ভারতে মুসলিম বিরোধী নাগরিকত্ব আইন সিএএ-র প্রতিবাদীদের নাম ও পরিচয় উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের দাবি করে ক্ষতিপূরণ না দিলে বাজেয়াপ্ত করার হুমকি দিয়ে উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখণৌর রাস্তায় ১০০টি পোস্টারে টানিয়ে ভরিয়ে তুলছে রাজ্যের উগ্র হিন্দুত্ববাদী যোগী আদিত্যনাথ সরকার। এতে ওই রাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসার এসআর দারাপুরি, সমাজকর্মী ‍মুহাম্মাদ শোয়ায়েব, কবি দীপক কবীর, কংগ্রেসের স্থানীয় মহিলা নেত্রী সাদফ জাফরসহ মোট ৫৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

যোগী সরকারের এই হীন কাজ বন্ধ করতে পোস্টান নামাতে বলে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এলাহাবাদ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি গোবিন্দ মাথুর  যোগীকে ‘‌নির্লজ্জ’ বলে তিরস্কার করেছিলেন। জনসমক্ষে এভাবে সিএএ প্রতিবাদীদের নাম ও পরিচয় তুলে ধরার কাজকে আদালত অগণতান্ত্রিক ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ করা বলে চিহ্নিত করে। প্রতিবাদীদের সঙ্গে ফৌজদারি অপরাধীর মতো আচরণ করা যায় না বলেও জানিয়েছিল আদালত। এছাড়া আগামী ১৬ মার্চের মধ্যে লখনউ প্রশাসনের তরফ থেকে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে রিপোর্ট দেওয়ারও নির্দেশ দেয় প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।

গত সোমবার (৯ মার্চ) এলাহাবাদ হাইকোর্টের ভর্ৎসনাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে হোলির পর রাজ্য যোগী সরকার দেশটির সু্প্রিম কোর্টে ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানাবে বলে শোনা গিয়েছিল।

কিন্তু হায়, ধোপে টিকল না সে নালিশ। উল্টে যোগীর ওপর চোখ রাঙানি সুপ্রিম কোর্টেরই।‌ বিচারপতি ইউইউ ললিত জানালেন, ‘‌অন্যায় কাজ করলে খাতায় তাদের নাম উঠবেই। কিন্তু তার বেশি করার ক্ষমতা রাজ্য সরকারের আছে কি?‌ হোর্ডিংয়ে যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের ব্যক্তিগত ক্ষতি হয়েছে বলে তাঁদের নাম লেখা হয়নি। বরং ক্ষতি হয়েছে সাংবিধানিক মূল্যবোধের। সরকারের দায়িত্ব সাধারণ মানুষকে সম্মান করা। তার থেকে গণতান্ত্রিক ব্যবহার কাম্য। সূত্র: আজকাল

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here