নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ওবায়দুল কাদের। ছবি: ইত্তেফাক

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি এ নির্বাচনে আমরা জিতবো। বিজয়ের মাসে নৌকা বিজয়ের বন্দরে পৌঁছবে এবং বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকার গঠন করবে। আজ সারাদেশে নির্বাচনের শান্তিময় ও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। বিনা বাধায় জনগণ নির্বাচনে ভোট দিতে আসবে। কাজেই জয়ের ব্যাপারে আমাদের কোনো সন্দেহ নেই।’

শনিবার সকাল ১১টার দিকে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বিভিন্ন রকম প্রচার-প্রচারণা চলছে নির্বাচনে সহিংসতা হতে পারে কি-না? এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে এ ধরনের আশঙ্কা-শঙ্কা বহুবছর ধরেই নির্বাচনের আগে হয়েছিল। তবে সহিংস কথাটা ছিল না। শঙ্কা ছিল নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি-না। আশঙ্কা-শঙ্কা সবসময়ই থাকবে। তবে শেষ ভালো যার, সব ভালো তার। যেবার বেশি শঙ্কা থাকে, সেবার অনেক বেশি শান্তিময় ও সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। মেঘ থাকে, কিন্তু শেষ মুহূর্তে মেঘ কেটে যায়। আমার মনে হয় ইশান কোণে কালো মেঘের যে আনাগোনা ছিল, সেটা অনেকটাই কেটে গেছে। আশা করি বাকিটাও কেটে যাবে।

দলীয় সরকারের অধীনে সরকারের অধীনে নির্বাচন হচ্ছে- এমন এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর সব গণতান্ত্রিক দেশে এভাবেই নির্বাচন হয়। দলীয় সরকারের সহযোগিতায় অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের মতো এ দেশেও নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন হচ্ছে, সরকারের অধীনে নয়। নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ, প্রশংসনীয়, গ্রহণযোগ্য ও অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে কর্তৃত্বপূর্ণ, স্বাধীন, নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনে সহযোগিতা করছে বর্তমান সরকার। অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যে রকম নির্বাচন হয়, ঠিক সেভাবেই সরকার সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

নির্বাচন কমিশন যে ভূমিকা পালন করছে, তাতে আপনারা সন্তুষ্ট কি না? এ প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা মোটামুটি সন্তুষ্ট। তবে নির্বাচন কমিশনের মাঝে ভিন্নমত থাকতে পারে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তো জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ নয়। নিরাপত্তা পরিষদের কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গেলে ৫ সদস্যকে ঐকমত্য পৌঁছতে হয়। একজন ভিন্নমত পোষণ করলে সিদ্ধান্তটা আটকে যায়। আমাদের নির্বাচন কমিশন তো নিরাপত্তা পরিষদ নয়। কমিশনের মাত্র একজন ভিন্নমত পোষণ করলেও অন্য চারজনের সংখ্যাগরিষ্ঠতায় কোনো সিদ্ধান্ত আটকে যেতে পারে না। সেদিক থেকে আমি মনে করি সঠিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট বলেছে, ভোট কেন্দ্র পাহারা দেবে। আপনারাও বলছেন, ভোটকেন্দ্র পাহারা দেবেন- এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাহারা কথাটা কোথা থেকে এসেছে? যেখানে ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নিয়োজিত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং তাদের সাথে সেনাবাহিনীরও সহযোগী ভূমিকা পালন করছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রথম বিএনপি-ঐক্যফ্রন্ট থেকে বলা হয়েছে, তারা ভোট কেন্দ্র পাহারা দেবে। তখন ভোটকেন্দ্রে লাঠিসোঁটা নিয়ে পাহারা দিবে এমন একটা মন্তব্যও তো তারা করেছে। সে কারণে আমাদের দল থেকে আমি বলেছিলাম, ঠিক আছে। তারা যদি ভোটকেন্দ্র লাঠিসোঁটা নিয়ে পাহারা দিতে আসে, তাহলে আমরাও একটা পক্ষ। আমাদেরও দায়িত্ব আছে, ভোটকেন্দ্রে শৃঙ্খলা রক্ষার। আমরাও ভোটকেন্দ্র রক্ষা করতে কেন্দ্রে থাকবো। জনগণ যেন শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদে ভোট কেন্দ্রে আসতে পারে এবং নিশ্চিন্তে ভোট প্রদান করতে পারে, সে জন্য আমাদেরও একটা দায়িত্ব আছে। যখন কেউ প্রচণ্ডভাবে থ্রেড করে যে লাঠিসোঁটা নিয়ে নির্বাচন কেন্দ্র পাহারা দেবে, তখন সে মুহূর্তে কেন্দ্রে যদি শৃঙ্খলা না থাকে তাহলে মানুষ কিভাবে ভোট দেবে? সে জন্যই আমরাও ভোট রক্ষা করতে এবং জনগণ যেন নিরাপদে যাকে খুশি তাকে ভোট দিতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সাথে আমরাও সহযোগিতা করবো।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-৪ আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী এমপি, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহিন, নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র শহিদ উল্যা খান সোহেল, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল মমিন বিএসসি, সাংগঠনিক সম্পাদক সামছুদ্দিন সেলিম, সদস্য মাহমুদুর রহমান জাবেদ, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আতাউর রহমান নাছের ও শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু প্রমুখ।

 

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here