যে সকল নব্য ইসলামী চিন্তাবিদ (?) ভাইয়েরা তাবলীগ জামাতের সমালোচনা শুরু করেছেন আপনারা আপনাদের চাইতে হাজার গুণ বেশী কুরআন ও হাদীসের ইলম অর্জন করেছেন এবং আপনাদের চাইতে ইসলামের জন্য হাজার গুণ বেশী খিদমত করেছেন নিরপেক্ষ মনে তাবলীগ জামাত সম্পর্কে তাদের মতামত পড়ে দেখবেন।

এখনও একটি শতাব্দী পার হয়নি। অথচ এই অল্প সময়ের ব্যবধানে তাবলিগ জামাতের কার্যক্রম পৌঁছে গেছে পুরো পৃথিবীর আনাচে-কানাচে। বিশ্ব মানচিত্রে এমন দেশ তো নয়ই; বরং এমন ভূখ- পাওয়া দুষ্কর যেখানে ঈমানী এই নীরব আন্দোলন পৌঁছে যায়নি। এতো বিস্তৃত এবং এতে দ্রুত প্রসার লাভ করা কোনো আন্দোলনের নজির বিশ্বের ইতিহাসে দুর্লভ। এই সংক্ষিপ্ত সময়ের পথচলার এই ‘ঈমানী তাহরীক’ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বিখ্যাত আলেম, মনীষীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, তাদের সোহবত-পরামর্শ লাভে ধন্য হয়েছে। তারা স্বীয় ক্ষেত্রে কাজ করে গেলেও এই ঈমানী তাহরীকের ব্যাপারে তাদের রয়েছে প্রায়ঐক্যবদ্ধ একটি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি। আমরা কিতাব-পত্র ঘেঁটে সংক্ষিপ্তাকারে তাঁদের কিছু কথা তুলে ধরতে প্রয়াস পাব বলে আশা রাখি।

হাকীমুল উম্মত হযরত আশরাফ আলী থানবী রহ.। বিংশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ, মহান সংস্কারক, দেঙহাজারের অধিক গ্রন্থ প্রণেতা। তিনি কোনো এক প্রসঙ্গে তাবলিগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা হযরত ইলিয়াস রহ.কে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, ‘দলীলের প্রয়োজন নেই। দলীল-প্রমাণ তো কোনো কিছুর যাচাই-বাছাই ও সত্যতা প্রমাণের জন্য পেশ করা হয়। আমিতো বাস্তব ময়দানের আমল থেকেই এই মেহনতের ওপর পূর্ণ আশ্বস্ত। এখন আর কোনো দলীলের প্রয়োজন নেই। হে ইলিয়াস! মাশাআল্লাহ! তুমি তো আমার নিরাশাকে আশায়পরিণত করেছ। বদলে দিয়েছ আমার হতাশা।’ Ñহযরত মাওলানা ইলিয়াস রহ. আওর উনকী দীনী দাওয়াত, ১২৫-১২৬

শায়খ আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ বিন বায রহ.। সৌদী আরবের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতী, ইসলামী জ্ঞানের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখার প্রাজ্ঞ প-িত, বিগত শতাব্দীর বরেণ্য ইসলামী ব্যক্তিত্ব। তিনি বলেন. দাওয়াত ও তাবলীগ জামাতের মধ্যে অনেক উত্তম কাজ রয়েছে। তাদের কর্মকা-ে রয়েছে প্রচ- উদ্যম-উদ্দীপনা। তাদের ধৈর্য-সবরও অতুলনীয়। তারা তাদের দাওয়াত ও মজলিসগুলোতে নামায, যিকির, ইলম অর্জন এবং এই পথে বের হওয়ার কথা বলে। এর দ্বারা নামাযে অমনোযোগী, শরাবখোর মুসলমানদের অনেক উপকার হয়, তারা সৎপথে ফিরে আসে। ইসলামের সহীহ আকীদা-বিশ্বাসে সমৃদ্ধ আলেমরা এই পথে এগিয়েএসে তাদেরকে ইলম শিক্ষা ও হেদায়াতের পথে আনতে চেষ্টা করতে পারেন।’ Ñজামাআতুত তাবলিগ ৪৩১-৪৩৪ পৃষ্ঠায়বর্ণিত বিন বায রহ. সাক্ষাৎকার অবলম্বনে।

মাওলানা ইউসুফ বিন্নুরী রহ.। বিগত শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস। তিরমিযি শরীফের অদ্বিতীয়ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘মাআরিফুস সুনান’ -এর লেখক। জামেয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়া বিননূরী টাউন করাচীর প্রতিষ্ঠাতা। করাচী থেকে প্রকাশিত মাসিক বাইয়্যানাতের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক।
তিনি বলেন, আল্লাহর কাছে কোনো বান্দার মাকবুলিয়াতের ধারণা পাওয়া যায়তার কাজের মাধ্যমে। যেমন মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস রহ.Ñ এর মাকবুলিয়াত তো তার এই কাজেই সুস্পষ্ট। সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘কিয়ামত পর্যন্ত আমার উম্মতের একটি জামাত সবসময়সত্যের ওপর সু-প্রতিষ্ঠিত থাকবে।’ Ñতিরমিযি, হাদীস ২১৯২
আমার কাছে একথা নিশ্চিত প্রমাণিত, এই যুগে তাবলিগ জামাতই হাদীসে বর্ণিত সেই জামাত। পৃথিবীর এমন কোন ভূখ- নেই, যেখানে এই মহৎ জামাতের কদম পড়েনি। মস্কো, ফিনল্যান্ড, স্পেন থেকে শুরু করে চীন ও জাপান পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়া এই কাফেলার দাওয়াত আম্বিয়ায়ে কেরামের দাওয়াতের পদ্ধতির সাথে খুবই সাদৃশ্যপূর্ণ। লোকজন তাদের কাছে আসবে, দীন শিখবে- তাঁরা সেই অপেক্ষা করে না। বরং অলি-গলিতে গিয়ে, হাট-বাজারে পৌঁছে প্রত্যেককে দীনের দাওয়াত পৌঁছে দেয়। মুখের কথায়, আদর্শ চরিত্রের কারিশমা ও নিজেদের আমলের সৌন্দর্য দিয়ে তারা মানুষকে আহবান করে। নিজেদের মাথা থেকে পা পর্যন্ত ইসলামী আদর্শের একটি জীবন্ত নমুনা পেশ করে তারা দাওয়াত দেয়। তাই এর প্রভাবও হয় সুদূরপ্রসারী।’ Ñ১৯৭৮ ইংরেজীর ‘বাইয়্যানাত’ পত্রিকার জানুয়ারী-ফেব্রুয়ারির বিশেষ সংখ্যা ৩৭৮-৩৯১

শায়খ মুহাম্মদ ইবরাহীম তুয়াইজিরি। সৌদী আরবের বিশিষ্ট আলেম, রাবেতা আলমে ইসলামী’র কিসমুল জালিয়াত’ -এর প্রধান সমন্বয়ক। তিনি বলেন, আমি ঈমান-ইয়াকিনের এই দাওয়াতের বিভিন্ন ইজতেমা দেখেছি। কাছে থেকে তাদের কার্যক্রম নিরীক্ষা করেছি। আমার দৃঢ়বিশ্বাস, ইলমের নূর এবং ঈমানের আলো এখান থেকেই অর্জিত হয়। আমি কুরআন এর আগে শত শত বার পড়েছি। তাফসীর অধ্যয়ন করেছি। কিন্তু দাওয়াতের এই ময়দানে আমি কুরআনের এমন অসংখ্য আয়াতের অর্থ বুঝেছি, যা এর পূর্বে অনুধাবন করতে পারিনি। ঈমান-আকীদা এবং আল্লাহর মুহাব্বত-প্রেম উদ্বুদ্ধকরণে এর চাইতে কার্যকরী কোনো দাওয়াত আমি দেখিনি। আল্লাহর কসম, সত্যের প্রতি এই আমার সরল অভিব্যক্তি।’ Ñলিসানুদ দাওয়াহ ১০-১১

জাস্টিস মুফতি মুহাম্মাদ তকী উসমানী দা. বা.। পাকিস্তানের দারুল উলূম করাচী-র শায়খুল হাদীস, পাকিস্তানের সুপ্রিমকোর্টের শরীয়া আপিল বেঞ্চের সাবেক বিচারপতি। ইসলামী অর্থনীতি ও ব্যাংকিং বিষয়ে রয়েছে তার সরব পদচারণা। ইংরেজী, আরবী ও উর্দুতে কুরআন-হাদীসসহ সমসামযড়ক বিষয়ের ওপর শতাধিক গ্রন্থ ও প্রবন্ধ রচয়িতা।
আজকে পৃথিবীতে এমন কোনো মুসলমান আছে কি যে, হযরত মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস রহ. সম্পর্কে জানে না। আল্লাহ পাক তাবলিগ ও দীনের দাওয়াতের জযবাকে তার অন্তরে আগুনের মত জ্বালিয়ে দিয়েছেন। যেখানেই বসতেন, শুধু দীনের কথা বলতেন; দীনের দাওয়াত পৌঁছে দিতেন। Ñইসলাহী খুতুবাত : ৮/৫২

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here