হাতে ‘বিসমিল্লাহ’ লেখা থাকায় ভারতের পানিপথে এক মুসলিম যুবকের হাত কেটে ফেলেছে হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসীরা।

মুসলিম ওই যুবকের নাম ইখলাস সালমানি। তার হাতে ট্যাটুতে লেখা ছিল ৭৮৬। যা দ্বারা ‘বিসমিল্লাহ’ বোঝানো হয়ে থাকে। এই ট্যাটুর কারণে ভারতের পানিপথে ওই যুবকের হাত কেটে দিয়েছে কট্টর হিন্দু সন্ত্রাসীরা।

ইখলাসের ভাই ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, আমার ভাই হাতে উল্কি করে বিসমিল্লাহ লিখেছিল। কল্পনাতেও ভাবতে পারেনি, এই কারণে ওর হাতটাই কেটে ফেলবে তারা। ও মুসলিম শুনেই ওর হাতটা কেটে দেয় তারা।

২৮ বছর বয়সী ইখলাখ পেশায় একজন নাপিত। লকডাউনে কাজ নেই তাই সাহারানপুর থেকে দুই চেনা ব্যক্তির সঙ্গে পানিপথে রওনা হন। ৩৩ কিলোমিটার চলার পর কৃষ্ণপুর অঞ্চলের মাথাগোজার ঠাঁই না পেয়ে আশ্রয় নেন এক পার্কে। রাতের অন্ধকারে তার নাম পরিচয় জানতে চায় দুই যুবক। তিনি বলেন, নাম বলতেই ব্যাপক মার খান তিনি। এখানেই শেষ নয়। মারের কারণে দীর্ঘক্ষণ অচেতন অবস্থায় থাকার পর সামনের এক বাড়িতে রক্তাক্ত অবস্থাতেই পানি চাইতে যান তিনি। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস এমনই যে, সেই বাড়ির দরজা খোলে ওই দুই যুবকই। এবার আরেক প্রস্থ অত্যাচারের পালা। প্রাণভিক্ষা চেয়েও লাভ হয়নি। ইখলাখকে তুমুল অত্যাচার করে ওই দুই যুবক।

একপর্যায়ে তাদের চোখে পড়ে ইখলাখের হাতে একটি ট্যাটুতে লেখা ৭৮৬। এটা দেখেই ওই দুই যুবক সিদ্ধান্ত নেয় তার হাত কেটে দেওয়ার। ইখলাসকে ফেলে আসা হয় কিষাণপুর রেল স্টেশনের ধারে। পরদিন জ্ঞান ফেরার পর ইখলাখ পথচারীদের সাহায্যে বাড়িতে খবর দেন। এই ঘটনায় পানিপথের চাঁদনিবাগ স্টেশনে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয় ।

ইখলাখের ভাইয়ের বক্তব্য, ‘আমার ভাইয়েক জীবনটা ধ্বংস হয়ে গেল। ওরা আমার হাতই কাটেনি। ওর সমস্ত স্বপ্ন মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে। হয়তো কোনোদিনই আর কোনো কাজ করতে পারবে না ও। আমি এর বিচার চাই।’

চাঁদনিবাগ পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাবাসীর থেকে ঘটনার সত্যতা জেনেছেন তারা।

ইতিমধ্যে ঘটনার বীভৎসতা নিয়ে তোলপাড় চলছে ভারতীয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here