ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা মনীশ তিওয়ারি বলেছেন, ‘গত ৫ আগস্ট কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের পরে (৩৭০ ধারা প্রত্যাহার) জম্মু-কাশ্মীরে সামাজিক শান্তি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। যেখানে সামাজিক শান্তি থাকে না, সেখানে অর্থনৈতিক অগ্রগতি হতে পারে না।’

তিনি আজ (বুধবার) সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় ওই মন্তব্য করেন। মনীশ তিওয়ারি বলেন, ‘এখন সরকারও হয়তো মনে করছে যে, ৫ আগস্টের সিদ্ধান্তটি (৩৭০ ধারা প্রত্যাহার) একটি বড় ভুল ছিল এবং এটিকে আবারও বিবেচনা করা উচিত।’

তিনি বলেন, জম্মু-কাশ্মীরে স্কুলগুলো সাত মাস ধরে বন্ধ থাকায় সবচেয়ে খারাপ প্রভাব পড়ছে শিশুদের শিক্ষার উপরে। জম্মু-কাশ্মীর চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে মনীশ তিওয়ারি বলেন, জম্মু-কাশ্মীরে চার মাসে ১৮ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। সেখানে আপেল উৎপাদন ও পর্যটন শিল্প সেখানে খারাপ অবস্থায় রয়েছে।

তিনি জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য বাজেট আলোচনা প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘সংকীর্ণ চিন্তায়’ ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘কূটনীতি ও রাজধর্ম’–এর আওতায় ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং এরফলে দেশের জন্য তা সুদূরপ্রসারী পরিণতি ঘটাবে।

৭ মাস ধরে বন্ধ কাশ্মীরের স্কুল

মনীশ তিওয়ারি বলেন, জম্মু-কাশ্মীরের বাজেট সম্পর্কিত আলোচনা সেখানকার বিধানসভায় অনুষ্ঠিত হলে ভালো হতো। তিনি বলেন, জম্মু-কাশ্মীরের বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে বিবেচনাধীন এবং আমরা আশাবাদী যে ইতিবাচক ফল আসবে।

তাঁর অভিযোগ, ওই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকার কাশ্মীরের মানুষকে ভুল বার্তা দিয়েছে যে আমরা জমি চাই, জনগণ নয়। তিনি বলেন, ‘হাউসে জম্মু-কাশ্মীরের ওইসকল লোকেদের তালিকা রাখা উচিত যাদের বিভিন্ন রাজ্যের কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে। সরকার আজ পর্যন্ত জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক তিন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ, ওমর আবদুল্লাহ এবং মেহবুবা মুফতিকে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের অধীনে কেন আটক করা হয়েছিল সে বিষয়ে সন্তোষজনক জবাব দেয়নি।’

সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ডা. ফারুক আবদুল্লাহর মুক্তি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে মনীশ তিওয়ারি আরও দুই নেতাকে শিগগিরি মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, গত জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের পরেও সরকার রাজ্যে পুরোপুরি ইন্টারনেট বহাল করতে পারেনি। এটা আদালতের সিদ্ধান্তের অবমাননা নয় কী? সূত্র : পার্সটুডে

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here