মুসলমানদের বর্তমান নাজুক অবস্থা ও এর কারণ সম্পর্কে দেড় হাজার বছর আগেই খবর দিয়ে গেছেন আখেরি পয়গম্বর মুহাম্মদ সা.।

রাসুল মুহাম্মদ সা. বলেছেন- “শীঘ্রই এমন একসময় আসবে, যখন এই পৃথিবীর বিভিন্ন জাতিরা একে অপরকে তোমাদের (মুসলিমদের) উপর হামলা করার জন্য আহবান করবে, যেমনিভাবে খাবার দস্তরখানে একে অপরকে আহবান করে থাকে। কেউ জিজ্ঞেস করলেন, সেই সময় কি আমরা সংখ্যায় কম থাকবো? রাসুল সা. বললেন, না। সে সময় সংখ্যায় তোমরা অনেক হবে; কিন্তু তোমরা হবে বানের জলে ভেসে আসা খড়কুটোর মতো। কেননা, শত্রুদের অন্তরে তোমাদের যে ভয় আছে আল্লাহ তাআলা তা উঠিয়ে নেবেন এবং তোমাদের অন্তরে তিনি ওহান ঢুকিয়ে দেবেন।


একজন সাহাবী জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! ওহান কি? রাসুল সা. বললেন, দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা আর মৃত্যুর প্রতি অনীহা। মৃত্যুর প্রতি অনীহা মূলত দুনিয়ার প্রতি আসক্তির কারণেই। সুতরাং দুনিয়ার ভালোবাসা কিংবা লোভই পরাজয়ের মূল কারণ। আর দুনিয়া শুধুমাত্র মালের নাম নয়; পদ ও নেতৃত্বের লোভও দুনিয়ার অন্তর্ভুক্ত।

মানুষ যেমন সম্পদের লোভ করে, তেমনি মর্যাদা ও পদের প্রতিও লোভ করে। পদমর্যাদার প্রতি লোভ কখনো সম্পদের লোভের চেয়েও ভয়াবহ হয়। এ লোভ পার্থিব বিষয় নিয়েও হতে পারে, হতে পারে দ্বীনি বিষয়েও। যেখানেই হোক, যেভাবেই হোক, এ লোভও মানুষের পতন ত্বরান্বিত করবেই।

যাক, কোন অন্যায় দেখলে আমরা মিছিল মিটিং করি, গরম বক্তৃতা দেই। শুধুমাত্র মিছিল মিটিং অন্যায় প্রতিরোধে কতটা কার্যকর তা বাস্তবতার দিকে তাকালেই বুঝা যায়। মুলত আমরা যখন আমাদের নেতা নির্বাচন করি তখনই দুনিয়ার সামান্য লোভে বড় ধরনের ভুল করে ফেলি। তাইতো এই নেতৃত্ব কোনদিন আমাদের ভাষা বুঝতে চেষ্টা করে না। এবং নেতা তার ক্ষমতা ও নেতৃত্ব রক্ষায় যা যা করার সবই করে। দেশ বিক্রি করে, ঈমান বিক্রি করে, ইসলাম বিক্রি করে। একটা সময় অবশ্য সেই নেতৃত্ব তার পরিণতি অবলোকন করে; কিন্তু তখন তার কিছুই করার থাকেনা।

আজকে মুসলিমদের জন্য দেশ ও ইসলাম প্রেমিক নেতৃত্ব বাছাইয়ে মনোযোগী হওয়া দরকার সর্বাগ্রে। না হয় উদ্বিগ্নতা, পেরেশানি, ত্যাগের মানসিকতা ও সক্ষমতা কাজে আসবে না।

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here