আল্লামা শাহ আহমদ শফী

রাশিদুল ইসলাম


মাদরাসাগুলো ঈমানের বাতিঘর। সঠিক পথের দিশারী। বাতিল শক্তিধর যখন চতুর্দিক থেকে ঈমানের উপর হানা দেয় তখন জাতির ঈমানকে হেফাজতের উদ্দেশ্য হকের দাওয়াত নিয়ে দারে দারে পৌঁছে যায় আলেমসমাজ। পরাশক্তি তখন পলায়ন করতে বাধ্য হয়। কাজেই এসমস্ত কওমী মাদরাসাকে যে কোন মূল্যে হেফাজত করতে হবে।

আগামী ১১জানুয়ারি, শনিবার হাটহাজারী মাদরাসার বার্ষিক মাহফিল ও দস্তারবন্দী সম্মেলনের সার্বিক সফলতার লক্ষে এলিট শ্রেণি (সমাজ ও প্রশাসনের বিশেষ ব্যক্তিদের) সম্মানে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও নৈশভোজে আগত মেহমানদের উদ্দেশ্যে হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক, শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ্‌ আহমদ শফী এসব কথা বলেন।

গত ২২ ডিসেম্বর শনিবার জামেয়ার দারুল হাদীস মিলনায়তনে মেহমানদের উদ্দেশ্যে আল্লামা শফী আরো বলেন, পুরো দেশ যখন কুসংস্কার, বেদআত, শিরকে ছেয়ে গিয়েছিলো তখন এসমস্ত কুপ্রথা দূরীভূত করার নিমিত্তে চার মুরুব্বী বাংলাদেশে সর্বপ্রথম হাটহাজারী মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। এ মাদরাসার মাধ্যমে মানুষের দারে দারে দ্বীনের সহি দাওয়াত পৌঁছিয়েছেন। যার ফলে এদেশের মানুষ আজ দ্বীন বুঝতে পেরেছে। দেশের আনাচে-কানাচে কওমী মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছে ও করছে। সে সমস্ত দ্বীনের বাতিঘর থেকে ঈমান ও আমল শিক্ষা অর্জন করছে।

তিনি আরো বলেন, কওমী মাদরাসাসমূহের অবদান কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। কারণ অখণ্ড ভারত থেকে ব্রিটিশকে বিতাড়িত করেছিল উলামায়ে দেওবন্দ। বিশেষ করে হুসাইন আহমদ মাদানীর ভূমিকা ছিল অতুলনীয়। অখণ্ড ভারত থেকে ব্রিটিশদের বিতাড়িত করার কারণে আমরা আজ বাংলাদেশ নামে স্বাধীন ভূখণ্ড পেয়েছি। ব্রিটিশকে বিতাড়িত না করলে পাকিস্তান জন্ম নিতো না। আর আমরা বাংলাদেশ নামে স্বাধীন দেশ ও পতাকাও পেতাম না। এ অবদান ওলামায়ে দেওবন্দের অবদান। আলেম সমাজের অবদান।

শাইখুল ইসলাম আরো বলেন, এসমস্ত কওমী মাদরাসা ঈমান ও দেশের প্রহরী। তাই কওমী মাদরাসাগুলোকে যে কোন মূল্যে রক্ষা করতে হবে। সবধরনের সার্বিক সহযোগিতায় আমাদের এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, কওমী মাদরাসাগুলো কুরবানির চামড়া বিক্রি করে বড় অংকের অর্থ সঞ্চয় করে থাকে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, জানি না কী কারণে সরকার চামড়ার দাম কমিয়ে দিয়ে ভারত সরকারের নিকট সস্তা মূল্যে বিক্রি করে দিচ্ছে। যার ফলে কওমী মাদরাসাগুলো আর্থিকভাবে অনেক দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। অথচ চামড়া এমন একটি জিনিস যা অনেক কাজেই ব্যবহৃত হয়। এর দাম এত সস্তা হওয়ার কথা নয়।

সর্বশেষ তিনি বলেন, মাদরাসা হচ্ছে আমাদের ঈমানের বাতিঘর। এসমস্ত প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করতে হবে। অন্যথায় দ্বীনের সহি দাওয়াত না থাকলে। বিজাতিদের কবলে আমাদের ঈমান ও আমল ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই সবাই কওমী মাদারেসের জন্য দু’আ করবেন। আল্লাহ তা’আলা যেন মাদরাসাগুলোকে কবুল করেন। কারণ দু’আই হল ইবাদতের মূল। আর সম্ভব হলে আপনাদের হালাল উপার্জনের মাধ্যমে মাদ্রাসাগুলোতে আর্থিক সহযোগিতা করবেন।

পরিশেষ তিনি দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে দু’আ করেন।

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here