মুফতী সাখাওয়াত হুসাইন রাযি : লেখক ও গবেষক


এক ডুবেই নাকি সেরে যাবে যে কোন রোগ। আসান হবে হাজারো মুশকিল। ভালো হয়ে যাবে যে কোন দুরারোগ্য ব্যাধি চেচুয়া বিলের পানি আর কাদা মাটি ভক্ষণ করলে। এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। পরে তা ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ফলে দূর দূরান্ত থেকে আসতে থাকে হাজারো মানুষ।

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় অবস্থিত এই চেচুয়া বিল। আগতরা বলছে এ বিলের পানি ও কাদামাটি খেলে নাকি মনের বাসনা পূরণ হয়। টিভি সাক্ষাৎকারে একজন বলছে, “ঠ্যাং লইয়া আটতারিনা, এইজন্যে মাটি খাইলাম।” আরেকজন বলছে, “আটতে পারিনা, হাত অচল। আরেকজন এসেছেন তার প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে, কেন এসেছেন জিজ্ঞেস করলে সে বলে “যদি ভালো হইয়া যাই।”

এদিকে বিলের পানি আর কাদা মাটি পান করে অসুস্থ হয়ে যায় শিশুসহ শতাধিক নারী-পুরুষ। এ খবর ছড়িয়ে পড়ে মিডিয়ায়। টনক নড়ে প্রশাসনের। কিন্তু ততক্ষণে জনতার স্রোত বইতে থাকে চতুর্দিক থেকে। উৎসুক জনতার ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় প্রশাসনকে।

যতদূর মনে পড়ে ১৯৯৭ কিংবা ৯৮তে আমাদের কুমিল্লার দাউদকান্দিতে এ ধরনের একটি গুজব ডালপালা মেলে ছিল যে, এক শিশুর পানি পড়া খেলে যে কোন রোগ ভালো হয়ে যায়। ফলে চতুর্দিক দিকে লোকজন আসতে থাকে। যতই দিন যাচ্ছিল লোকজনের ভিড় বাড়তে ছিল। দূর দূরান্ত থেকে আসা লোক গুলো ঠিকানা ঠিক মত বলতে পারতো না। তারা ড্রাইভার বা হেলপার কে বলতো, ওই যে পানি পড়া দেয় ওই গ্রামে যাব। কিছুদিন পরে বাস থেকে নামার অচেনা সেই জায়গাটা পানি পড়া স্টেশন নামে পরিচিত হয়ে যায়।

বিস্তারিত ঘটনা শোনানো আমার উদ্দেশ্য নয়। কোন এলাকায় এই ধরনের গুজব যখন ছড়িয়ে পড়ে তা ঠেকানোর দায়িত্ব কে নিবে? এ কথা বলাই আমার উদ্যেশ্য। নিঃসন্দেহে ওলামায়ে কেরামকে এই দায়িত্ব নিতে হবে। চেচুয়া বিলে শুধুমাত্র প্রশাসন কে দেখে আমি অবাক হয়েছি বিস্মিত হয়েছি। প্রশাসনের পাশাপাশি আলেমদের অবশ্যই থাকা উচিত ছিল।

কেননা এ ধরনের গুজব সাধারণ তো কোন অন্ধ বিশ্বাসের জায়গা থেকে ছড়ানো হয়। আলেমদের দায়িত্ব হচ্ছে ইসলামের আলো দিয়ে সেই অন্ধবিশ্বাসকে দূর করে দেয়া। এখানে স্রেফ জবরদস্তি করে কোন লাভ হবে না। প্রশাসন হয়তো জবরদস্তি করে তাদের কে সেখান থেকে তাড়িয়ে দিবে; কিন্তু তাদের অন্ধবিশ্বাস তাদের মধ্যে থেকেই যাবে। অন্যত্র কোথাও যখন আবার এই ধরনের গুজব শুনতে পাবে তারা সেখানে গিয়ে ভিড় জমাবে। সুতরাং আলেমরা কখনই এই দায়িত্ব এড়াতে পারে না।

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here