ভারতের রাজধানী দিল্লির সাম্প্রতিক সহিংসতার জন্য দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ’র পদত্যাগ দাবি করেছে প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেস। আজ (সোমবার) নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির পক্ষ থেকে ওই দাবি জানানো হয়েছে।

কংগ্রেস বলেছে, অনেক জায়গায় পুলিশের কাজকর্ম সন্দেহজনক হিসেবে দেখা গেছে। ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং আম আদমি পার্টি (এএপি) ভোট ব্যাংক রাজনীতি করছে। এজন্য কংগ্রেস দাবি করেছে যে, দিল্লির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগ করা উচিত।

দিল্লি সহিংসতা নিয়ে আজ সংবাদ সম্মেলনে কংগ্রেস নেতা মুকুল ওয়াসনিক বলেন, ‘আমরা সুপ্রিম কোর্ট অথবা হাইকোর্টের বর্তমান বিচারপতির মাধ্যমে বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি করছি। সহিংসতায় প্রত্যেক ক্ষতিগ্রস্থের পরিবারের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আমরা চাই, যে পুলিশকর্মীরা কিছুই করেনি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। যারা উসকানিমূলক বিবৃতি দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’

কংগ্রেস বলেছে, আমাদের দাবি হল- দিল্লির সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর (অমিত শাহ) পদত্যাগ করা উচিত। আমরা মনে করি দিল্লিতে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল তা থামাতে উনি কিছুই করেনি। বরং, দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের সময়ে, তাঁর একটি বক্তব্যে দেখা গিয়েছে যাতে তিনি বলেছিলেন যে এই কারেন্ট (শক) শাহীনবাগে পৌঁছানো উচিত।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ

দলটি আরও বলেছে, দিল্লির সহিংসতার বিষয়ে ছয়শ’র বেশি এফআইআর হলেও বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র, অনুরাগ ঠাকুর, পরবেশ ভার্মার বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

কংগ্রেস নেতা মুকুল ওয়াসনিক বলেন, ‘আমাদের দাবি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর, বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র ও পরবেশ ভার্মার (দিল্লির নির্বাচনের সময় তাদের বক্তৃতার জন্য) বিরুদ্ধে এফআইআর নথিভুক্ত করা হোক। আমরা হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান বিচারপতির তত্ত্বাবধানে বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।’

‘আমাদের দাবি, সময় নষ্ট না করে ওই নেতাদের বিরুদ্ধে এফআইআর করতে হবে। এসআইটি’তে (বিশেষ তদন্ত দল) আমাদের বিশ্বাস নেই। স্বতন্ত্র বিচারবিভাগীয় তদন্ত হওয়া উচিত।’

এছাড়া যেসব পুলিশ সঠিকভাবে কাজ করেননি তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানান কংগ্রেস নেতা মুকুল ওয়াসনিক। -পার্সটুডে

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here