চাষাবাদের খরচ বৃদ্ধি এবং কৃষিজাত পণ্যের কম মূল্যের প্রতিবাদে ভারতের হাজার হাজার কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষ রাজধানী দিল্লিতে দেশটির পার্লামেন্ট অভিমুখে যাত্রা শুরু করেছে।

ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস পার্টির সভাপতি রাহুল গান্ধী এবং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ‘যন্তর মন্তরে’ কৃষকদের এই বিক্ষোভ মিছিলে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। পার্লামেন্ট স্ট্রিট পুলিশ স্টেশনের কাছে প্রায় ৩৫ হাজার কৃষককে পুলিশ কর্তৃক আটকের খবর পাওয়া গেছে।

কৃষকদের এই বিক্ষোভ মিছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ সমাবেশের একটিতে পরিণত হতে যাচ্ছে বলে জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

যা স্বাভাবিকভাবেই মোদীর ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী বছর মে মাসে দেশটিতে জাতীয় নির্বাচন। ২৬ কোটির বেশি কৃষকের ভোট নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞ মহল।

বিক্ষোভকারীদের নেতা যোগেন্দ্র যাদব বলেন, “একের পর এক কৃষক আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন। যারা আমাদের খাবারের যোগান দেন তাদের জন্য সরকারের কাছে কোনো সময় নেই, এটা ভীষণ লজ্জার।”

ভারতের ২ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিশাল অর্থনীতিতে কৃষির অবদান ১৫ শতাংশের বেশি। ভারত এশিয়ার তৃতীয় বৃহৎ অর্থনীতির দেশ।

বিভিন্ন জায়গা থেকে কৃষকদের দুই শতাধিক দল বৃহস্পতিবার দিল্লি অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। তারা কৃষকদের সংকট নিয়ে আলোচনার জন্য পার্লামেন্টে বিশেষ অধিবেশন চান।

ভারতের সবচেয়ে জনবহুল উত্তর প্রদেশ থেকে আসা লখন পাল সিং বলেন, “আমি নিজে এমন অনেক কৃষককে চিনি যারা আত্মহত্যা করেছে। তাদের পরিবার এখন চরম দারিদ্রের মধ্যে বসবাস করছে।

“মোদী সরকারের গ্রহণ করা নীতি কৃষকদের এই দুর্দশার জন্য দায়ী। মোদীর কৃষক বিরোধী নীতি আমাদের সবচেয়ে বড় আঘাত দিয়েছে। অথচ আমি নিজে বিজেপিকে ভোট দিয়েছিলাম। বলছিলেন পাল সিং।”

গত বছর কৃষিজাত পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির দাবিতে মধ্য প্রদেশের কৃষকরা আন্দোলন শুরু করেছিল। ওই আন্দোলন দমাতে পুলিশের গুলিতে অন্তত ছয় কৃষক নিহত হয়।

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here