সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন নিখোঁজ কাসেমীর বাবা

নিখোঁজের ১৪ দিন পরও কোন খোঁজ মিলেনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তরুণ আলেম মুফতী মিজানুর রহমান কাসেমীর। তার সন্ধান পেতে সংবাদ সম্মেলন করেছে পরিবার। সোমবার দুপুরে জেলার প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

মিজানুর রহমান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের শরীফপুর কান্দাপাড়া গ্রামের জনাব আবদুল ওয়াহাবের ছেলে। তিনি ভারতের দেওবন্দ মাদ্রাসা থেকে মুফতী এবং হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে তাকমিল ও মোফাচ্ছের কোর্স সম্পন্ন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নিখোঁজ মিজানুর রহমান কাসেমীর ভায়রা ভাই বলেন, ১ সেপ্টেম্বর দুপুর আড়াইটায় স্ত্রীকে মোবাইল ফোনে মিজানুর রহমান জানান, চট্টগ্রাম হয়ে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া আসছেন। এরপর পৌনে ৫টার দিকে শওকত নামে এক বন্ধুকে মিজানুর রহমান ফোন করে জানান, তাকে চারজন অপরিচিত লোক আটক করে অবান্তর কথাবার্তা বলছে। বিষয়টি শওকত মিজানুর রহমানের স্ত্রীকে জানান। এরপর তার সাথে আর কোন যোগাযোগ করা যায়নি।

এ ব্যাপারে পরদিন হাটহাজারী থানায় মিজানুর রহমানের আরেক বন্ধু মো. নাছির উদ্দিন একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। থানা পুলিশ তার মোবাইল ট্র্যাকিং করে দেখতে পান তিনি সিলেটের জকিগঞ্জের রতনগঞ্জ বাজার এলাকায় আছেন। পরে সেখানকার থানা পুলিশ সম্ভাব্য কয়েকটি স্পটে তল্লাশি করে তার সন্ধান পায়নি। এবং এছাড়া প্রশাসন আর কোন ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন পরিবার।

এরই মধ্যে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি মিজানুর রহমানের মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে পরিবারের কাছে ৪ লাখ টাকা দাবি করেন।

লিখিত বক্তব্য শেষে মুফতি মাওলনা কাসেমীর বাবা অশ্রুঝরা চোখে বলেন, আমার ছেলে ১৪ দিন যাবৎ নিখোঁজ। আপনারা পত্রিকায় লিখে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর করিয়ে আমার ছেলেকে খোঁজে বের করার জন্য হাত জোর করে অনুরোধ করছি।

সংবাদ সম্মেলনে মিজানুর রহমানের বৃদ্ধ বাবা আব্দুল ওয়াহাব, শ্বশুর এরশাদুল হক, বড়ভাই রফিকুল ইসলাম রতন মাস্টার, ভায়রা ভাই সায়েম সোহেল, হাফেজ মাওলানা ইদ্রিস, মুফতী মুহাম্মদ এনামুল হাসান, মুফতী যোবায়ের সাইফুল্লাহ, মুফতী মাকবুল, মাওলানা সৈয়দ কাসেম, মাওলানা আশরাফুল ইসলাম, মাওলানা বেলায়েতুল্লাহ সুফী, মাওলানা ফজলুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here