ভাইরাল ভিডিও ক্লিপ থেকে প্রধান শিক্ষকের ছবি

নগরীর পতেঙ্গা এলাকার মাইজপাড়া মাহমুদুন্নবী চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়া ফাতেমা ইসমা। সে বিদ্যালয়ে বোরকা পড়ে গেলে তাকে বাজে মন্তব্য করে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে দেয়নি প্রধান শিক্ষক এম এ কাশেম। পরেরদিন ছাত্রীর মা নুপুর বেগম অনুমতির জন্য প্রধান শিক্ষকের কক্ষে গেলে, মারমুখি আচরণ করে রুম থেকে তাকে বের দেন ওই শিক্ষক। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। গত ২০ নভেম্বর বিকেল ৩ টার সময় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, ছাত্রীর মা নুপুর বেগম প্রধান শিক্ষকের কাছে বোরকা পরার অনুমতি চাইলে, প্রধান শিক্ষক আলোচনা করে দেখতে হবে বলেন। এরপর ওই শিক্ষক আবার বলেন, গতকাল আসছেন, আজকে আবার কেনো আসছেন? উত্তরে অভিভাবক কিছু বলতেই উত্তেজিত হয়ে অভিভাবকের দিকে তেড়ে আসেন প্রধান শিক্ষক এম এ কাশেম।

ঘটনার সময় ছাত্রীর অভিভাবকের সাথে থাকা মায়া বীনি ইসলাম কলি বলেন, আমি প্রথমদিন যাইনি। তবে আন্টি বাসায় এসে খুব কান্নাকাটি করছিলেন। কেননা প্রধান শিক্ষক বোরকা পড়া নিয়ে ওনার সাথে বাজে ব্যবহার করেছেন। এছাড়াও ওইদিন প্রধান শিক্ষক ইসমার বোরকা পড়া নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। সামনে ইসমার পরীক্ষা। আবার যদি কোনো ঝামেলা করে, তাই দ্বিতীয়দিন আমিসহ বিদ্যালয়ে যাই। সকাল ৯টার দিকে আমরা বিদ্যালয়ে পৌঁছি। প্রধান শিক্ষক অফিসে আসার পর আমরা অনুমতি সাপেক্ষে কক্ষে প্রবেশ করি। তখন বোরকার প্রসঙ্গ তুলতেই তিনি আমাদের গালাগাল করেন। আমি ভিডিও করছি দেখে বিদ্যালয়ের দপ্তরি, শিক্ষক ও ম্যাডামরা এসে আমার মোবাইল কেড়ে নেন।

এরমধ্যে আমি ভিডিওটি অন্যজায়গায় পাঠিয়ে দিই। তারা নিজ হাতে আমার মোবাইল থেকে ভিডিও ডিলেট করে দেন। তারপর তারা আমাদের সাথে যাচ্ছেতাই ব্যবহার করেন। এমনকি প্রধান শিক্ষক আমাদের জঙ্গী, বেশ্যা-পতিতা বলেও মন্তব্য করেন। বারবার গায়ে হাত তোলার জন্য তেড়ে আসেন তিনি।

কলি আরো বলেন, এ প্রধান শিক্ষক শুধু আমাদের সাথে না। পূর্বেও অনেক অভিভাবকের সাথে বাজে ব্যবহার করেছে। এ বিষয়ে পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে অভিযোগ করেও আমলে নেন না। তাই দিনদিন বেপরোয়া হয়ে উঠছেন ওই শিক্ষক।

সামাজিক সংগঠন পতেঙ্গা ইয়াংস্টার ক্লাবের সভাপতি জোবাইর বলেন, মেয়েটি বোরকা পড়ে স্কুলে যেত। মাঝে প্রধান শিক্ষক আপত্তি করায় স্কুল গেট পর্যন্ত বোরকা পরত, তারপর ক্লাস শেষ করে আবার স্কুল গেটে এসে বোরকা পরে বাড়ি ফিরত। এভাবে বেশ কিছুদিন অতিবাহিত হয়। একদিন মেয়েটি পরিবারে বিষয়টি জানালে তার মা অনুমতির জন্য বিদ্যলয়ের প্রধানশিক্ষকের কাছে যান। তখন প্রধান শিক্ষক বোরকা যারা পড়ে তারা বেশ্যা ও পতিতাবৃত্তি করে বলে মন্তব্য করেন। এছাড়াও প্রচন্ড বাজে ব্যবহার করে তাদের স্কুল থেকে বের করে দেয়া হয়। দ্বিতীয়দিন আবারো প্রধানশিক্ষকের কাছে গেলে তিনি কেমন ব্যবহার করেছেন, তা ভিডিওতে স্পষ্ট।

তিনি আরো বলেন, গতকাল ঘটনাটি নিয়ে জানতে কয়েকজন সাংবাদিক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করলে তাদের নাজেহাল করে আটকে রাখেন প্রধান শিক্ষকসহ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আলী। এছাড়া তারা সিপ্লাস টিভির রিপোর্টার সাইদুল রহমান সাকিবকে লাঞ্চিত করে এবং তার সাথে দুর্ব্যবহার করে তার ক্যামেরা ভেঙ্গে ফেলে। এরপর বেশ কয়েকটি নাম্বার থেকে ফোন আসার পর আমি স্কুলে যাই। আমি যাওয়ার পর সাংবাদিক ও অভিভাবকদের বের করে আনি।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক এম এ কাশেমের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে সিএনজি অটোরিকশায় উঠে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে স্থানীয় সংসদ সদস্য এম এ লতিফ সিপ্লাসকে বলেন, আমাদের দেশে স্কুলে বোরখা পড়ার মধ্যে কোন বাধ্যবাধকতা নেই। কোন শিক্ষক শিক্ষার্থীকে বোরখা পড়তে মানা করতে পারেন না। এ বিষয় নিয়ে যদি কোন শিক্ষক অভিভাবকদের সাথে দুর্ব্যবহার করে তাহলে সেটা অবশ্যই দুঃখজনক। বিষয়টি আমি দেখব। (cplusbd.net)

 

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here