মুফতী সাখাওয়াত হোসাইন রাজী


নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো ভারতে। সাধারণ হিন্দুরাও যোগ দিচ্ছে বিক্ষোভে। জমিয়তে উলামা ও কংগ্রেস সহ নানা ভারতপ্রেমী সংগঠন বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে দেশব্যাপী। কারণ এই আইন শুধু মুসলিম বিরোধী নয়; ভারতের সংবিধান বিরোধী, রাষ্ট্র বিরোধী। এই আইনের মাধ্যমে ভারতকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে এক স্থায়ী সংঘাতের দিকে।

১৪৪ ভেঙে বিক্ষোভ করেছে দেওবন্দের ছাত্ররাও। কেননা ভারতে মুসলিম অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে এ লড়াইয়ের কোনো বিকল্প নেই।

এদিকে বিক্ষোভ ঠেকাতে আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়, মণিপুরের একাধিক জায়গায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে শহীদ হয়েছেন অন্তত ৫ জন। পরিস্থিতি বিবেচনায় পৃথিবীর অনেক দেশ মোদি সরকারের বৈষম্যমূলক ও জাতিবিদ্বেষী এ আইনের বিরোধিতা করে বক্তৃতা বিবৃতি দিয়েছে। ভারতের উত্তরপূর্ব রাজ্যগুলিতে ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও ফ্রান্স।

চুপ করে বসে আছি কেবল আমরা! আমরা বাংলাদেশীরা। অথচ ভারতের এই আইনের কারণে শুধু ভারতের মুসলিমরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে এমন নয়; বাংলাদেশের স্বাধীনতাও বিপন্ন হতে পারে। উগ্রবাদী মোদি সরকারের মনোভাব ও বক্তৃতা-বিবৃতি থেকে বিষয়টি সহজেই বুঝে আসছে। কিন্তু তারপরও আমরা চুপ।

বিশেষ করে নিজেদের অধীনে থাকা কাশ্মীরিদের উপর বর্বরতা শুরু করার পর বাংলাদেশকে উগ্র হিন্দুত্ববাদের আগ্রাসন থেকে নিরাপদ মনে করা কিছুতেই বুদ্ধিমান ও দেশপ্রেমিকের কাজ হতে পারে না।

(ফেসবুক স্ট্যাটাস)

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here