রাসূল মুহাম্মদ সা. এর অনুপম জীবনাদর্শ প্রচারের জন্য গঠিত ‘রহমাতুল্লিল আলামীন ফাউন্ডেশনের রহমাতুল্লিল আলামীন কনফারেন্স প্রশাসনের বাধায় পন্ড হয়ে গিয়েছে।

ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে কনফারেন্স করতে না পেরে বাইতুল মোকাররম উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেই ফিরে যেতে হয় নবীপ্রেমিকদের। ব্যাহত হয় জাতীয় প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ সহ শিক্ষামূলক নানা আয়োজন।

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এসেও কনফারেন্সে যোগ দিতে পারেনি প্রধান অতিথি আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী । আসতে পারেননি বিশেষ অতিথি বৃন্দ। প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা সরকারের এহেন কর্মকান্ডে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান!

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে মুফতী সাখাওয়াত হুসাইন রাজীর সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি আমিনী রহ. এর জামাতা মাওলানা জুবায়ের আহমাদ, মাওলানা আব্দুল লতিফ ফারুকী, হেফাজতে ইসলামের ত্রাণবিষয়ক সম্পাদক, মুফতি গাজী ইয়াকুব; মুফতি জোনায়েদ কাসেমী ; মুফতি লুৎফর রহমান ফরায়েজী; মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফী; মুফতি রাফি বিন মনির ; মুফতি আহসান শরিফ; মুফতি রিজওয়ান রফিকী, মাওলানা বেলাল হোসাইন, মুফতি শফিক সাদী, প্রমুখ।

মুফতি জাকারিয়া মাহমুদের সঞ্চালনায় বক্তারা সংক্ষিপ্তভাবে নবীজীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং সরকারের এহেন কর্মকান্ডে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

মাওলানা মামুনুল হক বলেন, রাসূল সা. কা’বা ঘর থেকে হযরত ইব্রাহিম আঃ এর মূর্তি ভেঙ্গে ছিলেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নিকট আবেদন, আপনিও রাসূলে কারিম স:এর অনুসরণ করবেন৷
তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলাম ধর্মীয় সংগঠন৷ এদেশের আলেমদের মন মানসিকতা ও চেতনার সংগঠন৷ সুতরাং এদের দীনী প্রোগ্রামগুলোতে সরকার বাধা দিতে পারবেন না৷
সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনার মন মর্জি মোতাবেক হেফাজত চলবে না৷ আমরা সতর্ক করতে চাই,
সাম্প্রতিককালে সরকারের প্রতিটি ভূমিকা, আচরণ, পদক্ষেপ এদেশের মুসলিম জনতার বিপক্ষে দেখা গেছে৷ মুসলিমদের স্বপক্ষে আপনার মতামতের অনুপস্থিতি সকলের দৃষ্টিতেই পড়েছে৷

এর ধারাবাহিকতা যদি টিকে থাকে৷ আপনার নিকট থেকে যদি স্পষ্ট বক্তব্য না পাওয়া যায়৷ এবং মুসলমানদের কর্মসূচী, প্রোগ্রাম ও ঈমানী আন্দোলনে প্রশাসন বাধা দিতে থাকে, তবে এদেশের জনগণ আপনাকে সবদিক থেকে বয়কট করবে, জাতীয় নির্বাচনেও জনগণ বয়কট করবে৷
সর্বশেষ কথা, এদেশের ইসলাম বিদ্বেষী শক্তিকে রুখে দিন৷ নচেত এদের ঘাড় মটকে দেয়া হবে৷

মুফতী সাখাওয়াত হুসাইন হুসাইন রাজী বলেন, আমাদের এই কনফারেন্স কোন বিদ্বেষের কনফারেন্স ছিল না। রহমতের বার্তা পৌছে দেয়াই ছিল আমাদের উদ্দেশ্য।

তিনি আরো বলেন, যে বা যারা বিরোধ উস্কে দিয়ে লড়াই এর পরিবেশ তৈরী করে দিচ্ছে, তাদের খুজে বের করতে হবে। আর না হয় আমাদের লড়াই হবে এবং এই লড়াইয়ে যারাই প্রতিপক্ষ হবে তাদের সাথে লড়াই হবে। বাধা হবে যেখানে লড়াই হবে সেখানে।

তিনি সারাদেশে রহমাতুল্লিল আলামীন কনফারেন্স করার ঘোষণা দেন।

প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here