মুফতী মোহাম্মদ এনামুল হাসান (বি বাড়িয়া)


বাংলাদেশের মানুষ ইসলাম প্রিয়। ইসলামকে তারা তাদের নিজের জীবন থেকেও বেশি ভালবাসে। সহীহ ইসলাম পালনকারী মানুষ শুধু ব্যক্তি জীবনেই ইসলাম পালন করতে অভ্যস্ত নয়। ইসলাম যেহেতু একটি পরিপূর্ণ আল্লাহর মনোনীত ধর্ম তাই তারা ইসলামকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায়ও প্রতিষ্ঠিত দেখতে চায়। দেশের বৃহৎ এই মুসলিম জনগোষ্ঠীর আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে বিভিন্ন ইসলামী রাজনৈতিক দল সমূহ রাজনীতির ময়দানে কাজ করে যাচ্ছে বহুদিন যাবত। ধীরে ধীরে রাজনীতির ময়দানে ইসলামী শক্তিসমূহ আজ বিরাট ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়ে গেছে। প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলো এই বাস্তবতায় নির্বাচনের আগে জাতীর কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে বাধ্য হচ্ছে যে, আমরা ক্ষমতায় গেলে কোরআন সুন্নাহর পরিপন্থী কোন আইন করবো না। সে বাস্তবতার আলোকে ইসলামের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গিরও পরিবর্তন ঘটছে। যা সত্যিই প্রশংসনীয়। মোট কথা হল ইসলামকে বাদ দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন হওয়া এখন আর কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

আবহমানকাল থেকেই যেহেতু ইসলামের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে কিছু মানুষ দাঁড়িয়ে যায়, সে ধারাবাহিতায় বাংলাদেশেও যেন ইসলাম রাষ্ট্রীয় শক্তিতে বলিয়ান হয়ে উঠতে না পারে সে লক্ষ্যকে সামনে রেখে কিছু চিহ্নিত মানুষ ইসলামের সাথে রাজনীতি কিংবা রাষ্ট্রনীতির সম্পর্ক নেই বলে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। ঐ মানুষগুলো সময়ে সময়ে ইসলাম, আল্লাহ, রাসূল,সাহাবাসহ ইসলামের মৌলিক বিষয় গুলোকে নিয়ে কটাক্ষ করে বক্তৃতা বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছে। কারণ তারা জানে ইসলামী আদর্শ যদি প্রতিষ্ঠা হয়ে যায় তাহলে তারা দুর্নীতি করতে পারবে না। তাদের হাত থেকে তাদের নেতৃত্ব চলে যাবে। তাই তারা বিভিন্ন সময়ে ইসলামকে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের সাথে একাকার করে জনমনে ইসলাম সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অতি সন্নিকটে। এমতাবস্থায় দেশের ইসলামী রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের উপর ঐকমতে পৌঁছা এখন সময়ের দাবি।
দেশে যেহেতু রাষ্ট্রক্ষমতা ব্যবহার করে ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে কিছু মানুষ পবিত্র ধর্ম ইসলামকে হেয় প্রতিপন্ন করতে দেশী এবং আন্তর্জাতিক অপশক্তির এজেন্ট হয়ে কাজ করছে তাদের এই অপকৌশলে প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কোন রাজনৈতিক দল বা জোট যেন চিহ্নিত এই ইসলাম বিরোধীদের নমিনেশন না দেয় সে ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ইসলামী দলগুলো আলোচনা শুরু করতে পারেন। পাশাপাশি সকল নিবন্ধিত ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলো সম্মিলিতভাবে নির্বাচন কমিশনে লিখিত প্রস্তাব প্রেরণ করতে পারে যে, ইসলাম, আল্লাহ, রাসূল, সাহাবা, ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আলেম উলামাদের যারা প্রকাশ্যে বিরোধিতা করে দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর ষড়যন্ত্র করে আসছে তারা যেন নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষিত হয়, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে নির্বাচন কমিশনের সাথে প্রয়োজনে বৈঠকও করতে পারে। পাশাপাশি চিহ্নিত নাস্তিক যারা তাদেরও যেন নির্বাচনে স্থায়িভাবে অযোগ্য ঘোষণা করা হয় সে বিষয়ে ও নির্বাচন কমিশনে জোর দাবি জানাতে পারে।

 

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here