বিচারপতি আল্লামা তাকি উসমানি। ভাষান্তর : মুফতি মুহিউদ্দীন কাসেমী

উর্দু ভাষার প্রসিদ্ধ একটি প্রবাদ :
جھوٹ کے پاوں نہیں ہوتے
‘মিথ্যার পা নেই’।
কিন্তু বর্তমানে তার ‘পা’ নয় বরং এমন ‘ডানা’ গজিয়েছে, যে ডানা পুরা সমাজকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ফেলেছে। জীবনের কোনো অঙ্গনই তার নগ্ন অনুপ্রবেশ থেকে মুক্ত নয়। সুস্পষ্ট মিথ্যাকে তো সবাই ঘৃণা করে। তাতে মুসলমান আর কাফেরের ভেদাভেদ নেই। বরং যেসব নাস্তিক আল্লাহর অস্তিত্বেও সংশয় প্রকাশ করে তারাও মতাদর্শের দিক থেকে মিথ্যা ঘৃণিত ও নিন্দিত। যার দিন-রাত মিথ্যার পসরা সাজায় তাদেরকেও যদি মিথ্যা কেমন জিজ্ঞাসা করা হয়, তারাও নিঃসন্দেহে বলবে মিথ্যা খুবই খারাপ জিনিস। সুতরাং মানুষ যখন নিজের কাজকর্মের মাঝে মিথ্যার স্বরূপ ও ধরন জানতে পারবে, তখন মিথ্যা থেকে তারা তাওবা করবে। কিন্তু এ যুগে মিথ্যার এমন অনেক শাখা-প্রশাখা অস্তিত্ব লাভ করেছে, যেগুলোকে মানুষ মিথ্যাই মনে করে না। তাই এ অন্যায় কাজটিও তাদের ধারণায় আসে না।

একবার ভিন্ন শহরের এক ভদ্রলোক আমার সাথে মোলাকা করতে এলেন। শিক্ষিত, নামাযী, মেধাবী, জ্ঞানী ও খোশ মেজাজী, পরিচ্ছন্ন, সাহিত্য-মানসের অধিকারী এবং উচ্চমানের একজন কবিও। চালচলন ও মুখায়ব থেকে আরম্ভ করে তার সব কাজে কৌলীন্য পরিস্ফুটিত হচ্ছে। দীর্ঘক্ষণ তিনি তাঁর মনোমুগ্ধকর সাহচর্য দ্বারা আমাকে উপকৃত করেন। বিদায়ের প্রাক্কালে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, এবার ছুটিতে কতদিন অবস্থান করবেন?
বললেন, ‘প্রথমে আমার কালই ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু আপনজনদের পীড়াপীড়িতে আরও কয়েকদিন থাকার ইচ্ছা করেছি। আজকেই আমার অফিসে মেডিকেল সার্টিফিকেট পাঠিয়ে দেব।’

চমকে উঠে জিজ্ঞাসা করলাম, কিসের মেডিকেল সার্টিফিকেট? তিনি নির্দ্বিধায় উত্তর দিলেন, এমনি। অফিস থেকে ছুটি নেওয়ার জন্য যেই মেডিকেল সার্টিফিকেট পাঠানো হয় তাই আর কি। আমি জিজ্ঞাসা করলাম– আল্লাহ না করুন, আপনার শরীর কি খারাপ? তিনি বললেন, আরে না ভাই। আল্লাহর মেহেরবানীতে আমি ভালো আছি। কিন্তু অফিস থেকে ছুটি নেওয়ার জন্য এছাড়া আর কোনো পথ নেই; তাই মেডিকেল সার্টিফিকেটই পাঠাতে হবে।
তাঁর মতো ব্যক্তি থেকে এমন কথা শুনে মনে হল আমার অন্তরে বজ্রাঘাত হয়েছে। আমি আরজ করলাম, আপনি কি ভেবে দেখেছেন, এ জাল সার্টিফিকেট তৈরি করা আপনার জন্য জায়েয হবে কি? এবং মিথ্যা সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে যে ছুটি আপনি ভোগ করবেন, তাকে কাজে লাগানো আপনার জন্য বৈধ? তাছাড়া এই ছুটির দিনগুলোর যে বেতন আপনি পাবেন, তা আপনার জন্য হালাল হবে? বাস্তবিকই তিনি ছিলেন একজন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি। একথা শুনে তিনিও চিন্তায় পড়ে গেলেন। বললেন, সত্যিই ইতোপূর্বে বিষয়টি এভাবে চিন্তা করে দেখিনি তো। অফিস-আদালতে সাধারণত প্রয়োজনের সময় মেডিকেল সার্টিফিকেট তৈরি করে ছুটি গ্রহণের ব্যাপক প্রচলন রয়েছে। তাই আমিও কোনোরূপ চিন্তা-ভাবনা করা ছাড়া এরূপ করে এসেছি।

তারপর তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তীব্র প্রয়োজনের সময় এভাবে ছুটি নেওয়া সত্যিই কি জায়েয নেই? আমি আরজ করলাম, প্রথমত আপনজনদের পীড়াপীড়ি এমন কোনো তীব্র প্রয়োজন নয়। দ্বিতীয়ত বাস্তববিকই তীব্র কোনো প্রয়োজন দেখা দিলে সেই প্রয়োজনের কথা লিখে ছুটির দরখাস্ত করা উচিত। সেই প্রয়োজনের ভিত্তিতে নিয়মিত ছুটি পাওয়ার থাকলে পেয়ে যাবে, আর যদি ছুটি না পাওয়া যায় তাহলে বিনা বেতনের ছুটি নিবেন। মিথ্যা মেডিকেল সার্টিফিকেট দিয়ে ছুটি নেওয়া কোনো অবস্থাতেই জায়েয নেই। একথা শুনে তিনি স্বীকার করলেন, এ পর্যন্ত বাস্তবিকই আমি চিন্তা-ভাবনা না করে এই গোনাহ করে এসেছি। আজই আমি সঠিক বিষয়টি জানতে পারলাম। ইনশাআল্লাহ আগামীতে কখনই আর এভাবে ছুটি গ্রহণ করব না।

এই ঘটনার পূর্বে আমারও ধারণা ছিল না, বাহ্যত নীতিবান এ ধরনের ব্যক্তিরাও এমন ভুল বোঝাবুঝিতে লিপ্ত। এ জাতীয় জাল সার্টিফিকেট তৈরি করা জায়েয বা এটি যে অন্যায় ও পাপ—সে অনুভূতিও তাদের নেই। এরপর থেকে আমি জানতে পারি, কত পবিত্র অন্তরে ধীরে-ধীরে মিথ্যা স্থান করে নিয়েছে! এর ফলে আমাদের সমাজে সার্টিফিকেটের কোনো গুরুত্ব নেই। প্রকৃত অবস্থা উদঘাটনের জন্য সার্টিফিকেট দেখা আর না দেখা বরাবর।

আর যারা এ ধরনের সার্টিফিকেট প্রদান করেন, তাদের বিষয়টি আরও মারাত্মক, আরও দুঃখজনক। বলাবাহুল্য, কোনো অজ্ঞ মূর্খ ব্যক্তি কাউকে সার্টিফিকেট প্রদান করতে পারে না। সার্টিফিকেট তারাই দিতে পারে, যারা শুধু শিক্ষিতই নয় বরং বিশেষ কোনো বিভাগের উচ্চাসনে অধিষ্ঠিত। বিশেষত মেডিকেল সার্টিফিকেট তো কেবলমাত্র ডাক্তারগণই দিতে পারেন। আর ডাক্তারগণ সাধারণত সমাজের এমন গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্ববান ব্যক্তি, যাদের উপর আস্থা পোষণ করে মানুষ নিজের জীবনকে পর্যন্ত তাদের হাতে অর্পণ করে। বিশেষত কোনো রোগীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তার মুখ ও কলম থেকে নিঃসৃত প্রত্যেকটি শব্দ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে। তার ভিত্তিতে জীবনের অনেক কিছুর চূড়ান্ত ফয়সালা হয়। দায়িত্বশীল ব্যক্তিও যদি খেয়াল না করে যে, তার কলম দ্বারা সত্যায়িত সার্টিফিকেট একটি সাক্ষ্য। এমন গুরুত্বপূর্ণ পদের অধিকারী ব্যক্তিও যদি তার দায়িত্বহীন, বরং অবাস্তব সাক্ষ্য দিয়ে সমাজকে পথভ্রষ্ট করতে শুরু করে, তাহলে সেই সমাজের পরিণতি কী হবে! আর অর্থের বিনিময়ে এ জাতীয় সার্টিফিকেট প্রদান করা হহলে তো মিথ্যার সাথে ঘুষের গোনাহও হবে। গোনাহ দ্বিগুণ হয়ে গেল। আর ঘুষ না নিয়ে নিরেট সহমর্মিতার খেয়ালে এমন সার্টিফিকেট প্রদান করা হলে এমন সহমর্মিতার ভোগান্তি সমগ্র জাতিকে ভোগ করতে হবে। এর ফলে যে অপূরণীয় ক্ষতি হবে, তার সমস্ত আপদ জাল সার্টিফিকেট তৈরিকারীদের আমলনামায় অবশ্যম্ভাবীরূপে যুক্ত হবে। যার উত্তর একদিন-না-একদিন মহান আল্লাহর দরবারে দিতেই হবে।
কখনও কখনও এ অন্যায় কাজের জন্য এই যুক্তি-প্রমাণ দিতেও শুনেছি, এ ধরনের জাল সার্টিফিকেট সমাজে এত ব্যাপক রূপ লাভ করেছে যে, এখন তা প্রদান করা পেশাদারি কাজের অংশ হয়ে গেছে। কোনো ব্যক্তি এমন সার্টিফিকেট প্রদান করা থেকে বিরত থাকলে মানুষ তার নিকট যাওয়াই বন্ধ করে দিবে। ফলে সে বৈধ উপার্জন থেকেও বঞ্চিত হবে। কিন্তু বাস্তবে এই খোঁড়া যুক্তি প্রদর্শন করা ‘গোনাহের পক্ষে দালালি গোনাহের চেয়েও নিকৃষ্ট’ এই প্রবাদেরই বাস্তব রূপ। আলহামদুলিল্লাহ, বর্তমানের এই অধপতিত যুগেও এমন অসংখ্য মানুষ রয়েছেন, যারা কখনও এ ধরনের পেশাদারি দুর্নীতিতে লিপ্ত হননি। তারা নীতির উপর অটল থাকার কারণে মরে যাননি। আল্লাহর মেহেরবানিতে বরং ভালোভাবেই বেঁচে আছেন। বিশেষত বিপুল সংখ্যক ডাক্তার, বরং সিংহভাগ ডাক্তার এখনও এমন আছেন, তারা এমন হীন কাজের কথা কল্পনাও করতে পারেন না। এতৎসত্ত্বেও তাদেরকে অবমূল্যায়নের অভিযোগ করতে কখনই দেখা যায়নি। তারা পরিপূর্ণ মর্যাদা ও ব্যক্তিত্ব সহকারে তাদের পেশাদারি কর্তব্য নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে যাচ্ছেন। এর দ্বারা তাদের আর্থিক কোনো ক্ষতি হয়নি। শুধু তাই নয়, বরং অর্থনৈতিক ও সামাজিক মর্যাদা—উভয় দিক থেকেই তারা সমাজে বিশিষ্ট মর্যাদার অধিকারী হয়েছেন।

তবে বাস্তবতা হল, কোনো সমাজে কোনো অন্যায় কাজ এভাবেই ব্যাপক আকার ধারণ করলে মানুষ সে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার না হয়ে আত্মসমর্পণ করতে থাকে—কিছু লোক হৃদয়ের আহ্বানকে চেপে রেখে এ জাতীয় খোঁড়া যুক্তি-প্রমাণের ছায়ায় আশ্রয় গ্রহণ করতে থাকে। পক্ষান্তরে কেউ সাহস করে যদি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে ওঠে এবং অন্যায়ের সম্মুখে পরাজয় বরণ করতে অস্বীকার করে, তাহলে পরিশেষে তাদেরই বিজয় হয়ে থাকে। পবিত্র কুরআন সোচ্চার কণ্ঠে ঘোষণা করেছে :
وَالْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِينَ
‘শুভ পরিণতি তাদেরই হয়ে থাকে, যারা অন্যায় থেকে বেঁচে থাকে।’

বর্তমানে অনেক সময় চারিত্রিক সনদপত্রের প্রয়োজন পড়ে। যেখানে সত্যায়ন করে বলা হয়, “অমুক ব্যক্তি উত্তম নীতি-চরিত্রের অধিকারী। দীর্ঘদিন ধরে তার সম্পর্কে আমি অবগত রয়েছি।” অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ সনদপত্রও কোনোরূপ চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই প্রদান করা হয়ে থাকে। কাউকে সনদপত্র প্রদান কালে এ কথার মোটেও পরোয়া করা হয় না, যার সম্পর্কে এই সনদপত্র প্রদান করা হচ্ছে, বাস্তবে সে তার যোগ্য কিনা এবং এ কথাও মিথ্যে লিখে দেওয়া হয় যে, ‘আমি তার সম্পর্কে পাঁচ বছর বা দশ বছর যাবত অবগত রয়েছি।’

একবার আমি ফিকহ বিষয়ক একটি কনফারেন্সে অংশগ্রহণের জন্য জেদ্দায় অবস্থান করছিলাম। সেখানে একব্যক্তি আমার সাথে সাক্ষাৎ করতে আসে। আগন্তুক নির্ভরযোগ্য মহান এক বুযুর্গের একটি পত্র আমাকে দেয়। পত্রে বুুযুর্গ ব্যক্তি আমাকে ফরমায়েশ করেছিলেন, পত্রবাহককে পাকিস্তানি দূতাবাস থেকে পাসপোর্ট তৈরি করাতে হবে। এ কাজে আপনি তাকে সহযোগিতা করুন। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম– এখান থেকে পাসপোর্ট বানানোর প্রয়োজন দেখা দিল কেন? তখন সে পাকিস্তানি কাউন্সিলর বরাবর লিখিত দরখাস্তটি আমাকে দেখাল। দরখাস্তে লেখা ছিল, আমার পাসপোর্ট হারিয়ে গিয়েছে, তাই নতুন পাসপোর্ট বানিয়ে দেয়া হোক। সম্ভবত সেই দরখাস্তের সঙ্গে কিছু সত্যায়নপত্রও ছিল।

তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি পাকিস্তান থেকে কবে এসেছেন? আপনার পাসপোর্ট কোথায় এবং কিভাবে হারিয়ে গেছে? প্রশ্নের উত্তরে যা কিছু বললেন, তাতে আমার আত্মতৃপ্তি হল না। আমি একথা বলে তার নিকট ওজর পেশ করি, পাসপোর্ট হারিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না, বিধায় এর উপর ভিত্তি করে কোনো সুপারিশ করা আমার জন্য জায়েয নয়। লোকটি বেশ অসন্তুষ্ট হয়ে চলে যায় এবং তার এই সামান্য কাজটি করে দিতে অস্বীকার করায় আমার বিরুদ্ধে অনুযোগ করতে থাকে। পরে আমি জানতে পারি, লোকটি মূলত ভারতের নাগরিক। দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কাজের সন্ধান করে সে নিরাশ হয়েছে। এখন কেউ তাকে পাকিস্তান গিয়ে কাজের সন্ধান করতে পরামর্শ দিয়েছে। তাই সে পাসপোর্ট হারিয়ে যাওয়ার কাল্পনিক কাহিনী তৈরি করেছে। যাতে করে পাকিস্তানের ভিসা নয়, বরং তার জাতীয়তার প্রমাণ স্বরূপ পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে পারে। কিছু লোক বলল, মানুষ সচরাচর এমনটি করে থাকে। কিন্তু আমার বিস্ময় জাগছিল ঐ বুযুর্গ ব্যক্তির উপর, যিনি তাকে আমার নিকট পাঠিয়েছিলেন এবং আমি যেন তার সহযোগিতা করি সেজন্য সুপারিশ করে পত্রও দিয়েছিলেন। তিনি কোনো মিথ্যুক বা প্রতারক ছিলেন না। তিনি অত্যন্ত আইনানুগ ব্যক্তি ছিলেন। কিন্তু তার মস্তিষ্কে এ দিকটি প্রাধান্য পায় যে, একজন বিপদগ্রস্ত লোকের সাহায্য করা উচিত। তিনি একথা চিন্তা করেননি যে, মিথ্যা বলে এমন কাজ করা কত বড় পাপ এবং স্বদেশের সঙ্গে কত বড় বিশ্বাসঘাতকতা। কারো মুখমণ্ডলে তার মনের সংকল্প লেখা থাকে না। এমন সহমর্মিতার পরিণতিতে তিনি কোনো সন্ত্রাসী, বিপদজনক কিংবা মারাত্মক গুপ্তচরকে স্বদেশে পাঠানোর অপরাধে অপরাধী হতে পারেন। আর যদি এর পরিণততে নিজের দেশবাসীর প্রাণ খোয়া যায়, কিংবা অন্য কোনো ধ্বংসাত্মক ঘটনা ঘটে, তাহলে এ অপরাধের দায়িত্ব থেকে তিনিও নিজেকে বাঁচাতে পারবেন না।
এ জাতীয় ঘটনা থেকে অনুমিত হয়, আমাদের সমাজে কারো নামে কোনো সনদপত্র প্রদান করা এক খেলার বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং অনেক নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিও এ ব্যাপারে সত্য-মিথ্যার পার্থক্য করেন না। বরং একে মিথ্যা বলে গণ্যই করেন না। এই পরিস্থিতি সমাজে যে ধ্বংসলীলা চালিয়ে যাচ্ছে, তা কারো নিকট গোপন নয়। কিন্তু এ অবস্থার দুর্নাম ও সমালোচনা করতে থাকলে সমস্যার সমাধান হবে না, যতক্ষণ না আমরা প্রত্যেকে স্ব-স্ব অবস্থানে এর পরিবর্তন ঘটানোর দৃঢ় সংকল্প না করব। অন্যের উপর না হলেও প্রত্যেকের নিজের উপর পূর্ণ এখতিয়ার রয়েছে। যাকে কাজে লাগানো ছাড়া এ পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে না।

দৈনিক জঙ্গ
২৯ মহররম, ১৪১৫ হিজরি
১০ জুলাই ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here