যমযম ডেস্ক: তাতাররা বিভিন্ন ঘটনার সম্মুখীন হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছে। কেউবা ইসলামের সঠিক মর্ম উপলদ্ধি করে ইসলাম গ্রহণ করেছে। হাফেয ইবনু হাজার আসক্বালানী (রহঃ) উল্লেখ করেন, শায়খ জামালুদ্দীন ইবরাহীম জনসম্মুখে বলেন, আমি হালাকু ও তার সন্তান আবাকের অর্থমন্ত্রী সুনজাকের নিকট উপস্থিত ছিলাম। সে মোঙ্গল থেকে খৃষ্টান ধর্ম গ্রহণ করেছিল।

ঘটনাটি আবগার শাসনামলের প্রথম দিকের। আমরা তখন তার তাঁবুতে ছিলাম। তার নিকটে একদল তাতার নেতা ও একদল খৃষ্টান ধর্মযাজকও ছিল। এটা ছিল ঘন কুয়াশাপূর্ণ দিন। এক অভিশপ্ত খৃষ্টান বলল, ‘মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিসের দাওয়াত দিতেন। তিনি তো ক্ষুধার্ত মানুষের মাঝে অবস্থান করতেন। তিনি তাদেরকে ধন-সম্পদ দিতেন এবং সে বিষয়ে বিরাগী করতেন। আর এভাবেই তাদেরকে নিজের দলে টেনে নিতেন’। এভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তুচ্ছ করে বক্তব্য দিতে থাকে। সেখানে একটি শিকারী কুকুর ছিল। যাকে স্বর্ণের শিকল দ্বারা বেঁধে রাখা হয়েছিল। সেটি সুনজাকের খুব আস্থাভাজন ছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে খৃষ্টান লোকটির কটূক্তি শুনে কুকুরটি দাঁড়িয়ে গেল এবং শিকল ছিঁড়ে তার উপর হামলা করল। সে তাকে খামচিয়ে জখম করে দিল। এ অবস্থায় সে তাকে ধরে শৃংখলাবদ্ধ করল।

তখন উপস্থিত কিছু লোক বলল, এটা তোমার মুহাম্মাদ সম্পর্কে কটূক্তি করার ফল। সে বলল, তোমাদের ধারণা ভুল। বরং কুকুরটি খুবই চতুর। সে আমাকে দেখে বুঝতে পেরেছিল যে আমি তাকে মারব। তখন সে আমার উপর হামলা করে। এরপর সে আবার মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে কটূক্তি করে বক্তব্য শুরু করে। এরই মধ্যে কুকুরটি আবার শিকল ছিঁড়ে তার উপর হামলা করে। অতঃপর কুকুরটি তার শ্বাসনালী কামড়ে ছিঁড়ে ফেলে। এতে অভিশপ্ত নাছারা মারা যায়। ঘটনাটি মুখে মুখে জনসমাজে ছড়িয়ে পড়ে। এতে চল্লিশ হাজার তাতার ইসলাম গ্রহণ করে। (হাফেয ইবনু হাজার আসক্বালানী, আদ-দুরারুল কামিনা ফী আ‘য়ানিল মিয়াতিছ ছামিনা ৪/১৫৩; যাহাবী, মু‘জামুশ শুয়ূখিল কাবীর ২/৫৬-৫৭; শায়খ আবু মু‘আবিয়া বায়রূতী বলেন,  ঘটনাটির বর্ণনা সূত্র ছহীহ, আরশীফ মুলতাকা আহলিল হাদীছ ১৪৭/৩৩৫)

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here