রাজনীতি

মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাযি


কোন কাজের ধরন ও তার কর্তার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য জেনে নিলেই সে কাজ সম্পর্কে সহজেই দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা যায়। এর জন্য অতিমাত্রায় গবেষক হওয়ার প্রয়োজন হয় না। তবে হ্যাঁ, যে কাজের ধরন ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্য শরীয়ত কেন্দ্রিক নয় সে কাজ নিয়ে গবেষণা করলে বিপত্তি বাড়বে বৈ কমবে না। কেননা, ওই কাজ তাকে ধীরে ধীরে কুফর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে পারে। মূল কথায় ফিরে যাই।

বাংলাদেশের প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর কাজের ধরন ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্য আমাদের কাছে একেবারেই পরিষ্কার এবং তারা গঠনতন্ত্র প্রকাশ ও প্রচারের মাধ্যমে এই বিষয়টি পরিষ্কার ভাবেই জাতির সামনে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন। তাতেও যদি কারো বুঝে না আসে তাহলে উভয় দলের শাসনামল বিচার বিশ্লেষণ করলেই আশা করি তাদের কাজের ধরন ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে যাবে।

কাজেই কোন দলে যুক্ত হবার আগে তাদের কাজের ধরন ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্য কতটা শরীয়ত সম্মত বা তারা শরীয়তের বিধি-বিধান বাস্তবায়ন করতে কতটা অঙ্গীকারাবদ্ধ তা নিয়ে ভাবতে হবে। কেননা একজন আলেম শরীয়ত সম্মত কাজ করবেন, ব্যক্তি সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে শরীয়তের বিধি-বিধান বাস্তবায়ন করবেন বলেই তিনি আলেম। দু’চারটা কিতাব বা দাওরার সনদ নিয়ে বসে থাকলেই তাকে আলেম বলা যাবে না। বরং তাকে অসৎ আলেম বলতে হবে কিংবা দুনিয়াদার আলেম।

একটা বিষয়ের প্রতি আমাদের অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যে, ফরজ বিধান শুধুমাত্র নামাজ রোজার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নামাজ রোজার বাহিরেও আরো অনেক ফরজ বিধান আছে। কিছু ফরজ বিধান এমন আছে যেগুলো কায়েম করার জন্য রাষ্ট্রব্যবস্থা অনুকূলে থাকা প্রয়োজন। মূলনীতি হচ্ছে- যে কাজ ফরজ সে কাজের জন্য চেষ্টা করাও ফরজ। যেহেতু রাষ্ট্রব্যবস্থা ছাড়া শরীয়তের অনেক ফরজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় সেহেতু রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য চেষ্টা করাও ফরজ। যাকে আমরা বলে থাকি খেলাফত ব্যবস্থা।

রাষ্ট্রব্যবস্থার মাধ্যমে ইসলামের যে সমস্ত বিধি-বিধান বাস্তবায়ন করা যাবে, প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলো রাষ্ট্র ক্ষমতায় গিয়ে সেগুলো বাস্তবায়ন করবেন এমন কথা মোটেও বলেন না; বরং যদি কোন ইসলামী দল তা বাস্তবায়ন করতে চায় তো তারা এক্ষেত্রে তাগুতের ভূমিকা পালন করে। যদিও কোন কোন রাজনৈতিক দল কোন কোন ক্ষেত্রে সহায়তার আশ্বাস দেয়। আর এই জন্যই আলেম-ওলামারা তাদের সঙ্গে জোট কিংবা মিত্রের কথা বলে থাকেন।

একবার ভেবে দেখুন! তা সত্ত্বেও আপনি কি করে প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোতে যুক্ত হতে পারেন।
প্রশ্ন হতে পারে, তাহলে জোট করা কি করে যুক্তিসঙ্গত হয়? দেখুন! কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আরেক রাজনৈতিক দলের যখন জোট হয়, তখন প্রত্যেকটি দল তার নীতি ও আদর্শের উপরই থাকে। কিন্তু যদি সরাসরি কোন দলের সঙ্গে যুক্ত হয়, তো সে যতটাই নীতি আদর্শের উপর থাকুক না কেন বাহ্যিকভাবে তাকে সেই দলের আদর্শ মেনে নিয়েছে বলে ধরা হয়। কেনই বা ধরা হবে না, যখন তার দ্বারা সে দলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে।

কেউ কেউ মনে করে থাকেন, যে দলই হোক না কেন সমস্যা কি! সংসদে গিয়ে ইসলামের পক্ষে কথা বলতে পারলেই হল। আমি মনে করি, তারা বর্তমান রাজনীতি ও পার্লামেন্ট ব্যবস্থা সম্পর্কে অবগত নয়, যার জন্যই এ ধরনের কথা বলছে। হয়তো দু’চারটা কথা বলতে পারবে কিন্তু এর প্রভাব কতটা পড়বে সেটা ওয়াকিফহাল মহল ভালো করেই জানেন। আর যে ব্যক্তি নিজের আদর্শ নীতি বিসর্জন দিয়ে দিবে সে তো নিজেকে রক্ষা করতে পারলো না, দেশ-জাতিকে কিভাবে রক্ষা করবে?!

তাহলে সাধারণ মানুষ কি প্রচলিত রাজনীতি করতে পারবে? আসলে সাধারণ মানুষ সাধারণত বস্তুবাদী চিন্তা থেকে কাজকর্ম করে থাকে এবং তারা ইলমে নববীর ওয়ারিশ নয় বিধায় প্রথম দফাতেই তাদেরকে সম্বোধন করা যাচ্ছে না। তবে মুসলিম হিসেবে প্রত্যেকটা ব্যক্তিরই উচিত ইসলামী বিধি-বিধান বাস্তবায়নের জন্য কাজ করা, যারা ইসলামী বিধি-বিধান বাস্তবায়ন করতে চায় তাদেরকে সহযোগিতা করা, যাদের দ্বারা ইসলামের ক্ষতি হয় তাদের সঙ্গ ত্যাগ করা এবং প্রয়োজনে ইসলাম বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মুখর হওয়া।

আর আমরা লক্ষ করলে দেখতে পাবো যে, সাধারণ মানুষের অনেকেই যারা বিবেকসম্পন্ন তারা প্রচলিত রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিয়ে সমালোচনা করে এবং অনেক ক্ষেত্রে ঘৃণা করতে বাধ্য হয়। সে ক্ষেত্রে জাতির রাহবর একজন আলেম কি করে প্রচলিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে?

 

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here