ভারতে পরকীয়া আর শাস্তিযোগ্য অপরাধ নয়। আজ বৃহস্পতিবার এক রায়ে এটিকে বৈধ ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। এ নিয়ে এক মাসে দু’টি সামাজিকতা ও সভ্যতাবিরোধী রায় দিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।
এর ফলে পারিবারিক শান্তি শৃঙ্খলা বিনষ্ট হয়ে সমাজ ব্যবস্থা নোংরা ও কুৎসিত আকার ধারণ করবে বলে মনে করছেন চিন্তাশীল মানুষেরা। কেউ বলছেন এ রায় আইয়ামে জাহেলিয়াতকেও হার মানাবে। কোন সভ্য যুগে বা সভ্য অঞ্চলে এই ধরনের রায় গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

১৫৮ বছর পুরনো আগের একটি আইন অনুসারে, পরকীয়া বা অপরের স্ত্রীর সঙ্গে তাদের স্বামীর অনুমতিবিহীন সম্পর্ক স্থাপন অপরাধ হিসেবে গণ্য হতো। আইন অনুসারে, পরকীয়ায় নারীদের অপরাধী গণ্য করা হতো না, তারা বিবেচিত হতো ‘শিকার’ হিসেবে। আর নারীকে প্রলোভন দিয়ে পরকীয়ায় অংশগ্রহণ করানোয় শাস্তি নির্ধারিত ছিল কেবল পুরুষের জন্য। অবশ্য এখন পর্যন্ত ওই আইনে কতজনের শাস্তি হয়েছে সে বিষয়ে কোন তথ্য জানা যায়নি।

তবে গত আগস্টে আইনটির বিরুদ্ধে দাখিল করা এক পিটিশনে বলা হয়, এই আইনটি একপাক্ষিক ও এটি নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্য করে। আইনটি বাতিল করার রায়ে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, যে আইন মহিলাদের সমানাধিকারের কথা বলে না, তা অসাংবিধানিক।

আজ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র রায় জানান, “পরকীয়া করা যে ডিভোর্সের একটি বড় কারণ হতে পারে, তা নিয়ে সংশয় নেই। তবে এটা কোনোভাবেই অপরাধ নয়।

তিনি আরও বলেন, যে আইন ব্যক্তিস্বাধীনতা ও নারীদের সমানাধিকারের দাবিকে কোনোভাবে ক্ষুণ্ণ করে, তা সম্পূর্ণভাবে সংবিধান বিরোধী। এই আইন, নারীদের এতদিন ‘পুরুষের সম্পত্তি’ বলে মনে করত। -বিবিসি ও এনডিটিভি

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here