“ওয়াজ মাহফিল বন্ধ ও আল্লামা মামুনুল হকসহ আলেমদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র দেশের জন্য শুভ লক্ষণ নয়।” আজ সোমবার ইত্তেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া মুহাম্মদপুরের নেতৃবৃন্দ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলেন।
ইত্তেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া মুহাম্মদপুরের বৈঠকে নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি, বেশ কিছুদিন ধরে ইসলাম বিদ্বেষী একটি মহল দেশের মধ্যে অরাজকতা সৃষ্টির জন্য বাংলাদেশের সর্বজনশ্রদ্ধেয় দুই মহান ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব মরহুম শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক ও মরহুম সৈয়দ ফজলুল করিম পীর সাহেব চরমোনাই এর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ ও জঘন্য কটূক্তি করে যাচ্ছে। অথচ এ মহান দুই ব্যক্তির স্বাধীনতা সংগ্রামে ভূমিকা রয়েছে। দেশ ও ইসলাম বিরোধী সকল ষড়যন্ত্রের মোকাবেলায় তাদের অবদান চির স্মরণীয়। সুতরাং যারা এই দুই মহান ব্যক্তির নামে কুৎসা রটনা করে দেশে সাম্প্রদায়িক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পায়তারা করে যাচ্ছে। তাদের বিষয়ে সরকারকে দ্রুত প্রদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় যে কোনো অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে এর দায় দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা ঈমানের সাথে সাংঘর্ষিক। প্রত্যেক নবী ও রাসূল ভাষ্কর্য ও মূর্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন। একজন মুসলিম হিসেবে আমরাও ভাস্কর্য বা মূর্তির বিষয়ে কথা বলছি। সরকারের কল্যাণকামী হিসেবে ভাস্কর্য বা মূর্তির বিষয়ে আলেম উলামারা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। কিন্তু এ ঈমানী দায়িত্বকে একটি গোষ্ঠী অন্যখাতে প্রবাহিত করতে আল্লামা মামুনুল হকসহ ইসলামী ব্যক্তিদের ওয়াজ মাহফিল বন্ধ করে দিচ্ছে এবং সরকারদলীয় অংগ সংগঠনরে নেতৃবৃন্দ আলেম উলামা বিশেষ করে আল্লামা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে লাগামহীন, অসন্মাজনক ও উস্কানীমূলক বক্তব দিয়ে যাচ্ছে। যা দেশের জন্য শুভ লক্ষণ নয়। সুতরাং এধরণের বক্তব্য ও অপতৎপরতা বন্ধে সরকারকে দ্রুত প্রদক্ষেপ নিতে হবে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা মূর্তির বিরুদ্ধে কথা বলেই যাবে। এটা আমাদের ঈমানী দায়িত্ব। আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানরে বিরোধী নই। তিনি বাংলাদেশের স্থপতি ও একজন মুসলিম নেতা হিসেবে আমরা তার রুহের মাগফিরাত কামনা করি। সুতরাং একে কেন্দ্র করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের পরিণত ভালো বয়ে আনবে না।
আজ সকালে মুহাম্মদপুরে জামিয়া মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়ার প্রিন্সিপাল আল্লামা আবুল কালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘ইত্তেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া মুহাম্মদপুরের এর বৈঠকে নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।
বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন, জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার প্রিন্সিপাল মাওলানা মাহফুজুল হক, জামিয়া ইসলামিয়া লালমাটিয়ার প্রিন্সিপাল মাওলানা ফারুক আহমাদ, জামিয়া ইসলামিয়া বায়তুল ফালাহ এর প্রিন্সিপাল মাওলানা মুহাম্মদ তালহা, জামিআ ইসলামীয়া আশরাফুল মাদারিস এর মুহতামিম মাওলানা মুহাম্মদ ইসমাঈল, জামিয়া ওয়াহিদিয়া এর প্রিন্সিপাল মাওলানা যোবায়ের, জামিআ রাহমানিয়ার শিক্ষা সচিব মাওলানা আশরাফুজ্জামান, জমিআ ইসলামীয়া বায়তুল ফালাহ এর ভাইস প্রিন্সিপাল ও শিক্ষাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, জামিয়া মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়ার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা মোহাম্মাদ ফয়সাল, বাইতুল আমান আদাবরহ এর প্রিন্সিপাল মুফতি মাহমুদুর রহমান, আদাবর আহসানুল উলূম মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আমির হোসেন, বায়তুল জান্নাতের মুহতামিম মুফতি ফারুক হোসাইন, আন নূর নৈশ মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা জুবায়ের মাজাহিরি, মাওলানা অলিউল্লাহ, মাওলানা মোবারক হোসেন, মুফতি মাসিহুর রহমানসহ ইত্তেফাকের নেতৃবৃন্দ।
-প্রেস বিজ্ঞপ্তি

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here