি। সঙ্ঘ ইতিমধ্যেই বামপন্থী ইতিহাসবিদ এবং পশ্চিমি সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী যুবসমাজকে টার্গেট করেছে। কাল তাদের ঘৃণা গিয়ে পড়বে স্কার্ট পরিহিত নারী, যারা মাংস খান, মদ্যপান করেন, বিদেশি সিনেমা দেখেন, বছর বছর তীর্থে যান না, দাঁতনের পরিবর্তে টুথপেস্ট ব্যবহার করেন, আয়ুর্বেদিকের বদলে অ্যালোপ্যাথি ওষুধ পছন্দ করেন, দেখা হলে ‘জয় শ্রী রাম’ বলার বদলে হাত মেলান বা চুম্বন করেন, তাদের ওপর। কেউ নিরাপদ নয়। ভারতকে বাঁচাতে হলে এগুলো আমাদের ভীষণ ভাবে অনুধাবন করতে হবে।’

ইতিমধ্যেই সানার এই পোস্টটি ভাইরাল হয়েছে। নেটিজেনদের একটা অংশের মতে, গোটা পোস্টটাতে যে ভাবে খুশবন্তের লেখার মাধ্যমে সানা ভারতের বর্তমান পরিস্থিতিকে তুলে ধরেছেন, তা প্রশংসনীয়।

কেউ কেউ আবার সানার বয়সকে উল্লেখ করে লিখেছেন, রাজনীতি বোঝার জন্য বড়ই অল্প বয়স। সেখানেই অপর পক্ষ মনে করিয়ে দিয়েছেন, ভারতে ভোট দেয়ার বয়স কিন্তু ১৮। সানার বয়স ১৮ পেরিয়ে গিয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তাদের একাংশ।

সৌরভ নিজে সব সময়ই রাজনৈতিক মন্তব্য থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন। তার মুখে রাজনৈতিক বিতর্কমূলক কোনো মন্তব্য কখনোই শোনা যায়নি। কিন্তু সানার পোস্ট রাজনৈতিক বার্তায় ভরপুর বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here