আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, আর তোমরা আল্লাহকে স্মরণ কর (আইয়ামে তাশরীকের) নির্দিষ্ট দিনগুলোতে।’ সূরা বাকারা আয়াত ২০৩

একাধিক সাহাবা-তাবেয়ীন থেকে প্রমাণিত আছে যে, তারা নয় তারিখ আরাফার দিন ফজর থেকে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত তাকবির পড়তেন। তন্মধ্যে হলেন, ওমর ইবনুল খাত্তাব রা., আলি ইবনে আবি তালিব রা., আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. যুহরী রহ., মাকহুল রহ., সুফিয়ান সাওরীসহ প্রমুখ সাহাবা ও তাবেয়ীগণ।
তাকবীরে তাশরীকের জন্য বিভিন্ন শব্দ হাদীসে উল্লেখ হয়েছে। তন্মধ্যে সর্বোত্তম ও সর্বজনবিদিত পাঠ হল,

الله اكبر الله اكبر لا اله الاالله و الله اكبر الله اكبر و لله الحمد

উচ্চারণ : ‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লালাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ ‘

অর্থ : আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান; আল্লাহ মহান, আল্লাহ ব্যতিত কোনো উপাস্য নেই; সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আল্লাহ মহান। এলাউস সুনান ৮/১৫৬; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪৫৮

কখন পড়বেন : ৯ জিলহজ শুক্রবার ফজর নামাজের পর থেকে ১৩ জিলহজ আসরের নামাজ পর্যন্ত মোট ২৩ ওয়াক্ত নামাজের পর উপর্যুক্ত কালেমা পড়বে।

হজরত ইবনে আব্বাস রা. আরাফার দিন তথা ৯ ই জিলহজের ফজর থেকে ১৩ ই জিলহজ আসর নামাজ পর্যন্ত তাকবিরে তাশরিক পড়বে। সুনানে বায়হাকি হাদিস নং-৬০৭১,মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা,হাদিস নং-৫৬৮১

কারা পড়বেন : প্রত্যেক পুরুষ, মহিলা, মুকিম, মুসাফির, গ্রামবাসী, শহরবাসী, জামাতের সঙ্গে নামাজ পড়ুক বা একাকী পড়ুক প্রত্যেকের ওপর একবার করে তাকবিরে তাশরিক পাঠ করা কর্তব্য। ফতোয়ায়ে শামি, বাহরুর রায়েক

তাকবিরে তাশরিক পড়ার পটভূমি

বুখারি শরিফের ব্যাখ্যাকার আল্লামা বদরুদ্দিন আইনি (রহ.) বলেন, যখন হজরত ইবরাহিম (আ.) স্বীয় পুত্র ইসমাঈল (আ.)-কে জবাইয়ের উদ্দেশ্যে গলায় ছুরি রাখলেন, এদিকে আল্লাহর নির্দেশে হজরত জিবরাঈল (আ.) আসমান থেকে একটি দুম্বা নিয়ে দুনিয়ায় আগমন করছিলেন। কিন্তু জিবরাঈল (আ.)-এর আশঙ্কা ছিল, তিনি দুনিয়াতে পৌঁছার আগেই ইবরাহিম (আ.) জবাইপর্ব সমাপ্ত করে বসবেন। ফলে তিনি আসমান থেকে উঁচু আওয়াজে বলে উঠলেন : ‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার।’ ইবরাহিম (আ.) আওয়াজ শুনে আসমানের দিকে নজর ফেরাতেই দেখতে পেলেন জিবরাঈল (আ.) একটি দুম্বা নিয়ে আগমন করছেন। ফলে তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে বলে উঠলেন : ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবর।’ পিতার কণ্ঠে এই কালিমা শুনতেই ইসমাঈল (আ.) উচ্চারণ করলেন : ‘আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।’ একজন ফেরেশতা আর দুজন প্রিয় নবীর এ বাক্যমালা আল্লাহর খুব পছন্দ হয়। তাই কিয়ামত পর্যন্ত এই বাক্যমালা আইয়ামে তাশরিকে প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর পড়াকে ওয়াজিব করে দিয়েছেন। (ফাতাওয়ায়ে শামি : ২/১৭৮, ইনায়া শরহুল হিদায়া : ১/৪৬৪)

(সূত্র : বই, কুরবানী ; মুফতি জাকারিয়া হারুন)

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here