বেশ কয়েকবার বক্তব্যের মধ্যে কান্নাকাটি করে আলোচিত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কুমিল্লায় এক দলীয় প্রার্থীর জন্য ভোট চাইতে গিয়েও কেঁদে ফেললেন, তার আবেগ দেখে কেঁদে ফেললেন নেতাকর্মীরাও।

বুধবার বিকালে কুমিল্লার সুয়াগাজী পুরাতন হেলিপ্যাড মাঠে কারাবন্দি নেতা মনিরুল হক চৌধুরীর পক্ষে নির্বাচনী সভায় আবেগ প্রবণ হয়ে ওঠেন বিএনপি মহাসচিব।

মনিরুলের মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক চৌধুরী সায়মা ফেরদৌসকে পাশে রেখে তার এই কান্না ছুঁয়ে যায় মাঠের নেতাকর্মীদের, তাদের অনেককে কাঁদতে দেখা যায়।

কান্না জড়িত কণ্ঠে মির্জা ফখরুল বলেন, “এই যে আমার মেয়ে শাম্মী। এতো কথা বলেছে কার জন্যে? তার তো আজকে জনসভায় কথা বলার কথা নয়। সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা, তার গবেষণা করার কথা, ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ানোর কথা। বাবার জন্য ছুটে বেড়াচ্ছে।

“আমি আজকে আপনাদের সকলের কাছে একটা করে ভোট ভিক্ষা চাইব। আমার হৃদয়ের বন্ধু মনিরুল হক চৌধুরী মুক্তির জন্য একটা ভোট ভিক্ষা চাচ্ছি, আমি একটা ভোট ভিক্ষা চাচ্ছি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য, আমি ভোট চাচ্ছি কারাবন্দি নেতা গফুর ভুঁইয়া ও মোবাশ্বের আলী ভুঁইয়ার মুক্তির জন্য।”

সমবেতদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনাদের যে ভাইরা এখানে সামনে যে ছোট ছোট ছেলেরা দাঁড়িয়ে আছে তাদের মধ্যে অনেকে ঢাকায় রিকশা চালায়। এদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তারা পালিয়ে থাকে। হকারি করে তারা। এটা কি আমাদের স্বাধীনতার আশা-আকাঙ্ক্ষা, এটা কি স্বপ্ন? আমাদের স্বাধীনতার সমস্ত স্বপ্নকে চুরমার করে খান খান করে দিয়েছে এই আওয়ামী লীগ।”

“এই মাটি আমাদের, এই দেশ আমাদের, এখানে সবাই থাকব। ভোট দেব ৩০ ডিসেম্বর, ধানের শীষে ভোট দিয়ে মনিরুল হক চৌধুরীকে বিজয়ী করে আপনাকে এখান থেকে বিদায় করব।”

“আমি এই মঞ্চ থেকে আহবান জানাতে চাই, আপনি কার কাছে দাবি জানাবেন? এদের তো কানে মোহর দিয়ে দিয়েছে আল্লাহ। এরা কিছু শুনতে পায় না, বধির। এদের বুকের মধ্যে কোনো দয়া-মায়া নেই, মানুষের জন্য মন কাঁদে না। আমি বলছি, এখানে লাখো মানুষ অনুরোধ জানাচ্ছে দয়া করে আপনি অনশন ভঙ্গ করুন, এদেশের মানুষের জন্য আপনি বেঁচে থাকুন।”

প্রকাশ্য সভায় মির্জা ফখরুলের কান্নার শুরু নেতাকর্মীদের অনেকের এই পরিস্থিতির বর্ণনার মধ্য দিয়ে। ২০১৬ সালের অগাস্টে ঢাকায় এক আলোচনা সভায় ওই কথা বলার এক পর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বিএনপি মহাসচিব।

এরপর ঢাকা ও নিজের এলাকা ঠাকুরগাঁওয়ে একাধিক জনসভায় কেঁদেছেন ফখরুল। সর্বশেষ গত ১২ ডিসেম্বর নিজের আসনে নির্বাচনী সভায় ভোট চাইতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন তিনি।

এর আগে কোথাও মঞ্চের অন্য কোনো নেতাকে ফখরুলের সঙ্গে কাঁদতে দেখা যায়নি। এদিন প্রার্থী মনিরুলের মেয়ে চৌধুরী সায়মাও তার সঙ্গে কাঁদতে থাকেন।

পরে কাঁদতে কাঁদতে চৌধুরী সায়মা সভায় বলেন, “আমার বাবা মনিরুল হক চৌধুরীকে অন্যায়ভাবে কারাগারে নেওয়া হয়েছে। ৩০ তারিখ এর জবাব দিতে হবে ধানের শীষে ভোট দিয়ে। কুমিল্লার ছেলেরা মার খাচ্ছে তাদের মুক্তির দাবিতে সবাই ঐক্যবদ্ধ হোন।
“৩০ তারিখ একসঙ্গে ভোট দিতে প্রস্তুতি নিন। আমি আপনাদের পাশে থাকব।”

 

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here