পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি স্বম্বোধন করলাম, হে ইবরাহিম! আপনি স্বপ্নকে বাস্তব করে দেখিয়েছেন।’ এমতাবস্থায় হজরত ইসমাঈল আ. এর জায়গায় কোরবানির জন্য মহান আল্লাহ এক দুম্বা পাঠালেন।

মহান আল্লাহ আরও বলেন, ‘আমি ইসমাঈল আ. এর ফিদিয়ায় এক মহা কোরবানি বানিয়েছি।’
এ কোরবানিকে এক মহান কাজ বলেছেন এজন্য যে, এটা মহান নবির ফিদিয়া ছিল। দ্বিতীয়ত. এ জন্য যে, এ ধরনের কোরবানি কিয়ামত পর্যন্ত মহান আল্লাহ চালু করেছেন। মহান আল্লাহ হজরত ইসমাঈল আ. এর কোরবানির বদলায় দুম্বা কোরবানি করলেন। সুতরাং হজরত ইবরাহিম আ. ও হজরত ইসমাঈল আ. এর মহান আল্লাহর কৃতজ্ঞতায় আনন্দ ও খুশীর সীমা রইল না।

এখানে একটি প্রশ্ন হয়? হজরত ইবরাহিম আ. কে সন্তান জবাইয়ের হুকুম সজাগ অবস্থায় না দিয়ে কেন স্বপ্নে দেয়া হলো ? এর মাঝে কি হেকমত নিহিত ?
এ ঘটনার মূল রহস্য হলো, জবাই করা উদ্দেশ্য নয় বরং বাবা সন্তানের পরীক্ষা নেয়া। তারা কতটুকু মহান রবের নির্দেশ পালনে সোচ্চার। তাই স্পষ্ট শব্দে না বলে স্বপ্নে দেখানো হলো, হজরত ইবরাহিম আ. জবাই করছেন। যখন হজরত ইবরাহিম আ. স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছেন, তখন গায়বি আওয়াজে তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুসংবাদ দেয়া হয়। হজরত ইবরাহিম আ. স্বপ্নে জবাই শেষ করতে দেখেননি বরং জবাইয়ের জন্য তৈরী হচ্ছেন এটাই দেখেছিলেন।

তাফসিরে ইবনে কাসিরে হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাছ রা. এর রেওয়াতে বর্ণিত আছে, ঐ দুম্বার শিং ও মাথা ইসলামের প্রাথমিক যুগ পর্যন্ত বায়তুল্লাহ শরিফের মিজাবে ঝুলানো ছিল। যা ইসমাঈল আ. এর সন্তানগণ অর্থাৎ মক্কার কোরাইশগণ বরকত ও স্মৃতি হিসেবে বায়তুল্লাহ শরিফে সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন। কেউ কেউ বলেছেন, দুম্বার এ মাথা ও শিং হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের রা. এর সময় পর্যন্ত বাকি ছিল। হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফের ফেতনার সময় যখন বায়তুল্লাহ শরিফে আগুন লাগে তখন তা পুড়ে যায়।

এখানে এ সন্দেহ হতে পারে সর্বশেষ নবি হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আগ পর্যন্ত সব নবিদের কোরবানির পদ্ধতি ছিল যে, আকাশ থেকে আগুন এসে জ¦ালিয়ে দিত। তাহলে ভেড়ার এ শিং ও মাথা কিভাবে সংরক্ষিত রইল ?
তাফসিরে রুহুল বয়ানে আছে, বনি ইসরাইলের প্রথা ছিল যখন কোন কোরবানি করত তখন ঐ কোরবানির উৎকৃষ্ট অংশ জমা করে এক জায়গায় রেখে দিত। অত:পর আকাশ থেকে আগুন এসে তা জ¦ালিয়ে দিত। এর দ্বারা এটাই প্রতিয়মান হয় যে, কোরবানির পশু জ¦ালিয়ে দেয়ার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কোরবানির উৎকৃষ্ট অংশগুলো জ¦ালিয়ে দেয়া। শিং,মাথা, ক্ষুর ইত্যাদি অবশিষ্ট থাকা এটাই স্বাভাবিক।

বহু সাধনার পর বৃদ্ধ বয়সে জন্ম নেয়া কলিজার টুকরা, নাড়ীছেড়া ধনের জবাইয়ের পরীক্ষায় হজরত ইবরাহিম আ. পাহাড়ের ন্যায় দৃঢ়পদে অতিক্রম করেছেন। এ পরীক্ষা ছিল ইবরাহিম আ. এর জন্য বচেয়ে বড়, বিপদজনক ও শেষ পরীক্ষা। এ পরীক্ষায় তিনি অত্যন্ত দৃঢ়পদে পার হয়েছেন। এর পূর্বে তিনি নিজের বাবা, আত্মীয়-স্বজন নিজ দেশ ছেড়ে নিজের বহু সম্পদ একমাত্র আল্লাহর জন্য বিসর্জন দিয়ে এসেছেন। নিজের জীবনকেও উৎসর্গ করেছেন, আগুনে নিক্ষেপ করে দেখিয়েছেন আমার জীবন, আমার মুত্যু সব আল্লাহর জন্য।(সূত্র : বই, কুরবানী: মুফতি জাকারিয়া হারুন)

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here