আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেয়ার বিষয়ে তালেবানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে চলা আফগান যুদ্ধের অবসানে কাতারের মধ্যস্থতায় এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ১৪ মাসের মধ্যে আফগানিস্তান ছাড়তে হবে মার্কিন ও ন্যাটো সেনাদের। তালেবানদের দেয়া শর্ত মেনেই যুক্তরাষ্ট্র এ চুক্তি মেনে নিয়েছে বলে বিবিসি জানিয়েছে।

চুক্তি মতে, এখন থেকে আফগানিস্তানে আর কোনো হামলা চালাবে না তালেবান। এছাড়া তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে আল-কায়েদাকে কোনো তৎপরতা চালাতে না দেয়ারও অঙ্গীকার করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে মাইক পম্পেও বলেন, আজ এ চুক্তির মাধ্যমে শান্তির সূচনা হল। আফগানিস্তানে শান্তি ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্র সব পক্ষের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করে।

আফগান নাগরিকরা নিজ দেশে শান্তিতে বসবাসের অধিকার রাখে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে তালেবানদের সঙ্গে শান্তি চুক্তি সই করতে কাতারের রাজধানী দোহায় পৌঁছান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। বৈঠকে অংশ নিতে ৩১ সদস্যের তালেবানের একটি প্রতিনিধি দল আগেই কাতার পৌঁছেছে।

তালেবানের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, আমরা আশা করি দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা এবং শান্তি চুক্তি সই হওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিশ্রুতির প্রতি অনড় থাকবে।

তিনি বলেন, জাতির এ খুশির দিনে আজকে তালেবানের সব সদস্যকে যেকোনো ধরনের হামলা থেকে বিরত থাকার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তবে বিদেশি জঙ্গিবিমানগুলো ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করতে এখনো তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় টহল দিচ্ছে বলে তালেবান অভিযোগ করেছেন তালেবান মুখপাত্র।

চুক্তির আওতায় যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান থেকে হাজার হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পাশাপাশি দেশটিতে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি পালনের কথা বলা হয়েছে।

২০০১ সালের অক্টোবরে আমেরিকা ও তার মিত্ররা আফগানিস্তানে আগ্রাসন চালায়। নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারে ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার এক মাসের মধ্যে এ আগ্রাসন চালানো হয়।

মার্কিন বাহিনীর হামলায় তৎকালীন তালেবান সরকারের পতন ঘটলেও গত দেড় যুগেও তালেবানকে আফগানিস্তান থেকে নির্মূল করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয় আমেরিকা।

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here