ঢাকায় বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে থাকবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ সাম্প্রতিক সময়ে দিল্লিতে মুসলমানদের উপর হামলার পর মোদীর সফরের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হচ্ছে বাংলাদেশে৷ মোদির বাংলাদেশ সফর নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ভারতীয়রাও৷

তারা বলছেন, এমন অনুষ্ঠানে ব্যক্তি মোদীর অবস্থান কতটা সমীচীন? ভারতের শাসক দলের হাত ধরে যে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির চাষ হচ্ছে গোটা দেশ জুড়ে, তা কি আদৌ বঙ্গবন্ধুর ভাবমূর্তির সঙ্গে যায়?

লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরী বলেন, ‘‘বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক বরাবরই নিবিড়৷ শেখ মুজিব আমাদের সকলের কাছে বঙ্গবন্ধু৷ বাংলাদেশের মানুষের কাছেও ভারত নিয়ে একটা মস্ত আবেগ বরাবর কাজ করে৷ আমরা বন্ধু৷ কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই জায়গাটাই নষ্ট হতে বসেছে৷ এটা আমাদের কাছে লজ্জার৷ যে বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সোনার সম্পর্ক, তার সঙ্গে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে, দাঙ্গা নিয়ে আমাদের তিক্ততা তৈরি হল৷ এর দায় মোদীকেই নিতে হবে৷”

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়মিত অংশ নেন বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক, শিক্ষাবিদ এবং সাহিত্যিক পবিত্র সরকার৷ সাম্প্রতিক বিতর্ক নিয়ে তার স্পষ্ট মত, ‘‘বাংলাদেশের মানুষের ভাবাবেগকে সম্মান জানিয়ে নরেন্দ্র মোদীর সেখানে না যাওয়াই উচিত৷ যে কোনও একটা অজুহাত দেখিয়ে তিনি সফর বাতিল করতে পারেন৷ তিনি গেলে আরও একটা সমস্যা হবে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে খানিকটা বিড়ম্বনায় ফেলা হবে৷ কারণ তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে আগেই ডেকে ফেলেছেন৷ তার পক্ষে এখন পিছিয়ে আসা কঠিন৷”

সিএএ এবং এনআরসি নিয়ে লাগাতার আন্দোলনরত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের বক্তব্য, ‘‘মোদী তো নিজের দেশেই স্বাগত নন৷ তিনি এবং অমিত শাহ যতবার বাংলায় এসেছেন, আমরা রাত জেগে প্রতিবাদ দেখিয়েছি৷ বাংলাদেশের সাধারণ মানুষও সেই প্রতিবাদটাই দেখাচ্ছেন৷ সেখানে কূটনীতির কোনও জায়গা নেই৷ আবেগের জায়গা আছে৷ শেখ মুজিবের জন্মশতবর্ষ বাঙালির তেমনই এক আবেগের জায়গা৷ সেখানে কূটনীতি নিয়ে কেন ভাববো আমরা? প্রতিবাদ ছিল, আছে এবং থাকবে৷” সূত্র : ডয়েচেভেলে

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here