হযরত উমর রাঃ নিজের পরবর্তি খলীফা নির্বাচনের জন্য তৎকালীন সময়ের শ্রেষ্ঠ ছয়জন সাহাবীকেই দায়িত্ব দিয়েছিলেন ৷ শেষতক ছয়জন ঘুরে দায়িত্বটা হযরত আব্দুর রহমান বিন আউফ রাঃএর হাতে অর্পিত হয় ৷ হাদীস ও ইতিহাসের পাঠক মাত্রেরই জানা থাকার কথা, তিনি কতটা সতর্কতা ও সচেতনতার সাথে দায়িত্বটি পালন করেছিলেন ৷

মূলত খলীফা হওয়ার জন্য হযরত উসমান রাঃ এবং হযরত আলী রাঃ প্রায় সমান সম্ভাবনার পাত্র ছিলেন ৷ অন্য চারজনের চেয়ে এই দুজনের অগ্রগণ্যতা ছিল অনেকটাই স্পষ্ট ৷ তবে এই দুজনের মধ্য থেকে একজনকে বাছাই করা ছিল খুবই কঠিন ৷ আব্দুর রহমান বিন আউফ রাঃ এই কাজটি করেছিলেন সুচাররূপে ৷ মদীনার প্রতিজন আহলে রায় সাহাবীর সঙ্গে একান্তে গিয়ে গিয়ে তিনি পরামর্শ করেছেন ৷ তিনদিন পর্যন্ত রাত দিন একাকার করে তিনি কাজ সমাধা করেছেন এবং শেষ পর্যন্ত সকলের পরামর্শক্রমে তৃতীয় খলীফা হিসাবে হযরত উসমান রাঃএর নাম ঘোষণা করেন ৷

সুতরাং এ কথা দ্ব্যর্থহীনভাবে বলা যায়, যতটা যাচাই বাছাই, জনমত ও পরামর্শের আলোকে হযরত উসমান রাঃএর খেলাফত নির্বাচন হয়েছিল, খেলাফতের ইতিহাসে সেটি এক বিরল ঘটনা ৷ অধিকাংশ সাহাবী উসমান রাঃকে শেরে খোদা আলী রাঃ এর তুলনায় খেলাফত তথা নেতৃত্বের জন্য অধিক উপযুক্ত বিবেচনা করেছিলেন ৷ উসমান রাঃ সরল মানুষ ছিলেন, তাঁর নেতৃত্ব দুর্বল ছিল, এমন কথা শুধু উসমান রাঃকেই নয়, বরং সকল সাহাবীকেই অভিযোগের কাঠগড়ায় দাড় করায় ৷

দুই,
হোদায়বিয়ার উমরার সফরে মক্কাবাসীর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগে হযরত উসমানই রাঃ ছিলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শ্রেষ্ঠ অবলম্বন ৷ একাজের জন্য হযরত উমর নিজে অপারগতা প্রকাশ করে উসমান রাঃএর নাম প্রস্তাব করেছিলেন ৷

ইবনে উমর বলেন, মক্কা উপত্যকায় যদি উসমানের চেয়ে অধিক সম্মানিত কেউ থাকতেন, তাহলে নবীজী সঃ তাকেই পাঠাতেন ৷ কিন্তু কূটনৈতিক আলোচনার জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসমান রাঃ কেই নির্বাচন করেছিলেন ৷ উসমান রাঃ এর নেতৃত্বের দুর্বলতার কারণে মুনাফিকরা মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে, এমন কথা কখনই গ্রহনযোগ্য নয় ৷

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here